advertisement
advertisement

আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরি

মাওলানা এমএ চৌধুরী
১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯ ০০:০৯
পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেন, ‘এবং তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিভক্ত হয়ো না। আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর সেই অনুগ্রহ স্মরণ করো যখন তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে, তখন তিনি তোমার হৃদয় প্রীতির বাঁধনে বেঁধে দিলেন এবং তোমরা তারই অপার অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়ে গেলে। আর তোমরা এক অগ্নিকু-ের কিনারায় ছিলে, তিনি তোমাদের তা থেকে রক্ষা করলেন। এভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য তার আয়াতগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যেন তোমরা হিদায়াত লাভ করো’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১০৩)। এই আয়াত অনুসারে আমরা যদি জীবন পরিচালনা করি, তা হলে আমাদের মাঝে আজ যে মতভেদ, পরস্পর বিভক্তি, তা দূর হবে। আমাদের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত থাকবে। জাতীয় ও ধর্মীয় ঐক্য সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে। আর এই ঐক্য-ই আমাদের এক উম্মতে পরিণত হওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করবে, যার ফলে আমরা এক শক্তিশালী জাতিতে পরিণত হতে পারব। আর এর জন্য আমাদের আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে মহানবী (সা.)-এর পরিপূর্ণ অনুসরণ করা, তার শিক্ষানুসারে চলা। কেননা আল্লাহতায়ালার নির্দেশÑ ‘তুমি বলো, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস, তা হলে তোমরা আমার অনুসরণ করো। (এমনটি হলে) আল্লাহও তোমাদের ভালোবাসবেন’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৩১)। এই নির্দেশ অনুসারে মহানবীর (সা.) আনুগত্য ছাড়া আল্লাহর ভালোবাসা লাভ হতে পারে না। মহানবী (সা.)-এর তিরোধানের পর খেলাফতে রাশেদাই হচ্ছে আল্লাহর সেই মজবুত রজ্জু, যার মাঝে ধর্মীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা নিহিত। হজরত আবু দারদ (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমার পরে আবু বকর ও উমরের অনুসরণ করো। কেননা তারা দুজন খোদার সেই দীর্ঘ রজ্জু, যে এই দুজনকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, সে যেন এমন এক হাতল ধরেছে, যা ভাঙার নয়’ (তফসির দুররে মনসুর, প্রথম খ-, পৃষ্ঠা : ৫৮৪)। কাজেই আকাশ থেকে নেমে আসা এই খোদার রজ্জু হচ্ছে প্রথমে নবুয়ত আর পরবর্তী সময়ে খেলাফত, যা মানবজাতির জন্য একটি বিপ্লব সৃষ্টিকারী, অনুসরণীয় ও ঐতিহাসিক যুগের সূচনা করে। অতএব ৬১০ সনে যখন আল্লাহতায়ালা আরবের মরুভূমি এবং অনুর্বর উপত্যকার শহর পবিত্র মক্কায় হজরত খাতামান্নাবিঈন (সা.)-এর মাধ্যমে ইসলামের বীজ বপন করেন। আরব জাতি হিংস্র জন্তুর মতো স্বভাব, নৈতিকতাবিবর্জিত এবং সর্বপ্রকার ঘৃণ্য আচার-আচরণ ও নির্লজ্জতা নিয়ে গৌরবকারী, দাম্ভিক ও বিদ্রোহী মনোভাবসম্পন্ন জাতি ছিল, যে কারণে সে যুগের সংস্কৃতিশীল ও শক্তিশালী দুটি বড় সাম্রাজ্য অর্থাৎ ইরান ও রোম তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের নিজেদের অধীনস্ত রাখাও পছন্দ করত না। যখন এই অসভ্য ও বর্বর জাতি মহানবী (সা.)-এর মতো পবিত্রকারী ও সম্মানিত রাসুলের আঁচল ধরে, তার দাসত্ব বরণ করে এবং খোদার রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে, তখন তাদের জীবনাচার পাল্টে যায়। তারা অসভ্য থেকে মানুষ এবং মানুষ থেকে উন্নত স্বভাব-চরিত্রের অধিকারী মানুষ আর উত্তম স্বভাবের মানুষ থেকে খোদাপ্রেমী মানুষে পরিণত হয়। মহানবী (সা.) দুই যুগে উম্মতে মুহাম্মদিয়ার মাঝে নবুয়তের পদ্ধতিতে খেলাফত প্রতিষ্ঠার সুসংবাদ প্রদান করেছেন। এর মধ্যবর্তী যুগে জাগতিক রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। অতএব প্রথম যুগের খেলাফত হজরত আবু বকর (রা.)-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মহানবী (সা.)-এর আরেকটি ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে ‘আল খিলাফাতু সালাসুনা সুন্নাতুন’ (মেশকাত, পৃষ্ঠা : ৪৩৬), অর্থাৎ খেলাফত ৩০ বছর পর্যন্ত কায়েম থাকবে। ৩০ বছর পর ৪০ হিজরিতে হজরত আলী করিমুল্লাহ ওয়াজহাহুর শাহাদতের মাধ্যমে খেলাফতে রাশেদার এই কল্যাণময় ধারা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এরপর ৪১ হিজরিতে হজরত আমির মুয়াবিয়ার (রা.) মাধ্যমে বনু উমাইয়্যার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৩২ হিজরিতে মারওয়ান সানির পর আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ বিন সুফফাহর মাধ্যমে বনু আব্বাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়, যার ধারা ৬৫৬ হিজরিতে ‘আল মুতাসিম বিল্লাহ’র শাসনামলে সমাপ্ত হয়। যখনই ঐশী খেলাফতের রজ্জু থেকে মুসলমানরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন থেকেই তাদের উন্নতির ধারা বন্ধ হতে থাকে। তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং পরস্পর বিভক্ত না হয়ে মহানবীর (সা.) শিক্ষার ওপর আমল করে জীবন পরিচালনা করতে হবে। য় মাওলানা এমএ চৌধুরী : সাবেক খতিব ও ইসলামি চিন্তাবিদ