advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

পলাশ মানসিক ভারসাম্যহীন

১৫ মার্চ ২০১৯ ০১:৩৩
আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯ ১১:২৯

বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজ ‘ময়ূরপঙ্খি’ ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী পলাশ আহমেদ ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন; ছিনতাইয়ের হুমকি প্রদানকালে তার ব্যবহৃত পিস্তলটি ছিল প্লাস্টিকের তৈরি একটি খেলনা। গত বুধবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা একটি তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এ কাণ্ডে নিরাপত্তাকর্মীদেরও গাফিলতি ছিল উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। খবর বিশ্বস্ত সূত্রের। ময়ূরপঙ্খি ছিনতাইচেষ্টার ঘটনায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মোকাব্বির হোসেনের নেতৃত্বে। কমিটি বুধবার তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেছে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হকের কাছে। প্রতিবেদনের তথ্যাদি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মহিবুল হক অবশ্য বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, প্রতিবেদনে কী আছে, তা দেখে বলতে হবে। এর সঙ্গে যোগ করেন, প্রতিবেদনের বিষয়ে পরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ময়ূরপঙ্খির উড্ডয়নের পর পরই যাত্রী পলাশ আহমেদ ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। পরে কমান্ডো অভিযানে তিনি নিহত হন; অবসান ঘটে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির। এ ঘটনার পরই আলোচনায় আসে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টি। সত্যিকার বা খেলনা যা-ই হোক, পিস্তল নিয়ে কী করে একজন যাত্রী বিমানে উঠলেন? এমন প্রশ্ন তোলা হয়। বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ অবস্থার মধ্যেই বিমান মন্ত্রণালয় পুরো ঘটনা তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষও অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান চালায়। এর পরই সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তায় অবহেলার অভিযোগে ৫ নিরাপত্তাকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং একজনকে প্রত্যাহার করে।

বুধবার বিমান সচিবের কাছে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনেও ওই নিরাপত্তাকর্মীদের নিরাপত্তায় অবহেলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পলাশ আহমেদের কাছ থেকে উদ্ধার করা পিস্তলটির ব্যালিস্টিক পরীক্ষা করে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ উল্লেখ করেছে, সেটি ছিল খেলনা। প্লাস্টিকের তৈরি। বিমান ছিনতাইচেষ্টার ঘটনার রাতেই সিএমপির পুলিশ কমিশনার মাহবুবর রহমান আমাদের সময়কে বলেছিলেন ছিনতাইচেষ্টায় ব্যবহৃত পিস্তলটি খেলনা। যদিও ঘটনার দিন উড়োজাহাজটির কয়েকজন যাত্রী বলেছিলেন, কমান্ডো অভিযানে নিহত যুবক পিস্তল হাতে তাদের হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ২ রাউন্ড গুলিও করেছিলেন।

খেলনা পিস্তল নিয়ে বিমানবন্দরের সব নিরাপত্তা ধাপ পেরিয়ে পলাশ আহমেদ উড়োজাহাজে আরোহণ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে তাই বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে একগুচ্ছ সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরে কর্তব্যরত সংস্থাগুলোর কর্মকা- সমন্বয় করতে একটি স্টান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়ন; শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরের ভেতরে স্থাপিত ব্যক্তিমালিকানাধীন যেসব দোকান নিরাপত্তার জন্য হুমকি, সেগুলো অপসারণ; শাহজালালসহ সব বিমানবন্দরে কর্তব্যরত আর্চওয়ে অপারেটর, লাগেজ স্ক্যানিং অপারেটরদের দায়িত্ব পালনে সবসময় অধিকতর সজাগ থাকা এবং এ ব্যাপারে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিমানবন্দরগুলোর সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। তবে শাহজালাল বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপিত আর্চওয়ে এবং লাগেজ স্ক্যানার মেশিনে কোনো ত্রুটি নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে এতে।

এদিকে বিমান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক গতকাল শাহজালাল বিমানবন্দর পরিদর্শনকালে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে স্থাপিত ব্যক্তিমালিকানাধীন যেসব দোকান নিরাপত্তায় ঝুঁকি তা উচ্ছেদ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনেও বিশেষ করে শাহজালাল বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে স্থাপিত বেশকিছু দোকানকে নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।