advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

পাঁচ মিনিটের দেরি বাঁচিয়ে দিল তামিম-মুশফিকদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক
১৬ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০১৯ ০০:৫০

নিউজিল্যান্ডের মাঠে ভাগ্যকে সঙ্গে পায়নি বাংলাদেশ দল। তবে মাঠের বাইরে ভাগ্য সঙ্গে থাকায় বড় বাঁচা বেঁচে গেছে টাইগাররা। ক্রাইস্টচার্চের কাছেই আল নুর মসজিদে গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে সন্ত্রাসী হামলা হয়। পাঁচ মিনিট আগে বাংলাদেশ দল সেখানে নামাজ আদায় করতে গেলে হয়তো ক্ষতির সম্মুখীন হতেন মুশফিক-তামিমরা। ওই ৫ মিনিট আগে পৌঁছলে তারা মসজিদের ভেতরে থাকতেন। বাকিটা কল্পনা করতেই বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠছে।

বাসের ভেতরে চরম আতঙ্ক। বাইরে ক্রমাগত গোলাগুলির শব্দ। একটু মাথা উঁচু করলেই অবারিত বনানী ছাড়িয়ে দৃষ্টি চলে যায় আল নুর মসজিদে। রক্ত-চিৎকার-আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। বারুদের গন্ধে দম আটকে আসার মতোই পরিস্থিতি। বাংলাদেশের দেশের ক্রিকেটাররা এমন কোনোদিন দেখেননি! বাসের ভেতরে অনেকে কাঁদছেন।

আর আট-দশটা সকালের মতোই ছিল ক্রাইস্টচার্চ। ১৬ মার্চ তৃতীয় টেস্ট ম্যাচ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অধিনায়ক হিসেবে সংবাদ সম্মেলন করবেন। এ ছাড়া দলের সবাই হ্যাগলি ওভালে এসে উপস্থিত। নামাজের পর হবে অনুশীলন। লিটন দাস ও নাঈম হাসান হোটেলে অবসর সময় কাটান। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে জুমার নামাজ।

সংবাদ সম্মেলনের আগে টিম মিটিং ও সংবাদ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে হতে ১টা বেজে ৪০ মিনিট হয়ে যায়। হ্যাগলি ওভালের কাছেই মসজিদ। বাসযোগে স্টেডিয়ামের কাছে চলে যান ক্রিকেটাররা। নামাজ আদায়ের জন্য ক্রিকেটাররা বাস থেকে নেমে যেতে থাকেন। একেবারে মসজিদের কাছাকাছি আসতেই এক বৃদ্ধ নারী এসে জানান, ‘তোমরা যেও না। গোলাগুলি হচ্ছে।’

শুভাকাক্সক্ষী সেই নারী এ কথাগুলো বলেই মাটিতে পড়ে যান। ক্রিকেটাররা অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে কথাগুলো শুনে বিহ্বল হয়ে পড়েন। একটা ভীতি তাদের জাপটে ধরে। ভয় আর আতঙ্কে মসজিদের দিকে না গিয়ে ফিরে উঠে বসেন বাসে। পুরো শহরে এ খবর ছড়িয়ে পড়েছে। নিউজিল্যান্ডের পুলিশ সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়। ক্রিকেটাররা ওই বাসের ভেতরেই বসে ছিলেন।

কোনো লিয়াজোঁ অফিসার ও পুলিশ বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তায় ছিলেন না। ফলে আতঙ্ক বাড়তে থাকে। আতঙ্কিত ক্রিকেটাররা বাসে বসে থাকার হ্যাগলি পার্কে প্রবেশ করাকে শ্রেয় মনে করেন। পার্কের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে স্টেডিয়ামে ফেরত আসেন। বাংলাদেশ থেকে সিরিজ কাভার করতে যাওয়া এক সাংবাদিক বলেন, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সংবাদ সম্মেলন আজ দেরিতে শেষ না হলে সর্বনাশ হয়ে যেত।

মুশফিকুর রহিম পার্কের ভেতর দিয়ে হাঁটছিলেন আর কাঁদছিলেন। তামিম বলছিলেন, টেস্ট খেলার প্রশ্নই আসে না। আমরা দেশে ফিরে যাব। পরে মুশফিকুর রহিম টুইট করেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্! ক্রাইস্টচার্চে হামলার ঘটনা থেকে আল্লাহ আজ আমাদের বাঁচিয়ে দিলেন। আমরা অনেক বেশি ভাগ্যবান। কখনই এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে চাই না। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করে তামিম ইকবাল নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘পুরো দল গোলাগুলির হাত থেকে বেঁচে গেল। খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’ শান্তির দেশের সূচকে নিউজিল্যান্ড বিশ্বর‌্যাংকিংয়ে দ্বিতীয়। আইসল্যান্ডের পরেই তাদের অবস্থান। সেখানেই সন্ত্রাসী হামলায় শান্তির পায়রা গুলিবিদ্ধ হলো।

টেস্ট স্থগিত : ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি ওভালে ১৬ মার্চ ভোর ৪টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল নিউজিল্যান্ড-বাংলাদেশের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। স্টেডিয়ামের কাছেই আল নুর মসজিদে গতকাল স্মরণকালের ভয়াবহ বন্দুক হামলায় নিহত হন প্রাথমিকভাবে ৪৯ জন। বাংলাদেশ দলের সেখানে জুমার নামাজ আদায় করার কথা ছিল। এমন পরিস্থিতিতে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড তৃতীয় টেস্ট ম্যাচ স্থগিত করেছে।

আজ রাত ১০টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ঢাকায় ফেরার কথা নিশ্চিত করেছেন ট্যুর ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট। ১৯ জনের বহর। একসঙ্গে এতজনের টিকিট নিশ্চিত করা কঠিন ব্যাপারই। তবে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে করে আজ রাতেই ফিরে আসছে দল। নিউজিল্যান্ডের সময় দুপুর ১২টায় রওনা হবে দল। খালেদ মাসুদ পাইলট বলেছেন, কাল দুপুর ১২টায় (আজ) আমরা রওনা দেব। আশা করি ঢাকায় পৌঁছে যাব রাত ১০টা ৪০ মিনিটে। আমরা ১৯ জনই ফিরব।

কোচিং স্টাফদের কেউ যাবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজে, কয়েকজন যাবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। উল্লেখ্য, তিন টেস্টের সিরিজ ছিল। নিউজিল্যান্ড ২-০ তে এগিয়ে। এ টেস্ট ম্যাচের জন্য সব প্রস্তুতি টাইগাররা নিয়েছিল। শ্রীলংকার ক্রিকেটাররা অবশ্য ২০০৯ সালের মার্চে লাহোরে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়। সেবার সন্ত্রাসী হামলার লক্ষ্য ছিল ক্রিকেটাররা।