advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিলেন হোসনে আরা

লোকমান হোসেন,বিশ্বনাথ (সিলেট)
১৬ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০১৯ ১১:২৭

দুই দশকের বেশি সময় ধরে নিউজিল্যান্ডে বসবাস করে আসছিলেন ফরিদ উদ্দিন ও হোসনে আরা দম্পতি। হোমিও চিকিৎসক ফরিদ পক্ষঘাতগ্রস্ত। তাকে হুইলচেয়ারে করে জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে নিয়ে যান হোসনে আরা। এর পর তিনি যান পার্শ্ববর্তী নারীদের মসজিদে। হঠাৎ মুহুর্মুহু গুলি আর মুসল্লিদের আর্তচিৎকার।

অসুস্থ স্বামীকে বাঁচাতে ছুটে যান দিশেহারা স্ত্রী। স্বামী রক্ষা পেলেও ঘাতকের গুলিতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান হোসনে আরা (৪২)। ফরিদ উদ্দিনের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর মিরেরচর গ্রামে। হোসনে আরার বাবার বাড়ি গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের জাঙ্গালহাটা গ্রামে।

১৯৯৪ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। তিনি স্বামী ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে নিউজিল্যান্ডে বসবাস করে আসছিলেন। শিপা বেগম (১৩) নামে তাদের একটি মেয়ে আছে। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তারা বাংলাদেশে এসেছিলেন বলে তাদের পারিবারিক সূত্র জানায়। জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের মধ্যাঞ্চল ও শহরতলী লিনউডের দুই মসজিদে হামলা চালায় এক বন্দুকধারী। এ সময় একটি মসজিদে ছিলেন ফরিদ উদ্দিন। আর পার্শ্ববর্তী নারীদের মসজিদে ছিলেন হোসনে আরা।

পেশায় হোমিও চিকিৎসক ফরিদ প্যারালাইজড হওয়ায় তাকে হুইলচেয়ারে করে মসজিদে নিয়ে যান হোসনে আরা। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর পুরুষদের মসজিদের ভেতরে গুলাগুলির শব্দ শুনে স্বামীকে বাঁচাতে ছুটে যান তিনি। এ সময় বন্দুকধারী তাকে গুলি করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। একটি সূত্র জানায়, মসজিদের বাইরে গুলির শব্দ শোনার সঙ্গে সঙ্গে কয়েক মুসল্লি হুইলচেয়ারে করে ফরিদ উদ্দিনকে মসজিদ থেকে বের করে নেওয়ায় তিনি বেঁচে গেছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহত হোসনে আরার স্বামীর বাড়ি বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের উত্তর মিরেরচর গ্রামে সরেজমিন গেলে কথা হয় ফরিদ উদ্দিনের বড় ভাই মঈন উদ্দিনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল) জুমার নামাজ পড়েই মর্মান্তিক ঘটনাটি শুনতে পারি। হোসনে আরার নিহত হওয়ার খবর শুনে শোকে বিহব্বল হয়ে পড়েছি আমরা। ফরিদের সঙ্গে আমার ছেলের কথা হয়েছে। ও অক্ষত আছে।’ শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নিউজিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চের আল নুর ও লিনউড মসজিদে বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৪৯ জন নিহত হন। আহত হন আরও ৪৮ জন। নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন বাংলাদেশি রয়েছেন। গুলিবিদ্ধ আরও চার বাংলাদেশিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে খবর রয়েছে।