advertisement
advertisement

সামাদ ছিলেন আল নুর মসজিদের মুয়াজ্জিন

আখতারুজ্জামান,নাগেশ্বরী ও নজরুল মৃধা,রংপুর
১৬ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০১৯ ১১:১০

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে বন্দুকধারীদের হামলায় তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের একজন ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. আবদুুস সামাদ বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভূঁইয়া।

তবে কুড়িগ্রামে থাকা ড. সামাদের বড় ছেলে জানিয়েছেন, তারা এমন খবর গণমাধ্যমে জানলেও বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেননি। এ নিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন তারা।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মধুরহাইল্যা গ্রামের জামাল উদ্দিন সরকারের বড় ছেলে ড. আবদুুস সামাদ। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষক ড. আবদুস সামাদ ২০১৩ সালে চাকরি ছেড়ে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ চলে যান। সেখানে স্ত্রী ও তিন ছেলেসহ নাগরিকত্ব নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এ সময় তিনি আল নুর মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরে বড় ছেলে তোহান মোহাম্মদ দেশে ফিরে এলে অন্য দুই ছেলে তারেক, তানভির ও স্ত্রী কেশোয়ারা সুলতানাকে নিয়ে ক্রাইস্টচার্চেই থাকতেন ড. সামাদ।

তোহান মোহাম্মদ জানান, দুদিন আগে বাবার সঙ্গে তার পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছিল। আজ (শুক্রবার) তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আল নূর মসজিদে হামলার কথা জানতে পেরে নিউজিল্যান্ডে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মা জানান, ঘটনার পর পরই তিনি ছুটে গেছেন হাসপাতালে। কিন্তু পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের বলেছে, গুরুতর আহতদের চিকিৎসা চলছে। পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো কিছুই প্রকাশ করবে না। তাই তারা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না ড. সামাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে।

আমাদের সময়ের নিজস্ব প্রতিবেদক (কুড়িগ্রাম) মোল্লা হারুন উর রশীদ জানান, ড. সামাদের ভাই নাগেশ্বরী কলেজের প্রভাষক সামছুজ্জামান বলেন, আমার ভাই চাকরি ছেড়ে পরিবার নিয়ে ক্রাইস্টচার্চ থাকেন। গণমাধ্যম থেকে তার মৃত্যুর খবর জানলেও আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আল ইমরান বলেন, ড. সামাদের বাড়িতে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তারা ওনার মারা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করতে পারেনি।

যেখানে হামলা হয়েছে, সেখানে ড. সামাদকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জেনেছেন। ড. সামাদ ময়মনসিংহে বৃহত্তর রংপুর সমিতির সভাপতি ছিলেন। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক একেএম জাকির হোসেন বলেন, স্যার আমাদের সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। মাঝে মধ্যে যোগাযোগ হতো। বিদেশের মাটিতে তিনি এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন, এটা কল্পনা করতেই কষ্ট হচ্ছে।

ড. সামাদের আরেক ছাত্র রংপুর কৃষিতথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা আবু সায়েম বলেন, আমরা একজন গুণী শিক্ষককে হারালাম। স্যার আমাদের বন্ধুর মতো ছিলেন। সদা হাস্যোজ্জ্বল প্রিয় শিক্ষক সন্ত্রসীদের গুলিতে নিহত হবেনÑ এটা ভাবতেও পারছি না।