advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

চুড়িহাট্টা থেকে আনা বোতলের বিস্ফোরণে ছাই বাবুলবাগ বস্তি

ইউসুফ সোহেল
২২ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৯ ০০:০৯
advertisement

পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় এবং মিরপুরের ভাসানটেকের আবুলের বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের রেশ না কাটতেই রাজধানীর তেজগাঁও রেললাইনসংলগ্ন নাখালপাড়ার বাবুলবাগ বাজার বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে পুড়ে গেছে ২০টি হতদরিদ্র পরিবারের আবাস।

গত বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে শুরু হওয়া এ অগ্নিকাণ্ডে কোনো মানুষ হতাহত না হলেও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে শতাধিক রেসার কবুতর ও হাসলি মোরগ; ভষ্ম হয়ে গেছে ২০ পরিবারের আসবাব, টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ সব মালামাল। ভুক্তভোগী অর্ধশতাধিক মানুষ এখন খোলা আকাশের নিচে দিনযাপন করছেন।

বস্তিবাসীর অভিযোগ, এ অগ্নিকাণ্ডের জন্য চকবাজারের চুড়িহাট্টার দাহ্য রাসায়নিকই দায়ী। সেখান থেকে আনা সুগন্ধির প্রায় ৫ হাজার বোতল বিস্ফোরিত হয়ে এ আগুনের সূত্রপাত। বোতলগুলো গ্রেনেডের মতো ছড়িয়ে যাওয়ায় পুড়ে গেছে বস্তিঘরগুলো।

বুধবার সন্ধ্যায় এসব নকল পারফিউমের বোতল এনেছিলেন ফারুক নামে স্থানীয় এক ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী। তিনি বোতলগুলো পোড়াতে গেলে অগ্নিকা- ঘটে। এর পর চুড়িহাট্টার মতো বাবুলবাগ বাজার বস্তিতেও মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ফারুক।

গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বাবুলবাগ বস্তিসংলগ্ন সড়কের পাশে ফারুকের ভাঙাড়ি দোকান। এর পাশে সিক্সটিন মিডিয়া নামে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির একটি দোকান রয়েছে।

সেই দোকানের কর্ণধার ফয়সাল আহমেদ গতকাল দুপুরে আমাদের সময়কে বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় একটি পিকআপভ্যানে করে হাজার হাজার পারফিউমের বোতল নিয়ে আসেন ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী ফারুক। কোথা থেকে এনেছেন? এমন প্রশ্নে ফারুক বলেছিলেন-সরকার পুরান ঢাকায় কোনো কেমিক্যাল রাখবে না, তাই সেখানকার ব্যবসায়ীরা গোডাউনে রাখা বিদেশি নানা ব্র্যান্ডের পারফিউম বিক্রি করে দিচ্ছেন। গর্দার (উচ্ছিষ্ট মালামাল) দামে পাওয়ায় অন্যদের মতো ফারুকও এক গাড়ি বোতল নিয়ে এসেছেন।

ফয়সাল জানান, আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফারুক ও তার ছেলে আক্তার দোকানের বাইরে খোলা মাঠে পারফিউমের বোতলগুলো একত্রিত করে তাতে আগুন দিতেই সেগুলো গ্রেনেড বিস্ফোরণের মতো শব্দ করে বিস্ফোরিত হয়ে চারদিকে ছুটতে থাকে। প্রথমে সেনাকল্যাণ সংস্থার ওয়াসার গোডাউন ঘরে (টিনের) আঘাত হানে। একপর্যায়ে পারফিউমের জলন্ত বোতল ছুটে গিয়ে আঘাত হানে বস্তির ঘরগুলোতে। মুহূর্তেই সেখানকার ২০টি ঘরে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় বস্তির সব আবাস। আগুনে কেউ হতাহত না হলেও পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে নুরে আলমের শতাধিক দামি কবুতর ও মুরগি। সেগুলোর দাম কমপক্ষে ৭ লাখ টাকা বলে জানান তিনি।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত জলছাদের শ্রমিক আমেনা, গৃহকর্মী মরিয়ম, চটপটির দোকানদার সাবিনা ও ইলেকট্রিশিয়ান নুরে আলম আমাদের সময়কে জানান, আগুনের এত তীব্রতা ছিল যে, কোনো কিছু ভাবারও সময় পাননি তারা। জীবন বাঁচাতে এক কাপড়েই সন্তানদের নিয়ে ঘর ছেড়েছেন। চোখের সামনেই ঘরের মালামাল, টাকা, স্বর্ণালঙ্কার পুড়তে দেখলেও কিছুই করার ছিল না তাদের। সরকার বা অন্য কারও তরফ থেকে তারা কোনো সহায়তা পাননি। তাই খোলা আকাশের নিচেই খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ডিউটি অফিসার মিজানুর রহমান জানান, গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।