advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সুবর্ণচরে গণধর্ষণ নির্দেশদাতা আ.লীগের সেই নেতার জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৯ ১০:৩৪
advertisement

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন নোয়াখালীর সুবর্ণচরে আলোচিত গণধর্ষণের ঘটনার নির্দেশদাতা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনকে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার পক্ষে করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ১৮ মার্চ এই জামিন দেন। একই সঙ্গে এ মামলায় তাকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতেও রুল জারি করা হয়েছে। আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন আশেক-ই-রসুল এবং রাাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায়।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্বজিৎ রায় জানান, গত ১২ মার্চ রুহুল আমিনের জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। ১৭ নম্বর এনেক্স কোর্টে শুনানি করা হবে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসকে জামিন আবেদনের একটি কপিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে জামিন আবেদনটি ১৪ নম্বর এনেক্স কোর্টে শুনানি করা হয়েছে। মূলত অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের যাতে নজরে না আসে, সে কারণেই আবেদনকারীর আইনজীবী অসদুদ্দেশ্যে এমনটি করেছেন। কোর্টে নোটিশ না আসায় আমরা জামিন শুনানির বিরোধিতা করে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারিনি। তবে আমরা এরই মধ্যে এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছি। আগামী ২৫ মার্চ আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি হবে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আশেক-ই-রসুল বলেন, রুহুল আমিন নামে এক আসামিকে আমি জামিন করিয়েছি। কিন্তু তিনি গণধর্ষণ মামলার আসামি নন। আমার আসামি নোয়খালী আইনজীবী সমিতির একজন অ্যাডভোকেট ক্লার্ক। আপনার আসামির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিলÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে ফাইল না দেখে আমি বলতে পারব না। আসামিপক্ষে হাইকোর্টে দায়ের করা জামিন আবেদনে রুহুল আমিনকে একজন আইন মান্যকারী, শান্তিপ্রিয় এবং পেশাগতভাবে অ্যাডভোকেট ক্লার্ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়, মামলার এফআইআরে রুহুল আমিনের কোনো নাম কিংবা তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। ওই ঘটনার সঙ্গে আসামির বিন্দুমাত্র যোগসাজশ নেই। পুলিশ মিথ্যাভাবে তাকে মামলায় জড়িয়েছে।

গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের দিন রাতে সুবর্ণচরের মধ্যবাগ্যা গ্রামে স্বামী-সন্তানকে বেঁধে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন, ওইদিন ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও ৫ নম্বর চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন। এর পর রাত সাড়ে ১২টার দিকে রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ১০ জন এসে তার স্বামী ও সন্তানদের বেঁধে ফেলে। পরে তারা বাইরে নিয়ে গিয়ে তাকে গণধর্ষণ করে।

একই সঙ্গে রুহুল আমিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা পিটিয়ে জখম করে তার স্বামী ও সন্তানদের। এরপর সকালে তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে সময় হাসপাতালের চিকিৎসকরা ওই নারীকে গণধর্ষণ ও পিটিয়ে জখম করার আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এ ঘটনায় ৩১ ডিসেম্বর ওই নারীর স্বামী চরজব্বার থানায় মামলা করেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে মামলায় রুহুল আমিনের নাম ছিল না, যা নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে ৩ জানুয়ারি রুহুল আমিনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময়ই আওয়ামী লীগ থেকেও রুহুল আমিনকে বহিষ্কার করা হয়। পরে গত ৪ জানুয়ারি রুহুল আমিনসহ গ্রেপ্তারকৃতদের নোয়াখালীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চালান দেয় পুলিশ। ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে আদালতে দাখিল করা পুলিশের আবেদনে বলা হয়, আসামিরা ঘটনায় জড়িত বলে স্বীকার করেছে। রুহুল আমিনই এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী।

advertisement