advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তিন সমবায় প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রম খতিয়ে দেখবে বিএফআইইউ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৯ ১০:৩৬
advertisement

ব্যাংক না হয়েও আমানত সংগ্রহে কার্যক্রম চালাচ্ছে তিনটি সমবায় প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো-আজিজ কো-অপারেটিভ কমার্স অ্যান্ড ফাইন্যান্স ব্যাংক, দ্য ঢাকা মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক এবং নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেও এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধ ব্যাংকিং পরিচালনার প্রমাণ মিলেছে।

এ তিনটি সমবায় প্রতিষ্ঠান অবৈধ ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সমন্বয়সভায়। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিএফআইইউকে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে বলা হয়। সভায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পরস্পরের মধ্যে সহজ ও অবাধে তথ্য আদান-প্রদানেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বড় বড় প্রকল্পে অর্থায়নে বন্ড মার্কেট আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সভায় বলা হয়, তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে আইনগত কোনো জটিলতা থাকলে প্রয়োজনে তা সংশোধন এবং পরস্পরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। সভা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে এ সভা হয়। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (আইডিআরএ), যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধকের কার্যালয়, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ), সমবায় অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশনের (বিটিআরসি) প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। এ ছাড়া বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, গভর্নরের উপদেষ্টা ও নির্বাহী পরিচালকরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, সভায় যে তিনটি সমবায় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়, সেগুলোর কার্যক্রম মূলত একই। প্রতিষ্ঠানগুলো সমবায়ের লাইসেন্স নিয়ে আমানত সংগ্রহের মতো অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে যা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। এগুলো অবৈধ ব্যাংকিং ছাড়া অন্য কার্যক্রম যেমন অর্থপাচার বা সন্ত্রাসে অর্থায়নের মতো কিছু করছে কিনা তা খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএফআইইউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানগুলো সমবায় অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নেয় সমবায় কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে। কিন্তু তারা নামের শেষে ব্যাংক শব্দ ব্যবহার ও অবৈধ ব্যাংকিং করছে। যখনই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কৈফিয়ত তলব করা হয়, তখনই হাইকোর্টে রিট করছে। ফলে কিছুই করার থাকে না।

বন্ড বাজার নিয়ে সভা শেষে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা ও সাবেক ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, দেশে বড় শিল্পায়নের জন্য বন্ড মার্কেটের কোনো বিকল্প নেই। এর প্রসারে ইতোমধ্যে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়। একটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এবং ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যৌথ কমিটি। অন্যটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উচ্চপর্যায়ের কমিটি। উভয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশে একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট গঠন করা হবে।

সভায় বন্ড মার্কেট গঠনে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উঠে আসে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর কাঠামো ঢেলে সাজানোর দাবি জানান কেউ-কেউ। বন্ড মার্কেট গঠনের প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগিয়ে নিতে সবাই সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সভায় ব্যাংকের গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের বিপরীতে এসএমস চার্জ যৌক্তিকীকরণের জন্য বিটিআরসিকে পুনরায় নির্দেশ দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়। আলোচনা হয় জুবিলি ব্যাংকের বেনামি শেয়ার ও ব্যাংকটিতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের বিষয়েও।

advertisement