advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ধরাধামে কেবলি ছন্দের খেলা

২২ মার্চ ২০১৯ ১৯:০৩
আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৯ ১৯:০৩
advertisement

ছন্দময় জীবনে কখনো কি ছন্দপতন ঘটে? ঘটে না। কারণ, জন্মলগ্ন থেকে পরপাড়ে গমনক্ষণ পর্যন্ত কোথাও এতটুকু ছন্দের বিচ্যুতি নেই। এই ধরাধামে কেবলি ছন্দের খেলা। নিমগ্ন চিত্তে কান পাতলে ধরা দেয় সেই ছন্দের মহিমা।

এই বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডে যা কিছু আছে সকলি ছন্দের আবর্তে আবর্তিত। মানুষ ছন্দকে ভালোবাসে। শুধু কবি ও সাহিত্যিকরাই যে ছন্দ নিয়ে খেলেন, তা কিন্তু নয়। একজন কৃষক, মজুর, শ্রমিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী কিংবা গবেষক-তারা  প্রত্যেকে  ছন্দের ফ্রেমে জীবনাচারের ব্যপ্তি ঘটান। তারা নিজনিজ মেধা ও মননে জীবনকর্মকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যান। 

কবি দেবব্রত সেনও তার বাইরে নন। ছাপ্পান্ন পৃষ্ঠার ‘ছড়ায়   ছড়ায়  মেলা’ গ্রন্থটিতে  ঊনপঞ্চাশটি ছড়া গ্রন্থিত হয়েছে। এতে শিশুতোষ আঙ্গিকের ছড়া যেমন রয়েছে তেমনি বোদ্ধা পাঠকও নান্দনিকতার ছন্দে আন্দোলিত হতে পারেন। ভাষা-আন্দোলন, স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু, ইতিহাসকে ধারণ করেছেন তিনি। কবি দেবব্রত সেন গ্রামীণ ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছেন প্রাজ্ঞ শব্দচয়নে। নান্দনিক শব্দের ছন্দে শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের কথা যেমনটি বলতে প্রয়াস পেয়েছেন, তেমনি সাম্যের গানও ধ্বনিত হয়েছে শ্রদ্ধার সঙ্গে। বৈষম্যের বেড়াজালে আবর্তিত আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। এখানে প্রতিমুহূর্তে ধনী-দরিদ্রের চিত্র চিত্রায়িত হয় নতুন নতুন আঙ্গিকে।

কবি এই গ্রন্থে সেইরকম একটি দৃশ্যপট ‘শ্রমিক পিতার ভাবনা’তে তুলে ধরেছেন। ‘তোমরা থাক দালান-কোঠায়/আমরা আকাশ-তলে/তোমরা যখন পেট ভরে খাও/আমরা  শুধু জলে/আমার চাওয়া খুব সীমিত/একটু ডাল আর ভাত/মাংস-পোলাও খেয়েই  চল/ তোমরা  দিন  আর   রাত।’(পৃষ্ঠা. ৩০)

শিয়ালপণ্ডিত,  টিয়াপাখি,  পেত্নীবাড়ি ও নন্দদুলালসহ  বেশ কয়টি ছড়া রয়েছে।  যেগুলো শিশু-কিশোররা নিশ্চয় পাঠ করে শব্দের দোলায় আনন্দ পাবে। প্রচ্ছদে সমর মজুমদারের ভ্যাঁপো ও ঢাক বাদকের সম্মিলিত ছন্দের সুর তোলা ছবি এক কথায় চমৎকার। তবে প্রুপ দেখায় আরও যত্নবান হলে ভালো হতো।

‘ছড়ায় ছড়ায় মেলা’ কবি দেবব্রত সেনের ছন্দ নিয়ে গবেষণার এক  চমকপ্রদ  ঋদ্ধপ্রয়াস। তিনি অনেক দিন থেকে ছড়া ও কবিতায় ছন্দ নিয়ে সচেতনভাবে কাজ করছেন। বিশেষ করে কবিতা বা ছড়া ছন্দপতনে নির্মাণ হতে পারে না। ছন্দবিচ্যুতি মানে কবিতার শ্রীহানি। সুন্দর-সুন্দরতম  ও   সুন্দরতর  যে  উপমাই  উল্লেখ করি না কেন, একজন কবির কবিতা তখনই সার্থক যখন শব্দ চয়ন, উপমা, বিষয়বৈচিত্র্য ও ছন্দময় সূত্রগুলো এক সূতায় গাঁথা থাকে। কবি দেবব্রত সেন  স্বল্পচরণে  বিষয়  উপস্থাপনে কবিতাবিনির্মাণে মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। গ্রন্থটি প্রকাশে উদ্যোগ নেওয়ায় ‘খড়িমাটি’কে অসংখ্য ধন্যবাদ।

লেখক : মানিক রতন শর্মা