advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

দায়িত্ব নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে চান নুর
ডাকসু যাত্রা করছে আজ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:৩২
advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নির্বাচিত হওয়ার ১১ দিন পর দায়িত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলেন নুরুল হক নুর। আজ শনিবার ডাকসু ও হল সংসদের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রথম কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখান থেকেই কমিটিগুলো দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

এ সভা সামনে রেখে গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে নুর জানান, ভিপির দায়িত্ব নিয়ে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সভাকক্ষে প্রথম কার্যনির্বাহী সভাটি অনুষ্ঠিত হবে বেলা ১১টায়। একই সময়ে আবাসিক হলগুলোর হল ইউনিয়ন রুমে হল সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা থেকেই ডাকসু ও হল সংসদের কমিটিগুলো দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

এর মধ্য দিয়েই কমিটির এক বছরের মেয়াদ শুরু হবে। ইতোমধ্যে ডাকসু ও হল সংসদগুলোর কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের মাধ্যমে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে। গতকাল বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সিদ্ধান্ত আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ করেই নিয়েছি।

তারা মনে করেন, আমরাও মনে করি, পুনর্নির্বাচনের জন্য দায়িত্ব নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া উচিত এবং আমি সেটি করব। দায়িত্ব নিয়ে পুনর্নির্বাচনের দাবি স্ববিরোধী কিনাÑ এমন প্রশ্নে নূর বলেন, ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনের ফল ঘোষণা দেওয়া মানেই হলো এই নির্বাচনটা এক্সিস্টিং আছে। সেই জায়গা থেকে আরেকটা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তো এই কমিটি থাকবে। সেক্ষেত্রে আরেকটা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তো শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে হবে। যেহেতু ২৮ বছর পর নির্বাচন হয়েছে, আমরা চাই না এই প্রক্রিয়াটা থেমে থাকুক।

ভিপির দায়িত্ব নেওয়ার জন্য কোনো ধরনের চাপ নেই বলে জানান নূর। তিনি বলেন, দায়িত্ব নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হবে। দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া মানে অসৎ ও অশুভ শক্তিকে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া। সেই জায়গা থেকে আমরা বলব, দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে দায়িত্বশীল কথা বলতে হবে। তিনি আরও বলেন, সিনেট-সিন্ডিকেটে এই নির্বাচনের বিভিন্ন ধরনের কারচুপির বিষয়টি ভালোভাবে তুলে ধরব। গণভবনে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছি, নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে। তিনি যেন তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নুর আরও বলেন, দেশের মানুষের যেমনটি প্রত্যাশা ছিল, সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারেনি। আমরা একটি কথা বলতে চাইÑ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তা হলে বাংলাদেশও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ চালুর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মেধাভিত্তিক সুষ্ঠু ধারার ছাত্ররাজনীতির পরিবর্তে অস্ত্র ও পেশিশক্তিনির্ভর ছাত্ররাজনীতির বিকাশ ঘটছে। ঢাবির শিক্ষার্থীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী তার মেধা দিয়ে ভর্তি হন; কিন্তু সে মেধার ভিত্তিতে হলে সিট পান না। মেধা ও অর্থনৈতিক সংকটের ভিত্তিতে সিট বণ্টন করার জোর দাবি জানাই।

রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো শিক্ষার্থীকে সিট দেওয়া যাবে না। জোর করে কোনো ছাত্রকে মিছিল, মিটিংয়ে নেওয়া যাবে না। ঢাবির রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করে নুর আরও বলেন, নির্বাচনের দিন আমরা ভোটকেন্দ্রে গেলে তিনি আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। তার নির্দেশে আমাদের নামে মামলা হয়েছে। হলের ছাত্রীদের তিনি গালিগালাজ করেছেন।

ফলে একজন শিক্ষকের নৈতিক স্থান হারানোয় আমি তার পদত্যাগ দাবি করছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং এই প্যানেল থেকে জিএস প্রার্থী রাশেদ খান, সহ-সাধারণ সম্পাদক প্র্রার্থী ফারুক হোসেন। প্রথম কার্যনির্বাহী সভায় মূলত কুশলবিনিময় ও পরবর্তী কর্মপন্থা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করা হয়। অভিষেক অনুষ্ঠান কেন্দ্র করে ২৮ বছর পর ডাকসু ভবন যেন ফিরে পেয়েছে এক নতুন ছোঁয়া। নতুন নেতাদের বরণ করে নিতে গতকাল দিনভর চলেছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি; হয়েছে কক্ষগুলোর সাজ-সজ্জার কাজ। ভিপি, জিএস, এজিএস, সম্পাদক ও সদস্যদের কক্ষের সাজ-সজ্জা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আবাসিক হলগুলোর হল ইউনিয়ন কক্ষও সাজানো হয়েছে।

advertisement