advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়ন চান শিক্ষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৯ ০৮:৫৫
advertisement

বেতনের সরকারি অংশের (এমপিও) দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চান আন্দোলনরত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাদের দাবি, আগে সরকারের দেওয়া আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক। গতকাল রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে এ কথা জানান অবস্থানরত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তিন দিন ধরে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

এবার দাবি বাস্তবায়ন করেই ঘরে ফিরবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। সকালে প্রেসক্লাব এলাকায় দেখা যায়, দিনভর তীব্র রোদ উপেক্ষা করে শত শত শিক্ষক-কর্মচারী অবস্থান করছেন প্রেসক্লাবের সামনে। একদিকে হাইকোর্টের সামনে কদম ফোয়ারার পাশে এবং আরেকদিকে প্রেসক্লাবের একপাশে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। আর এরই মাঝে দাবি আদায়ে অবস্থান করছেন শিক্ষকরা। এ সময় দাবিসংবলিত নানা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে স্লোগান দেন তারা।

তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘সেভ আওয়ার চিলড্রেন’, ‘উই ওয়ান্ট এমপিও’, ‘আমাদের সংগ্রাম চলছে, চলবে’, ‘নন-এমপিও সংগ্রাম চলছে, চলবে’ ইত্যাদি। সকাল ১০টায় প্রেসক্লাব থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা করতে চাইলে তারা পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তাতেই জুমার নামাজ আদায় করেন।

আন্দোলনকারী এক শিক্ষক নূর-এ-আলম বলেন, আমরা তো শিক্ষক। পেটের দায়ে ক্লাসরুম ছেড়ে রাজপথে নেমেছি। আমাদেরও তো পরিবার রয়েছে। আশ্বাস দিয়ে অবহেলা করা হচ্ছে। এবার দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরব। শিক্ষকরা জানান, গত বছর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলন চলাকালে দাবি মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নে তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল সরকারের তরফ থেকে। কিন্তু এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী অর্থবছরে। এ অবস্থায় তারা বাধ্য হয়ে আবার আন্দোলনে নেমেছেন।

শিক্ষকরা আরও জানান, ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব তাদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। তিনি বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের দাবি মেনে নিয়েছেন। সে সময় তাদের অনশন ভেঙে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে যেতে বলা হয়েছিল। এ ছাড়া সরকার আরও আশ্বাস দিয়েছিল, ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকেই এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনলাইনে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন গ্রহণ করা হলেও অজানা কারণে এখনো এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ করেন তারা। নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি, সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে একযোগে এমপিওভুক্ত করতে হবে। যদি এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সমস্যা হয়, তা হলে তিন ধাপে করতে পারে সরকার। তবু যেন আমাদের এমপিওভুক্ত করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা হতাশার জায়গা থেকে আবার এখানে এসেছি। আমরা চাই প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ। যেহেতু উনার প্রতিশ্রুতি আছে, আমরা আশা করি, এবার বাস্তবায়ন হবে।’

advertisement