advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আমাদের সময়কে মেজর শাকিল
অসচেতনতাই অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৯ ০৮:৫৪
advertisement

প্রায় প্রতিটি বস্তিই সরকারি জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠে। আবার অপরিকল্পিত হাজার হাজার ঘিঞ্জি ঘরে দেওয়া হয় অবৈধ (চোরাই) বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ। মূল সড়ক থেকে আনা এসব অবৈধ সংযোগে থাকে না ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থাও। নিম্নমানের তার ও গ্যাসের পাইপ দিয়ে সংযোগ নেওয়া এসব ঝুঁকিপূর্ণ লাইন ও তার কয়েক বছরেও মেরামত করা হয় না। এলোমেলোভাবে জড়িয়ে থাকা বিদ্যুতের তার ঝুলতে দেখা যায় প্রায় সব বস্তিতেই। ফলে যে কোনো সময় গ্যাস লাইন লিকেজ ও বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

এসব অসচেতনতাই বস্তিতে ঘন ঘন অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ। এ ছাড়াও রান্নার পর অসাবধানতাবশত চুলার আগুন বন্ধ না করা, যত্রতত্রে সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ ফেলা, অরক্ষিত স্থানে মোমবাতি-কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে পড়া, দিয়াশলাই নিয়ে শিশুদের খেলা করার সময় আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ার কারণেও বস্তিগুলোতে অগ্নিকাণ্ড ঘটছে।

মেজর শাকিল বলেন, ‘বস্তিগুলো খুবই ঘিঞ্জি। কোনো ফাঁকা জায়গা রাখা হয় না। এ ঘিঞ্জি পরিবেশের রাস্তা খুবই সরু হওয়ায় আগুন নেভাতে অনেক সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যায়। আবার বস্তির পানির উৎসও সীমিত। হাইড্রিন্টের (রাস্তার পাশে বসানো পানিপ্রবাহের উচ্চ ক্ষমতাযুক্ত কয়েকমুখী কল) অনুপস্থিতি এবং যানজটের কারণে সময়মতো আগুন নেভানোর কাজ শুরুই করা যায় না। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।’

শাকিল আরও বলেন, ‘অসতর্কতাই অধিকাংশ বস্তির অগ্নিকা-ের অন্যতম কারণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অপরিকল্পিত ঘিঞ্জি ঘরে সাধারণ তার দিয়ে বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ ও রান্নাঘরের আগুন থেকে বস্তির অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। নিম্নমানের জীবনযাপন পদ্ধতি, অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধা ইত্যাদি কারণে বাঁশ-কাঠের ওপর ছাপড়া-টিন দিয়ে গড়ে তোলা এসব ঘরে দুর্ঘটনাবশত যদি একবার আগুন লেগে যায়, তা হলে তা নেভানো কিংবা নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে বস্তিতে। নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার বিকল্প পথ না থাকায় সবাই একপথে চলার কারণে দগ্ধ হওয়া ছাড়াও ঘটে প্রাণহানি। তাই অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে সারাদেশের বস্তিগুলোকে বৃহৎ পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।’

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ফায়ার সার্ভিসের এ পরিচালক বলেন, ‘বস্তির ৫০টি পরিবারের রান্না এক জায়গায় করা, রান্নার পরপরই চুলার আগুন নেভানোর অভ্যাস, বস্তিতে হাইড্রিন সিস্টেম থাকা, নিয়ম করে গ্যাস ও ইলেকট্রিক্যাল সংযোগ পরীক্ষা, যত্রতত্রে সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ না ফেলা, অরক্ষিত স্থানে মোমবাতি-কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমিয়ে না পড়া, শিশুদের দিয়াশলাই নিয়ে খেলতে না দিলে বস্তির আগুন লাগা তুলনামূলকভাবে কমে যাবে। তা ছাড়া সরকারি উদ্যোগে বস্তির মানুষগুলোকে নির্ধারিত স্থানে পুনর্বাসন, পরিকল্পিত উপায়ে বস্তির অপরিচ্ছন্ন, নোংরা পরিবেশ সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ, বস্তিতে প্রবেশের রাস্তা প্রশস্তকরণ এবং পর্যাপ্ত পানির জোগান রাখা; সর্বোপরি আগুন ব্যবহারে বস্তিবাসী একটু সচেতন হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হবে।’

শত্রুতা বা দখলের উদ্দেশ্যে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, বস্তিবাসীর এমন অভিযোগের বিষয়ে মেজর শাকিল বলেন, ‘কিছু কিছু ঘটনায় বস্তি উচ্ছেদ করার জন্যও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। মূলত বাঁশ-কাঠ-টিনের ছাপড়া দিয়ে অধিকাংশ বস্তির ঘর তৈরি হয়। এগুলোতে আগুন লাগলে তা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে, পুড়িয়ে সব ছারখার করে দেয়। ফলে কীভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত, তা নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে এ পর্যন্ত কোনো বস্তিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, তার কংক্রিট কোনো অ্যাভিডেন্স না মেলায় নাশকতার বিষয়টি প্রমাণ করা যায়নি।’

advertisement