advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গৃহশিক্ষক ভয়ঙ্কর!

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৯ ০৯:১৭
advertisement

ইয়াসিন আরাফাত ও সাইফুল ইসলাম। শারীরিক উচ্চতায় তারতম্য থাকলেও দেখতে দুজনই সুদর্শন। গৃহশিক্ষকের আড়ালে তাদের রয়েছে আরেকটি নেশা ও পেশা, প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের পর তারা নারীদের দিয়ে তৈরি করত পর্নোগ্রাফি। ছয় মাস না যেতেই তাদের ডিভোর্স দিয়ে সর্বনাশ করত আরেক তরুণীর। শুধু তাই নয়, টার্গেট কিশোরী বা তরুণীকে প্রাইভেট পড়ানোর নামে প্রেমের ফাঁদেও ফেলত তারা। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করে সেগুলো গোপনে ভিডিও করত।

পরে সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিত মোটা অঙ্কের টাকা। এভাবে দিনের পর দিন ওই দুজন অনেক তরুণীর সর্বনাশ করেছে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা থেকে পর্নোগ্রাফি চক্রের এ দুই সদস্য ইয়াসিন আরাফাত ও সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় এ কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ও একটি মেমোরি কার্ড। বিভিন্ন সময় পাঁচজনের বেশি নারী তাদের মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব ১-এর সহকারী পুলিশ সুপার (সিপিসি-১) মো. কামরুজ্জামান জানান, চক্রটি মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখাত এবং শারীরিক সম্পর্ক করত। সেই দৃশ্য গোপন ক্যামেরায় ভিডিও করে রাখত এবং ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে পর্নোপ্রাফি তৈরিতে বাধ্য করত। আবার অনেক মেয়ের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত। কয়েক ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে দক্ষিণখান এলাকা থেকে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, যেসব নারীর স্বামী বিদেশ বা ঢাকার বাইরে থাকেন, তাদের চিহ্নিত করে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাত তারা। এর পর তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে মোবাইল নম্বর নিত। একপর্যায়ে কথা বলতে বলতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলত। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ফ্ল্যাটে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে তা গোপনে ভিডিও করে রাখত। সেই ভিডিও ইন্টারনেটে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত প্রতারকচক্রের সদস্যরা। তাদের সঙ্গে আর কেউ আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান সিপিসি-১ মো. কামরুজ্জামান।

র‌্যাব সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার ইয়াসিন আরাফাত ২০১০ সালে এসএসসি এবং ২০১২ সালে এইচএসসি পাস করে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ইংরেজিতে অনার্স শেষ করে উত্তরখানের সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা শুরু করে। তবে ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের দায়ে তাকে বরখাস্ত করা হয়। পরে সোনালি মডেল কিন্ডারগার্টেন নামে একটি স্কুলে ইংরেজির শিক্ষক হয়। সেখান থেকেও একই অভিযোগে বরখাস্ত হওয়ার পর শুরু করে গৃহশিক্ষকতা।

দেড় বছর আগে তার সঙ্গে এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক হয়। পরে বিয়ের এক বছরের মধ্যে সেই তরুণীকে ডিভোর্স দেয়। ছয় মাস আগে এক ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে আরাফাত। সম্প্রতি তাকেও ডিভোর্স দেয়। এমনকি তাদের সবার সঙ্গেই শারীরিক সম্পর্কের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে রাখে। ডিভোর্সের পর তার কাছে নগ্ন ভিডিও আছে দাবি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। অনেক সময় পর্নোগ্রাফি তৈরিতেও তাদের বাধ্য করে সে। এ পর্যন্ত আরাফাত চার থেকে পাঁচজন মেয়েকে বিয়ের ফাঁদে ফেলেছে বলেও জানা গেছে। অন্যদিকে সাইফুল ইসলাম বরিশাল সরকারি গৌরনিধি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হয় বিএম কলেজে।

সেখান থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষে ঢাকার দক্ষিণখানের খৈনকুটি আইডিয়াল স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করে। ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে তাকেও বরখাস্ত করা হয়। পরে গৃহশিক্ষকতা শুরু করে। ছাত্রীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে সে শারীরিক সম্পর্ক করত এবং তা ভিডিওধারণ করে রাখত। সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আদায় করত মোটা অঙ্কের টাকা। একাধিক ছাত্রীর সঙ্গেই এমন সম্পর্ক ছিল বলে র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছে সাইফুল।

advertisement