advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বাঙালি সংস্কৃতির আলোয় অবগাহন

আমজাদ হোসেন শিমুল,রাজশাহী
২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৯ ০৯:০০
advertisement

মা সন্তানকে তড়িঘড়ি করে বিশেষ ভঙ্গিমায় সাজিয়ে দিচ্ছেন। চোখের নিচে কালি দিয়ে বড় করে এঁকে দিচ্ছেন চোখ। গোঁফে কালি দিয়ে এঁকে দিচ্ছেন গোঁফ। কখনো-বা কুচি করে কখনো ভাঁজ দিয়ে পরিয়ে দিচ্ছেন লুঙ্গি। তাতেও যেন মন ভরছে না। রাজশাহী নগর ভবনের গ্রীন প্লাজায় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসে (১৭ মার্চ) শুরু হওয়া বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক উৎসবের ষষ্ঠ দিনে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় সরেজমিন দেখা গেল এমন চিত্র।

উৎসব প্রসঙ্গে এ মা বলেন, বঙ্গবন্ধু নিঃসন্দেহে একজন মহামানব। কিঞ্চিৎ হলেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ছোঁয়া যাতে আমার সন্তানের ওপর পড়ে, সে জন্যই তাকে উৎসবে অংশগ্রহণ করিয়েছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রিয় মাতৃভূমিকে একটি অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ার চেষ্টা করেছিলেন। বাঙালি জাতিসত্তার সংস্কৃতির আলোকে বিশ্বের দরবারে এ দেশকে তুলে ধরা ছিল জাতির জনকের স্বপ্ন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নগুলোকে বিস্তার ঘটাতে এ সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন বলে জানিয়েছেন উৎসব উদযাপন পরিষদের সদস্য ও স্কুলভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেন মাসুদ।

তিনি আরও জানান, বাঙালি সংস্কৃতির আলোয় অবগাহনের মধ্য দিয়ে বাঙালি সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার পাশাপাশি রাজশাহীর সংস্কৃতিকে জাগ্রত করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে। রাজশাহীতে সাংস্কৃতিক চর্চা মাঝে কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছিল। আমরা আন্তর্জাতিক এ সাংস্কৃতিক উৎসবের মধ্য দিয়ে সেখান থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছি। উৎসবে নৃত্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দশম শ্রেণির ছাত্রী আঞ্জুমান আরা বিউটি বলেন, আমাদের দেশের সংস্কৃতি তথা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ পৃথিবীজুুড়ে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক উৎসবে অংশ নিতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। উৎসব দেখতে আসা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুজন আলী বলেন, উৎসবে এসে নতুন প্রজন্মের মাঝে বিভিন্ন মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতিচর্চার উচ্ছ্বাস দেখে আমি সত্যি অভিভূত। এমন সাংস্কৃতিক উৎসব সারাদেশে আয়োজন করা হলে বঙ্গবন্ধুর সত্যিকার অর্থে যে সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, সেটি সম্ভব।

উৎসবে গতকাল বিকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা সংগীত, রাজশাহী আবৃত্তি চর্চাকেন্দ্রের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, স্বরচিত কবিতা, মাতাল বাউলের লোকসংগীত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রুডার অংশগ্রহণে নাটক পরিবেশিত হয়। আজ শনিবার ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ’ প্রতিযোগিতা, সংগীত, বিষয়ভিত্তিক বক্তৃতা, আবৃত্তি, পথনাটক, গীতি আলেখ্য ও সংযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবের অষ্টম দিন আগামীকাল রবিবার সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সংগীত, বিষয়ভিত্তিক বক্তৃতা, আদিবাসী নৃত্য, মনিপুরী নৃত্য, ডকুমেনটারি প্রদর্শন ও পরিবেশিত হবে ভাওয়াইয়া গান।

সোমবার ‘গণহত্যা এবং ২৫ মার্চবিষয়ক প্রদর্শনী, সংগীত, শহীদ পরিবারের সদস্যদের আলোচনা, ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন, মাইম, স্বরচিত কবিতা আবৃত্তির পাশাপাশি পরিবেশিত হবে গম্ভীরা ও নৃত্যনাট্য। উৎসবের শেষ দিন ২৬ মার্চ সকাল ১০টায় মহান স্বাধীনতা দিবসে গণহত্যা এবং ২৫ মার্চবিষয়ক প্রদর্শনী, স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠান হবে। সন্ধ্যার পর জমকালো আতসবাজির মধ্য দিয়ে ১০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের পর্দা নামবে।

আন্তর্জাতিক এ উৎসবে বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত অংশগ্রহণ করেছে। রাজশাহী সিটি মেয়র এ এইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এ উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

advertisement