advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হাইকোর্টে দ্রুত কমছে পুরনো মামলা

কবির হোসেন
২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৯ ০৮:৫৭
advertisement

পুরনো ফৌজদারি মামলার জট কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। ওই উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিনি হাইকোর্টের ১৫টি ডিভিশন বেঞ্চকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

গত দুই মাসে ওই বিশেষ উদ্যোগ সফলতার মুখও দেখেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত বেঞ্চগুলো থেকে মাত্র ৮ কর্মদিবসে প্রায় ১৮ হাজার মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে বলে সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুপ্রিমকোর্টের স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, প্রধান বিচারপতির এই উদ্যোগ অনুযায়ী পুরনো মামলা বাছাই করে ১৫টি বেঞ্চে পাঠানো হচ্ছে। প্রতি বৃহস্পতিবার সেখানে এসব মামলার শুনানি হয়।

এই উদ্যোগে বেশ সুফল পাওয়া গেছে। গত দুই মাসে অন্তত ১৮ হাজার মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে উচ্চ আদালতে মামলার জট অনেকাংশে কমে আসবে। তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ডিভিশন বেঞ্চ সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৮১টি পুরনো মামলা নিষ্পত্তি করেছেন।

এ ছাড়া বিচারপতি মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের বেঞ্চ ৩৫০, বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের বেঞ্চ ১ হাজার ৫, বিচারপতি মো. ইমদাদুল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ ৭০১, বিচারপতি মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর বেঞ্চ ৬০৪, বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চ ১ হাজার ৭০০, বিচারপতি শেখ আব্দুল আউয়াল ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর বেঞ্চ ১ হাজার ৭৭৮, বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানের বেঞ্চ ৯০০, বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি খিজির হায়াতের বেঞ্চ ১ হাজার ২১৬, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের বেঞ্চ ১ হাজার ১৯৮, বিচারপতি আ ন ম বশিরউল্লাহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের বেঞ্চ ১ হাজার ২৬৯, বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিক ও বিচারপতি খন্দকার দিলিরুজ্জামানের বেঞ্চ ৭৭১, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি রিয়াজ উদ্দিন খানের বেঞ্চ ৫০০, বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমানের বেঞ্চ ১ হাজার ৩০০ এবং বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের বেঞ্চ ১ হাজার ৪৫০টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন।

জানা যায়, গত জানুয়ারির শুরুতে প্রধান বিচারপতি হাইকোর্টে বিচারাধীন পুরনো মামলা নিষ্পত্তির জন্য ১৫টি দ্বৈত বেঞ্চকে এখতিয়ার দেন। এখতিয়ারে বলা হয়, এসব বেঞ্চ প্রতি বৃহস্পতিবার শুধু ৪৯৮ ধারা মোতাবেক ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের ফৌজদারি বিবিধ মোকদ্দমাগুলো নিষ্পত্তি করবেন। সে অনুযায়ী এসব বেঞ্চে গত দুই মাসে ২৬ হাজার ৬৪৩টি পুরনো ফৌজদারি মামলা পাঠানো হয়। এসব মামলার বাইরে বেঞ্চগুলো সপ্তাহের বাকি কর্মদিবসে ফৌজদারি মোশন, ফৌজদারি আপিল মঞ্জুরির আবেদনপত্র এবং এ সংক্রান্ত জামিনের আবেদনপত্র, জেল আপিল ও ফৌজদারি রিভিশন মামলার রুল ও আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানি করে থাকেন।

বর্তমানে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ৫ লাখ ২৬ হাজার ১৮৩টি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে ফৌজদারি মামলা ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৯১৩টি। দেওয়ানি মামলা ৯৬ হাজার ২৩৫টি। হাইকোর্টে বিচারপতি রয়েছেন ৯২ জন। ৩৫টি দ্বৈত ও ১৯টি একক বেঞ্চে গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে বিভিন্ন শ্রেণির (ফৌজদারি, দেওয়ানি ও রিট) মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬ হাজার ৩০৬টি। এ সময়ে বিচারাধীন মামলা ছিল ৫ লাখ ৩২ হাজার ৯৫৮টি। আর বিশেষ উদ্যোগের ফলে মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। শুধু গত জানুয়ারিতেই মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬ হাজার ৫২৩টি। এ ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন বলেন, প্রধান বিচারপতির উদ্যোগটি খুবই ভালো।

তবে এই অল্প কয়েকটি বেঞ্চকে দায়িত্ব দিয়ে সব মামলার জট কমিয়ে আনা সম্ভব হবে না। মামলার জট কাক্সিক্ষত পর্যায়ে নামাতে হলে বিচারপতির সংখ্যা বাড়াতে হবে। এ জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া বার ও বেঞ্চকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

advertisement