advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আমাদের সময়কে ‘গণিতের নোবেল’জয়ী প্রথম নারী
এ জীবন আশার আলো দেখায়

জাহাঙ্গীর সুর
২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:৩৩
advertisement

ক্যারেন কেসকালা উহলেনবেক। মার্কিন অধ্যাপক। প্রথম নারী গণিতবিদ হিসেবে যিনি পেয়েছেন আবেল পুরস্কার। বিশ্লেষণ, জ্যামিতি ও গাণিতিক পদার্থবিদ্যার মধ্যে সেতু তৈরিতে তার প্রভাববিস্তারী গবেষণাকর্মের স্বীকৃতি ‘গণিতের নোবেল’ হিসেবে পরিচিত এই মূল্যবান পুরস্কার। এমন সম্মাননা পাওয়ার পর তার অনুভূতি ভাগ করে নিয়েছেন আমাদের সময়ের সঙ্গে।

গতকাল এক ই-মেইল আলাপচারিতায় বলেছেন গণিতে নারীদের জয়যাত্রার গল্পও। আবেল পুরস্কার দেওয়া হয় ২০০৩ সাল থেকে। উনিশ শতকের নরওয়ের গণিতবিদ নিলস হেনরিক আবেলের সম্মানে এ পুরস্কারের প্রবর্তন। তিনবার দুজন করে এবং বাকি বছরগুলোয় একজন করে গণিতবিদ এ পুরস্কার পেয়েছেন। বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক মার্কিন গণিতবিদ।

এ বছরই প্রথম কোনো নারী গণিতবিদ পেলেন আবেল পুরস্কার। ইতিহাসে নাম লেখানো সেই গণিতজ্ঞ হচ্ছেন অস্টিনে অবস্থিত টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়েল ইমেরিটাস অধ্যাপক ক্যারেন উহলেনবেক। ১৯ মার্চ দ্য নরওয়ে অ্যাকাডেমি অব সায়েন্স অ্যান্ড লেটারস এ বছর আবেলজয়ী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করে। এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ৬০ লাখ ক্রোনার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ছয় কোটি টাকা।

কর্তৃপক্ষ বলেছে, এই পুরস্কার হলো ‘জ্যামিতিক আংশিক অন্তরীকরণ সমীকরণ, গজতত্ত্ব ও যোগজীকরণযোগ্য পদ্ধতিতে (উহলেনবেকের) যুগান্তকারী অর্জনের স্বীকৃতি।’ এ রকম একটা সম্মাননা পাওয়ার অনুভূতি কেমনÑ জানতে চেয়েছিলাম উহলেনবেকের কাছে। তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না যেন। আমি খুব খুশি হয়েছি। নরওয়ে একাডেমিকে অনেক ধন্যবাদ। ধন্যবাদ দিই সেসব প্রতিষ্ঠান ও মানুষকে, যারা আমার জীবনকে পরিপূর্ণ ও কৌতূহলময় করে তুলেছে। আমার বিশ্বাস, আমাকে যে (আবেলজয়ী হিসেবে) বেছে নেওয়া হয়েছে, এর মধ্য দিয়ে এটাই প্রতীয়মান হয় যে গণিতের সর্বোচ্চ পর্যায়েও অবদান রাখতে পারে এমন বহু বৈচিত্র্যময় ব্যক্তিত্ব রয়েছেন।’

এই পুরস্কার পৃথিবীর নানা দেশের নারী শিক্ষার্থীদের গণিতে টানতে কতটা প্রেরণা জোগাতে পারে? উহলেনবেক মনে করেন, এটা তার দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে। তার ভাষায়, ‘প্রথম নারী হিসেবে আবেল পুরস্কার পাওয়া মহাসম্মানের। সেই সঙ্গে গুরুদায়িত্বেরও। সংখ্যায় কম হলেও আমার অগ্রজ স্মরণীয় পথপ্রদর্শক যারা এবং আমার পিছু পিছু আরও যারা ছুটে আসছেনÑ প্রথমে ধীরে, আর এখন বহুগুণে, সেসব নারীকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।’ প্রিন্সটনের আইনস্টাইন ড্রাইভে অবস্থিত ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড স্টাডির (আইএএস) অনাবাসিক গবেষক উহলেনবেক।

তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, বিজ্ঞান ও গণিতের প্রতিষ্ঠানগুলোয় কি এখনো লিঙ্গবৈষম্য রয়ে গেছে? তিনি শোনালেন অগ্রগতি ও প্রগতির গল্প। উহলেনবেক বললেন, ‘পেশাগত অগ্রায়ন প্রত্যাশা করতে পারেনÑ এমন ক্ষেত্রে আমিই বোধহয় প্রথম প্রজন্মের এক নারীব্যক্তিত্ব। হয়তো তখন পুরুষের পুরোপুরি সমকক্ষ ছিল না। কিন্তু কপাটগুলোয় এখন আর খিল মারা নেই। ষাট ও সত্তরের দশকে (নারী-পুরুষের সমান্তরাল) অগ্রগতির ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বাধাগুলো যখন একে একে ভেঙে পড়ছিল, তখন আমরা চেয়েছিলাম নারী ও সংখ্যালঘুরা খোলা দুয়ার দিয়ে ঢুকে পড়–ক এবং বুঝে নিক তাদের হকের জায়গা।

হ্যাঁ, এটা যে সহজ ছিল না, তা দেখাই গেছে। কিন্তু প্রভূত প্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি। বিশেষ করে নারীদের বেলায়। আজকের যারা নারী গণিতবিদ, তাদের মধ্যে কত রকম বৈচিত্র্য! ওরা যেন মেধার অনন্য এক আধার।’ উহলেনবেক এখন টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সিড ডব্লিউ রিচার্ডসন রিজেন্টস চেয়ার। নিজের অতীত নিয়ে তিনি গর্ব করে বলেন, ‘আমার এ জীবন আশার আলো দেখায়।

আমি অন্যদের সঙ্গে শামিল হয়েছিলাম সেসব লৌহকপাট ভেঙে ফেলার জন্য, আর সেসব মুক্ত দ্বারকে আরও প্রশস্ত, আরও খোলামেলা রাখতে।’ বিষয় হিসেবে গণিতের মহিমাও গাইলেন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনাবাসিক জ্যেষ্ঠ গবেষক উহলেনবেক। তিনি বলেন, ‘মানব অনুবৃত্তির হয়তো ছোট্ট একটা অংশ গণিত নিয়ে গবেষণা করা। কিন্তু যারা এর মধ্যে ঢুকে পড়ে, তাদের জন্য এটা মহাআনন্দের ও মহাআকর্ষণের।

মানুষ অবশ্য অনেক সময় জানতে ব্যাকুল। সেদিক থেকে বলব, গণিত খুব উপকারীও বটে। গণিতকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য নরওয়ে একাডেমির কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’ ক্যারেন কেসকালা উহলেনবেকের জন্ম ১৯৪২ সালের ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর ক্লিভল্যান্ডে।

advertisement