advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

পাইলট ও কেবিন ক্রুরা যা বললেন

বিমান ছিনতাইচেষ্টা

চট্টগ্রাম ব্যুরো
২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৯ ০৮:৫৮
advertisement

বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ ময়ূরপঙ্খির পাইলট-কেবিন ক্রুসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন মামলার তদন্তকারী সংস্থা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা।

এদের মধ্যে বিমানসংশ্লিষ্ট যে ছয় ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তারা হলেন-ময়ূরপঙ্খির পাইলট মো. গোলাম সাফি, ফার্স্ট অফিসার মুনতাসির মাহমুদ, কেবিন ক্রু শাফিকা নাসিম নিম্মী, হোসনে আরা, শরীফা বেগম রুমা ও আবদুর শাকুর মুজাহিদ। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল ময়ূরপঙ্খির। বিকালে ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পর পলাশ আহমেদ নামে এক যাত্রী সেটিকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালান। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বিমানটি চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

এর পর ৮ মিনিটের কমান্ডো অভিযানে নিহত হন পলাশ এবং অবসান ঘটে ছিনতাইকাণ্ডের। জিজ্ঞাসাবাদে বিমানে থাকা ব্যক্তিরা পুলিশকে বলেন, পলাশের জন্য সেদিন ফ্লাইটের ১৭-ডি আসনটি বরাদ্দ ছিল। বিমান ওড়ার কিছু সময় পর তিনি আসন পরিবর্তন করলে এক কেবিন ক্রু আরেক ক্রুকে সংকেত দেন পলাশকে তার নির্ধারিত আসনে বসানোর জন্য; কিন্তু কেবিন ক্রু হোসনে আরা অনুরোধ করার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন ওই যাত্রী। ডান হাতে পকেট থেকে পিস্তল বের করে হোসনে আরার মাথায় ধরে ককপিটের দরজা খুলতে বলেন।

তিনি পাইলটের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান। পলাশ মূলত প্রথমে ব্যক্তিগত একটি সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। ওই দাবিতেই এক হাতে পিস্তল (খেলনা) এবং আরেক হাতে বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু নিয়ে অসংলগ্ন আচরণ শুরু করেন। কয়েক দফা অস্থিরভাবে পায়চারিও করেন। তখন ক্রু শাফিকা নাসিম একটি গোপন কোড ব্যবহার করে পাইলটকে বিষয়টি জানিয়ে দেন। পাইলট ও ফার্স্ট অফিসার লাইভ স্ক্রিন অন করে সেখানে পলাশের গতিবিধি দেখতে পান। তার ডান হাতে পিস্তল এবং বাম হাতে বিস্ফোরক সদৃশ বস্তু দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জানিয়ে দেওয়া হয়।

একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দলসহ সংশ্লিষ্টদের যাত্রীদের রক্ষায় প্রস্তুত রাখার জন্য বলেন পাইলট। ওই অবস্থায় চট্টগ্রামে বিমানটি জরুরি অবতরণ করে। তখন পলাশকে আলাপে ব্যস্ত রেখে ইমার্জেন্সি গেট দিয়ে এক কেবিন ক্রু ছাড়া সব যাত্রী ও ক্রুরা নেমে পড়েন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া বলেন, ‘২০ মার্চ পাইলট, ফার্স্ট অফিসার ও চার কেবিন ক্রু আমাদের কার্যালয়ে এসে জবানবন্দি দেন। মূলত তাদের কাছ থেকেই আমরা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আক্রান্ত হিসেবে ছিনতাইচেষ্টার আদ্যোপান্ত বর্ণনা পাই।’

তিনি বলেন, ‘সেদিন বিমানের ওই ফ্লাইটে মোট সাত ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে পাইলট, ফার্স্ট অফিসার ও চার কেবিন ক্রুকে ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পাইলটসহ ছয়জন গত বুধবার আমাদের কার্যালয়ে এসে তাদের বক্তব্য দিয়ে গেছেন। ঘটনার দিন সবার শেষে বিমান থেকে নামা কেবিন ক্রু সাগর এখন দায়িত্ব পালনের জন্য দেশের বাইরে আছেন। বক্তব্য শুনে আমরা পরবর্তী তদন্ত শুরু করব।’

এর আগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দায়িত্বরত ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সরওয়ার-ই-জাহান এবং ঘটনার সময় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত দুই কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এ নিয়ে মোট নয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। কমান্ডো অভিযানে নিহত যুবক পলাশ আহমেদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়। তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। চিত্রনায়িকা সিমলার সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদের জেরে পলাশ উড়োজাহাজে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।

advertisement
Evall
advertisement