advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সড়ক নিরাপত্তা
আইনের প্রয়োগ ও নাগরিক উদ্যোগের সমন্বয় চাই

২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৯ ০৯:১৭
advertisement

দেশের উন্নয়ন মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তার শঙ্কায় ফেলে দিচ্ছে। উন্নত সড়কে যানবাহন দুর্ঘটনা এতটাই বেড়ে চলেছে যে অনেক পরিবারের জন্য এটা অভিশাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, দেশে এমন কোনো পরিবার অবশিষ্ট থাকবে না যারা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হননি।

দুর্ঘটনায় সহপাঠীর মৃত্যুর প্রেক্ষাপটে ছাত্র সমাজ দ্বিতীয়বারের মতো রাজপথে নেমে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকাশ্য জনসভায় রাজধানী ঢাকার পুলিশ কমিশনার সড়ক দুর্ঘটনা রোধে তাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি ছাত্রদের ৮ দফা ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের পরামর্শ মেনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে ছাত্র সমাজ আর আশ্বাসে ভুলতে রাজি নয়। তারা অন্তত কিছু দাবি ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখেই রাজপথ ছাড়ার কথা বলেছেন, তার আগে নয়। সড়কপথে চলাচল নিরাপদ করার জন্য তাদের অবস্থানে ছাত্রদের এই অনমনীয় মনোভাবের কারণ বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ এ যাবৎ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

বিভিন্ন তদন্ত কমিটি ও পরামর্শক কমিটি গঠিত হয়েছে, তারা নানা সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিলও করেছে। কিন্তু তাতেও সড়ক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ, দপ্তর ও সংগঠন কিছুই করেনি। বছরখানেক আগে বাসচাপায় দুই ছাত্রের মৃত্যুর পর সংগঠিত আন্দোলনের সময় কথা হয়েছিল, বাসচালকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বন্ধ করে বেতনভিত্তিক নিয়মিত চাকরির ব্যবস্থা হবে। কিন্তু দুর্ঘটনার জন্য দায়ী সুপ্রভাত পরিবহনের সব বাসই চুক্তিভিত্তিক চালকরাই চালান এবং তাদের বেশি ট্রিপ দেওয়ার লোভের কারণে সৃষ্ট প্রতিযোগিতার কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবরারকে প্রাণ দিতে হলো।

এই বাসসহ রাজধানীতে এখনো ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করে। চালকের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ পরীক্ষা নেওয়া হয় না। ফলে আনাড়ি, অর্ধপ্রশিক্ষিত এবং অতিরিক্ত সময় চালানোর ক্লান্তিজনিত কারণে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। তা ছাড়া আমাদের মানুষজন সহজাতভাবেই আইনের প্রতি উদাসীন, আইন ভেঙে সুবিধামতো চলাচলে অভ্যস্ত। ফলে মহাসড়কে নিষিদ্ধ হলেও এখনো ঝুঁকি নিয়ে তিন চাকার সিএনজি, ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান, রিকশা, সাইকেল ইত্যাদি চলে থাকে। তাতেও দুর্ঘটনা বাড়ছে। আবার এখনো মোটরসাইকেলচালক ও সহ-আরোহীদের মধ্যে হেলমেট ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে ওঠেনি।

এতেও সামান্য দুর্ঘটনাতেও প্রাণহানি বাড়ছে। এদিকে পথচারীদের মধ্যে যে কোনো স্থানে রাস্তা পারাপার, রাস্তায় চলা ও পারাপারের সময় মোবাইলে কথা বলা বা গান শোনা, হঠাৎ দৌড় দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার অভ্যাস দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে। আমরা মনে করি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হলে কেবল ট্রাফিক পুলিশ বা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের উদ্যোগে সুফল আসবে না।

আইন প্রয়োগ, সঠিক যানবাহন ও চালকের নিশ্চয়তার পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করতে হবে। আর সব কাজই একযোগে হতে হবে, তবেই সাফল্য আসবে। এ কাজে রাজপথে পুলিশের সহযোগী হিসেবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ছাত্র-স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতা নেওয়া যায়।

advertisement
Evall
advertisement