advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নিউজিল্যান্ডের তরুণ প্রধানমন্ত্রীর ন্যায্য ভূমিকা
বিদ্বেষের পৃথিবীতে মানবিক ভাষ্যকে সাধুবাদ

২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৯ ২৩:৪৮
advertisement

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্নার্ড একজন তরুণী রাষ্ট্রনেতা। তার বয়স মাত্র ৩৮ এবং বছরখানেক আগে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি দ্বিতীয়বার মা হয়েছেন। রাজনীতি তার সংসারের দায় বা মাতৃত্বের সাধ ও কর্তব্য কিছুই কেড়ে নেয়নি। নিকট-অতীতে অবশ্য পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোও একই রকম দায়িত্ব থেকেই মা হয়েছিলেন। তবে জেসিন্ডা বিশ্ববাসীর সপ্রশংস নজর কেড়েছেন অন্য কারণে।

জেসিন্ডা আর্নার্ডের দেশ নিউজিল্যান্ড বহুকাল ধরেই শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। তাদের দেশে এই ক্রাইস্টচার্চ শহরেই বছর দুই আগে মারাত্মক ভূমিকম্প হয়েছিল, যাতে প্রায় গোটা শহরই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, মানুষও মারা গিয়েছিল দুশর মতো। তবে সন্ত্রাস বা জঙ্গি তৎপরতার কোনো খবর সেখানে মেলেনি। তাই গত ১৫ মার্চ শুক্রবার দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় ৫০ জন মানুষের প্রাণহানির পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন অত্যন্ত প্রাজ্ঞ ভূমিকা।

সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জেসিন্ডা আর্নার্ড কোনোভাবে ক্রোধ প্রকাশ করেননি, অনেক কিছু করার আস্ফালন করেননি, সরকারের ক্ষমতার প্রকাশ ঘটাননি কিংবা এক মুহূর্তের জন্যও বিমূঢ়তা দেখাননি, তার মধ্যে দোলাচল বা সিদ্ধান্তহীনতার কোনো লক্ষণ ছিল না। জেসিন্ডা ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন কঠোর ভাষায়, শোকাহত পরিবারের পাশে মানানসই পোশাকে যথাযথ সহানুভূতির সঙ্গে দাঁড়িয়েছেন, ভবিষ্যতের কথা ভেবে অস্ত্র আইনের সংস্কারে উদ্যোগ নিয়েছেন এবং বারবার বেদনার সঙ্গে নিহত মুসলিমদের নিউজিল্যান্ডের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করেছেন। তিনি যেন পশ্চিমের শ্বেতাঙ্গ বিশ্বের বর্তমান ইসলামবিদ্বেষী ভূমিকার মূর্তিমান প্রতিবাদ। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প, হাঙ্গেরির ওরবানের বিপরীত তার অবস্থান। বারবার তিনি নিউজিল্যান্ডকে সবার অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ হিসেবে পরিচিত করিয়েছেন।

নেতার ভূমিকার প্রভাব অবশ্যই জনগণের ওপর পড়েছে। জাতিবিদ্বেষী ঘটনার জন্য দেশবাসীর লজ্জা ও বিব্রত ভাব এবং ঘটনার প্রতিবাদ ও এর শিকার শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি তাদের আচরণে ভবিষ্যতের পৃথিবীর জন্য একটি আশাব্যঞ্জক চিত্রও ফুটে ওঠে। তারা জাতিবিদ্বেষ, সহিংসতা এবং অস্ত্রের জঙ্গি ব্যবহারের বিরুদ্ধে উদার মানবতার বারতা তুলে ধরেছে। আর এ কাজে যথাযথভাবে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তরুণ-রাজনীতিক ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন সবার প্রশংসার দাবিদার। আজকের অমানবিক সংঘাতময় বিশ্বে একজন রাষ্ট্রনেতার ভারসাম্যপূর্ণ মানবিক দায়িত্ববোধকে দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা দরকার।

advertisement
Evall
advertisement