advertisement
advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

স্বাস্থ্য খাত আক্রান্ত আশুসমাধান জরুরি

রিফাত মুনীর ইতি
২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৯ ০৯:১৮
advertisement

আমাদের দেশে চিকিৎসার প্রতি আস্থাহীনতার কথা জানিয়ে সরব হচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। চিকিৎসকরা স্বভাবতই বিষয়টি নিয়ে কিছুটা হলেও নাজুক অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। আমাদের পাস করা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অপ্রতুলতার পাশাপাশি চিকিৎসকদের আন্তরিকতা ও সেবাদানের মানসিকতা প্রশ্নবিদ্ধ দীর্ঘদিন থেকেই।

এ কারণেই এ দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সামান্য অসুস্থতায় বিদেশেযাত্রার প্রবণতা বাড়ছে। পার্শ্ববর্তী দেশের চিকিৎসা গ্রহণকারী এখন এ দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির বড় একটি অংশ। অন্যদিকে উচ্চবিত্ত সমাজের গন্তব্য সিঙ্গাপুর কিংবা থাইল্যান্ড। বছর কয়েক আগে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি অনাস্থার চিত্র তুলে ধরে বেসরকারি একটি টেলিভিশনÑ যেখানে দেশীয় এক চিকিৎসকের চিকিৎসা সুবিধা নিতে ভারত যাওয়া ছিল আলোচিত। এখন দেখা যাক এ দেশের চিকিৎসকদের প্রতি সাধারণ মানুষের অনাস্থার কারণটি। সড়ক দুর্ঘটনার জন্য যেমন এককভাবে আমরা চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনছি, ঠিক একইভাবে আশপাশের অন্যসব অনুষঙ্গ বাদ দিয়ে চিকিৎসকদের এককভাবে দায়ী করে যেন আমাদের স্বাস্থ্য খাতের অবনতিকে অনেক ক্ষেত্রেই পাশ কাটাতে চাইছি। এটি ঠিক যে, এ দেশে পাস করা ডাক্তারের অভাব রয়েছে জনসংখ্যার অনুপাতে।

এর চেয়েও প্রকট হয়ে উঠেছে ডাক্তারদের পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা। এ দেশে সরকারি হাসপাতালগুলোয় এমবিবিএস কোর্সে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীর পেছনেও লেখাপড়ার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের। ফলে পাস করে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবনে প্রবেশের পর পরই সেই শিক্ষার্থীর প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে যে কোনো মূল্যে তার পেছনে ব্যয়কৃত অর্থ একরকম পুনরুদ্ধার করা। তাই চিকিৎসাশাস্ত্রের নৈতিকতা পাঠ্যপুস্তকে বন্দি কিছু অর্থহীন কথার সমষ্টি হয়ে আছে এবং মানবিকতা বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

সমীক্ষা বলছে, এ দেশে রোগীকে একজন চিকিৎসক গড়ে সময় দেন মাত্র আড়াই মিনিট। এখন একজন রোগীর রোগ অনুসন্ধান দূরে থাক, তার পারিবারিক ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বুঝতেও তো একজন মানুষের কমপক্ষে ঘণ্টাখানেক লাগার কথা। অন্যদিকে চিকিৎসাসেবা শুধু রোগীর শারীরিক সমস্যার সমাধান নয়, বরং তাকে ভবিষ্যতে ভালো থাকার পথ বাতলে দেওয়াÑ এই সাধারণ জ্ঞানটুকু এ দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞান কতটুকু অনুসরণ করে? আদৌ করে কি? আবার একজন চিকিৎসক একজন মানুষও। তার শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি আছে, আছে পরিবার, প্রিয়জন ও ব্যক্তিগতজীবন।

এ সত্যটি কোনো এক বিচিত্র কারণে চিকিৎসকসমাজের বাইরের ব্যক্তিরা মানতে চান না এবং কোনোদিন চাননি। একই সঙ্গে যে কোনো চিকিৎসাসেবার সঙ্গে জড়িত প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরীক্ষার জন্য যন্ত্রপাতি, উন্নত সেবিকা, সর্বোপরি চিকিৎসকদের সেবার পরিবেশ সৃষ্টি, এগুলোর কোনোটিই নিশ্চিত না করে চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ত্রুটি বড় করে দেখানোয় বেড়ে গেছে রোগীর সঙ্গে তাদের দূরত্ব। তাই নানা জটিলতায় নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে যেতে হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবাকে।

বলা বাহুল্য, ওই উভয় শ্রেণির মধ্যে দূরত্ব কমানোর জন্য তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। অথচ উভয় শ্রেণিকেই প্রয়োজনীয় যথাযথ পরামর্শদান ও উন্নত আচরণের লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত মানসিক পরিচর্যা আজ সময়ের দাবি। অন্যদিকে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় দুর্নীতি এবং অব্যবস্থার চিত্র, প্রতিনিয়ত দালালচক্রের কঠিন প্রতারণার জাল, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার স্থানগুলোয় আর্থিক দুর্নীতি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাত্রা অতিরিক্ত ফি, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসকের অপ্রতুলতা, ভালোমানের হাসপাতালের অভাবসহ নানা সংকটে আমাদের স্বাস্থ্য খাত আক্রান্ত। এর আশুসমাধান জরুরি।

রিফাত মুনীর ইতি : শিক্ষক ও সাহিত্যিক

advertisement