advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শঙ্কায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা খুলনায় উপজেলা নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক,খুলনা
২৩ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৯ ০৯:২৩
advertisement

উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানামুখী শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন খুলনার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা। গত সোমবার রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে অস্ত্রধারীদের গুলিতে সহকারী প্রিসাইন্ডিং অফিসারসহ ৭ জন নিহত হওয়ায় এমন শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। চাকরিবিধিতে ঝামেলায় পড়ার ভয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা এ শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে আগামী ৩১ মার্চ খুলনার ৯ উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ৯ উপজেলায় ৫ শতাংশ অতিরিক্তসহ সম্ভাব্য প্রিসাইডিং ও সহ-প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন ৪ হাজার ২৮৯ জন। আর পোলিং অফিসার ৭ হাজার ৪৮০ জন। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সোমবার রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাচনে বাঘাইরহাট ও মাচালং ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা বাঘাইছড়ি ফিরছিলেন।

তাদের বহনকারী দুটি গাড়ি দীঘিনালা সড়কের নয় কিলোমিটার এলাকায় পৌঁছানোর পর পাশের পাহাড় থেকে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা হামলা করে। এ ঘটনায় ৭ জন নিহত হন। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধিক ঝুঁকির মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের। এ সময় নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রভাবশালীদের হাতে নিগৃহীত ও লাঞ্ছিত হতে হয়েছে অনেককেই। আর বেশিরভাগ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে থাকতে হয়েছে নীরব ভূমিকায়। প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনার নীরব সাক্ষী এসব কর্মকর্তা আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী নন।

অন্যদিকে গত বছর ১৫ মে অনুষ্ঠিত খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনটি কেন্দ্রে অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত ৫৭ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শান্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় অভিযুক্ত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের এক বছরের ইনক্রিমেন্ট বন্ধ, পদোন্নতি স্থগিত ও পরবর্তী সময় ভোটকেন্দ্রের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে পরামর্শ দিয়েছে। কয়েক কর্মকর্তা জানান, ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উভয় সংকটে পড়তে হয় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের। প্রভাবশালীদের কথামতো নির্বিকার না থাকলেও পড়তে হয় তোপের মুখে।

আবার প্রতিপক্ষ প্রার্থীও ক্ষমতাসীন হলে সে নির্বিকার হয়ে যায় গলার কাঁটা। উভয় গ্রুপের চাপে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখির শঙ্কাও রয়েছে। খুলনার তেরখাদা, রূপসা, কয়রা ও ডুমুরিয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডুমুরিয়া উপজেলাধীন স্কুলের একজন সহকারী শিক্ষক জানান, অনেক চেষ্টা করেছি নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে বিরত থাকতে, কিন্তু পারলাম না।

চাকরি রক্ষার্থে বাধ্য হচ্ছি দায়িত্ব পালনে। এখনই প্রভাবশালী দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। না জানি নির্বাচনের দিন কী হয়! একই এলাকার এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দুজনই ক্ষমতাসীন দলের। এ জন্য অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতেই পারে। সে ক্ষেত্রে নিরাপদে থেকে দায়িত্ব পালন করা চরম ঝুঁকিপূর্ণ হবে মনে হচ্ছে। সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে এলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় না। কয়রার সরকারি স্কুলের একজন শিক্ষক জানান, সরকারি দলের দুই নেতার মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এখানে।

২০১৬ সালের ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনেও কয়রা সদরে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট আরও ভয়াবহ। একইভাবে রূপসা, দীঘলিয়া, পাইকগাছা ও দাকোপে ক্ষমতাসীন দলেরই বিদ্রোহী প্রার্থী প্রভাবশালী হওয়ায় আতঙ্কিত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা। বটিয়াঘাটা ও ফুলতলায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা।

তবে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পক্ষ-বিপক্ষ উভয়েই প্রভাবশালী হওয়ায় বিরোধের শঙ্কা থেকেই যায়। খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ্ সাংবাদিকদের বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অধিক সংখ্যক ফোর্স মোতায়েন থাকবে। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এমন অপতৎপরতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান তিনি। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা এম মাজহারুল ইসলাম বলেন, খুলনার ৯ উপজেলার সব প্রার্থী শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচারে ব্যস্ত।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাচনের দুদিন আগে থেকে ভোটগ্রহণের দুদিন পর পর্যন্ত জুডিশিয়াল ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রসঙ্গত, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে খুলনার ৯টি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫০ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৬ জন প্রার্থী প্রচার চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে দুই চেয়ারম্যান ও একজন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

advertisement
Evall
advertisement