advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আশুলিয়ায় তুরাগ নদী তীরের ইটভাটাগুলোর কী হবে?

২৭ মার্চ ২০১৯ ১২:৫৭
আপডেট: ২৭ মার্চ ২০১৯ ১৩:০১
advertisement

নদীর তীরবর্তী এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটের ভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ হলেও সাভার উপজেলায় তুরাগ নদীর তীরে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ইটের ভাটা। সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে আশুলিয়া এলাকার ঢাকা ব্রিকস, রাজু ব্রিকস, আশরাফ ব্রিকস, মেঘনা ব্রিকস, মডার্ন ব্রিকস, ষ্টাইল ব্রিকস, সুরমা ব্রিকস ও এসএস ব্রিকসসহ ১২টি ইটভাটাকে ৯৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমদ অভিযান পরিচালনা করেন। ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে কর ফাঁকির মামলাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, ইটভাটার নির্গত কালো ধোঁয়ায় সাভার-আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা সবসময় ধোঁয়াচ্ছন্ন থাকে। ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ থাকলেও আইনকে তোয়াক্কা না করে ইটভাটার মালিকরা কাঠ পোড়ায়। পাশাপাশি গাড়ির টায়ার, পোড়া মবিল, পলিথিন ও রাবার জাতীয় দ্রব্যাদি পোড়ানোর কারণে চারপাশের পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ছে। আবাসিক এলাকায় ইটভাটা নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও সাভার-আশুলিয়ায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বহু ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ইটভাটার পাশেই রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, পোশাক কারখানা, হাট-বাজার, বাসস্ট্যান্ড। ফলে ইটভাটার ধোঁয়ায় কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে। ক্রমাগত ইটভাটার ধোঁয়া জনবহুল এলাকায় নির্গমনের ফলে এলাকাবাসী শ্বাসকষ্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিতে ভুগছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সাভার উপজেলায় ইটভাটা রয়েছে ১৮৩টি। এর মধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র আছে মাত্র সাতটির। তবে অসমর্থিত সূত্রের মতে সাভারে ইটভাটার সংখ্যা দুই শতাধিক।

২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া ভাটার অনুমোদন নিষিদ্ধ করা হয়। আবাসিক এলাকায় বছরের পর বছর ধরে ইটের ভাটা পরিচালনার ফলে শুধু জনস্বাস্থ্যেরই ক্ষতি হচ্ছে না। ভারি যানবাহনে ইটের ভাটার মালামাল পরিবহনের কারণে সড়কগুলো টেকসই হচ্ছে না। গেন্ডা-সাদাপুর সড়কটি ইটের ট্রাকের কারণে পায়ে হেঁটে চলাচলেরও অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।

আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগে সড়কটি মেরামত করা না হলে পথচারিদের দূর্ভোগের সীমা থাকবে না। এদিকে বাইপাইল-আশুলিয়া-আবদুল্লাপুর সড়কে ইটের ট্রাকের কারণে দিনরাত যানজট লেগেই থাকে। এইসব ট্রাকের বেশিরভাগেরই ফিটনেস নেই। ইটের ট্রাকের বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা। অতি সম্প্রতি আমিনবাজার এলাকায় ইটের ট্রাকের চাপায় নিহত হন রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের মোটরসাইকেল চালক আবদুল ওয়ালিদ চৌধুরী।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘যানবাহন থেকে শুরু করে ইট ভাটার কালো ধোঁয়া শিশুদের মানসিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য অবশ্যই দূষণমুক্ত পরিবেশ আবশ্যক।’