advertisement
advertisement
advertisement
DBBL
advertisement
advertisement

তিন কীর্তিমানকে সম্মাননা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ মার্চ ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০১৯ ০২:২৬
advertisement

তারা তিনজনই কীর্তিমান। তিনজনই দেশবাসীর প্রিয় মুখ; নিজ গুণে অগুনতি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত। দেশের তিনটি অঙ্গনে দ্যুতি ছড়ানো এ তিন ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন-শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও ক্রীড়াবিদ মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা। অভিজ্ঞতার ঝুলিতে আরও একটি বছর যোগ করে যখন নতুন একটি বছর শুরু করতে যাচ্ছে আমাদের সময়, তখন গর্বিত এ যাত্রায় সম্মানিত সঙ্গী হয়েছেন এ তিন শ্রদ্ধাভাজন।

দৈনিকটির তেজগাঁও কার্যালয়ের আম্রকাননে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দমুখর উৎসবে এ তিন খ্যাতিমানকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে আজীবন সম্মাননা প্রদান করেছে আমাদের সময়। ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন নতুন ভিশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহা. নূর আলী, তার হাতে তুলে দেন ক্রেস্ট ও সম্মাননা। সাবিনা ইয়াসমিনকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন নতুন ভিশন লিমিটেডের পরিচালক আলী হোসেন, হাতে তুলে দেন ক্রেস্ট ও সম্মাননা।

মাশরাফি বিন মোর্ত্তজাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়ার পর হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন আমাদের সময়ের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার। এর পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল সহজাত ভঙিমায় বলেন, ছোটবেলায় পুরস্কার পাওয়ার খুব ইচ্ছে হতো কিন্তু পেতাম না। পুরস্কার পেতাম না বলে কষ্ট পেতাম। এখন পুরস্কার নিতে গেলে লজ্জাবোধ করি। নিজের মধ্যে প্রশ্ন জাগে-আমি কাউকে ঠকিয়ে পুরস্কার নিচ্ছি না তো? আমাদের সময়ের পুরস্কার নিতে এসেছি, কারণ আমার পাশে আছেন সাবিনা ইয়াসমিন ও মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা। ইচ্ছে করলেও হয়তো তাদের পাশে বসে আমি পুরস্কার নিতে পারব না। এই ছবিটা নিয়ে আমি আমার প্রিয়জনদের দেখাব যে-দেখ, আমি সাবিনা ইয়াসমিন ও মাশরাফির মতো মানুষের পাশে বসে পুরস্কার নিয়েছি। সাবিনা ইয়াসমিন আমাদের সময়ের বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রশংসা করেন।

এ ধারাবাহিকতা অক্ষুণœ রেখে যুগ যুগ ধরে যেন দৈনিকটি বেঁচে থাকে, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এর পরই উপস্থিত সুধীজনের উদ্দেশে ভেসে আসে তার সুমধুর কণ্ঠে কালজয়ী সেই গান-‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’। দেশাত্মবোধক এ গান ছুঁয়ে যায় সবার হৃদয়। মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা শুধু ক্রীড়াবিদই নন, সম্প্রতি তিনি জনপ্রতিনিধিও হয়েছেন। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তাই তিনি প্রথমেই গতকাল বনানীর বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। টেনে আনেন চকবাজার অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গও।

বলেন, আগামীতে যেন এমন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা দেখতে না হয়, সে জন্য সবার সচেতন হতে হবে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে যারা বিপদগ্রস্ত, তাদের যেন আল্লাহ রক্ষা করেন, সেই প্রার্থনাও করেন তিনি। তাকে সম্মান জানানোয় আমাদের সময় পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও সাবিনা ইয়াসমিনের মূল্যায়ন করে মাশরাফি বলেন, ছোটবেলা থেকে যাদের দেখে বড় হয়েছি-‘অলটাইম লেজান্ডস’, তাদের সঙ্গে থাকতে পারা অবশ্যই আমার জন্য গর্বের।

তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমি হারতে চাইতাম না। তবে অবৈধভাবে জয়ের চেষ্টা কখনো করিনি। নিজের চেষ্টা ও দক্ষতা দিয়েই জয়ের চেষ্টা করতাম; কিন্তু পুরস্কার নিজে নিতাম না, অন্য কাউকে দিয়ে নেওয়াতাম। এ ক্ষেত্রে আমি জাফর ইকবাল স্যারের চেয়ে একটু ব্যতিক্রম। সম্মাননা প্রদানকালে দেওয়া বক্তব্যে নতুন ভিশনের এমডি মোহা. নূর আলী বলেন, আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যে গতি নিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, স্বাধীনতার পর জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করায় এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে দেশ সে রকম গতিতে এগোয়নি।

এ কারণে কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে এর উত্তরণ ঘটিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাবে। আমরা মেট্রোরেলের উদ্যোগ নিচ্ছি, অ্যালিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করছি, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল করছি। এ নিয়ে গর্ব হলেও যখন আবরারের মতো স্টুডেন্ট গাড়িচাপায় পিষ্ট হয়ে মারা যায়, চকবাজার ও বনানীতে আগুনে পুড়ে মানুষ মারা যায়, তখন খুব আহত হই। আমরা চাই সার্বিক অর্থেই আমাদের অগ্রগতি হোক। এ সময় তিনি গতকাল বনানীতে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের জন্য আমাদের সময়ের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ এবং নিহতদের আত্মার শান্তি ও আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।

আমাদের সময় সম্মাননাপ্রাপ্তদের উদ্দেশে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক বলেন, আপনারা যারা আজ পুরস্কার নিলেন, তারা প্রকৃতপক্ষে আমাদের গর্বিত করেছেন। আমাদের সময়ের সঙ্গে থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উপদেষ্টা সম্পাদক আবুল মোমেন বলেন, আমাদের সময়ের ১৫ বছরে পদার্পণ একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ কারণে যে, বাংলাদেশ উন্নয়নের দিকে একটা নতুন যাত্রা শুরু করেছে। এতটুকু বলতে পারি, আমাদের সময় একটা আস্থা অর্জন করেছে, এ আস্থা নিয়েই কাজ করতে চায়। নতুন ভিশনের পরিচালক আলী হোসেন বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দৈনিকও আস্থা ধরে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে নতুন আঙ্গিকে বের হচ্ছে। আশা করছি এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

নতুন ভিশনের পরিচালক এম আমানউল্লাহ বলেন, যে উদ্দেশ্যে আমাদের সময়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই দেশ ও মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে, সে উদ্দেশ্য নিয়েই দৈনিকটি এগিয়ে যাবে-এ প্রত্যাশা রাখি। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে আমাদের সময়ের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সন্তোষ শর্মা ও উপসম্পাদক দীপঙ্কর লাহিড়ীও উপস্থিত ছিলেন।

advertisement