advertisement
advertisement

পর্তুগালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

নাঈম হাসান পাভেল পর্তুগাল
১৫ এপ্রিল ২০১৯ ১৫:০৭ | আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৯ ১৫:০৭

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশি প্রবাসীরাও উদযাপন করেছে পহেলা বৈশাখ। বাংলাদেশের সঙ্গে মিল রেখে বাঙালির এই উৎসবকে কেন্দ্র করে আনন্দ-উৎসবে মেতে উঠে বাংলাদেশিরাও।

প্রবাসে কর্মব্যস্ততা এবং জীবনসংগ্রামে সবাই যখন হাঁপিয়ে ওঠেন, তখন বিদেশি সংস্কৃতির মাঝে শেকড়ের সন্ধানে প্রবাসীরাও মেতে উঠেন বাঙালি সংস্কৃতিতে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য বড় মাধ্যম এই পহেলা বৈশাখ। আর সেই লক্ষ্যেই প্রতিবছরের ন্যায় এবারও পর্তুগালে নানা আয়োজনে উদযাপন করা হয়েছে পহেলা বৈশাখ।

গতকাল রোববার বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন পর্তুগালের আয়োজনে দূতাবাস প্রাঙ্গনে স্থানীয় সময় বিকাল ৫:৩০ মিনিট থেকে শুরু হওয়া নানা অনুষ্ঠান আয়োজনে পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশিরা ছাড়াও পর্তুগালের স্থানীয় নাগরিকদেরও অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশ্বের বহুবিচিত্র সংস্কৃতির মাঝে বাঙালির সংস্কৃতি তুলে ধরার এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পেরে বিদেশিরাও আনন্দে মেতে উঠেন।

রাষ্ট্রদূত মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী অংশগ্রহণকারী অতিথীদের জন্য আয়োজিত নানা ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতে অনুরোধ জানান। ইভেন্টের মধ্যে ছিল নারীদের বালিশ খেলা। পুরুষ-নারী উভয়ের অংশগ্রহণে হাডিভাঙ্গা খেলা, এছাড়াও অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে আকর্ষণীয় রঙ্গিন বৈশাখী পোশাকের জন্য সেরা তিন দম্পতিকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

দূতাবাসে প্রবেশের সময় প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে একটি করে লাকী কুপন নম্বর দেয়া হয়। সেখান থেকে পরবর্তীতে লটারির মাধ্যমে সাতটি সান্তনা পুরস্কারসহ মোট দশটি পুরস্কার প্রদান করা হয়। একই সময় বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন রাষ্ট্রদূত মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী।

বৈশাখী আয়োজনের শেষে পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। পর্তুগাল প্রবাসী শিল্পীদের ব্যান্ড "রেয়ার" এর প্রাণবন্ত পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে আনে ভিন্ন মাত্রা। এছাড়াও বাংলাদেশি পোশাকের সাজে বাংলা গানের তালে নৃত্য পরিবেশন করেন ক্ষুদে শিল্পী আহনাফ ও তার দল।

সবশেষে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অতিথীদের পান্তা ইলিশ সহ হরেক রকম ভর্তার আয়োজনে রাতের খাবার পরিবেশন করা হয়। পহেলা বৈশাখ হওয়ায় এতে ঐতিহ্যবাহী সব খাবারের আয়োজন করে দূতাবাস।

পাজামা-পাঞ্জাবি, লাল-সাদা বাসন্তি রঙ্গের শাড়িতে এদিন লিসবনের বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গনের পরিবেশকে রঙ্গিন করে তুলেছিল। উৎসবের আমেজে এ যেন আনন্দমূখর এক ক্ষুদে বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ সময় পর পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও এই দিনটি কাটিয়েছে সম্পূর্ণ দেশীয় আমেজে। তাইতো পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা চিরনতুনের ডাক নিয়ে বারবার ফিরে আসুক এই বৈশাখ।