advertisement
advertisement

সরকারি প্রকল্পে রড বিক্রি করে দেখানো হয় রপ্তানি

তৈয়ব সুমন,চট্টগ্রাম
১৬ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৪৯

সরকারের বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পে চলতি বাজারমূল্যে রড বিক্রি করে কবির স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড (কেএসআরএম)। অথচ এ রড বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে বলে কাগজে কলমে দেখিয়ে সরকারের কাছ থেকেই উল্টো প্রণোদনা হিসেবে নগদ প্রায় ২০ কোটি টাকা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে তারা ফাঁকি দিয়েছে মূল্য সংযোজন করও (মূসক)।

সরকারের কাছ থেকে প্রত্যর্পণ (পণ্য রপ্তানির পুরস্কার হিসেবে নগদ টাকা গ্রহণ) সুবিধার অপব্যবহারের মাধ্যমে এ বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির তথ্য সম্প্রতি উদঘাটন করেছে কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। এর আগেও কেএসআরএমকে বিদেশে রড রপ্তানির নামে ফাঁকি দেওয়া দেড় কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। কিন্তু সেই অর্থও এখনো ফেরত দেয়নি তারা।

দাবিনামা অনুসারে, উৎপাদিত রড দেশের বাজারে বিক্রি করলে সরকারকে টনপ্রতি ৪৫০ টাকা কর দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে এ কর মওকুফ পায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি সরকারের কাছ থেকে উল্টো প্রতিটনে ১৩ হাজার ৩০০ টাকা প্রত্যর্পণ সুবিধাও পায়। অথচ কেএসআরএম দেশের বাজারে রড বিক্রি করে রপ্তানির মিথ্যা তথ্য দিয়ে উভয় সুবিধা নিয়েছে।

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সীতাকু- শাখা ২৪ জানুয়ারি এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কেএসআরএম স্টিল প্ল্যান্ট লিমিটেড রড সরবরাহের মাধ্যমে শতভাগ শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে। যা মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১-এর ধারা-২(শ) এবং ৩১ ক এর লঙ্ঘন। প্রতিষ্ঠানটি ‘অপব্যাখ্যা’র মাধ্যমে শূন্য হারে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে পণ্য সরবরাহ করে। কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাটের খাগড়াছড়ি বিভাগীয় কর্মকর্তা দ্বৈপায়ন চাকমা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কেএসআরএমের বিরুদ্ধে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে বিক্রি করা পণ্যকে রপ্তানি হিসেবে দেখানো সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করেন।

জানা যায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬ হাজার ২৯৯ দশমিক ৫ টন রড সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করেছে কেএসআরএম। এসব পণ্যের ওপর যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট (মূসক) আসে, তার পরিমাণ ৭৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭২ টাকা। আর দাখিলপত্রের মাধ্যমে বিধিবহির্ভূতভাবে গৃহীত শুল্ক ও কর প্রত্যর্পণ সুবিধাসহ মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে সরকারি প্রতিষ্ঠানে রড বিক্রির প্রতিবেদনটি কেএসআরএমের নথিতে পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই মাসসহ ফাঁকি দেওয়া করের অর্থের পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, কেএসআরএম গত দুবছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত। ওই পাঁচ মাসে কেএসআরএম ১ হাজার ৮৮ দশমিক ৯০ টন পণ্য বিভিন্ন প্রকল্পে বিক্রি করে রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে ৭ কোটি ৯৭ লাখ ৭৮ হাজার ৩০০ টাকা।

চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের সাবেক কমিশনার ও এনবিআর সদস্য সৈয়দ গোলাম কিবরীয়া বলেন, কেএসআরএম ক্রমাগত মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে দাবিকৃত রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।