advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কে দায়ী দেখতে চান হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:০৫

বিনাদোষে টাঙ্গাইলের পাটকল শ্রমিক নিরীহ জাহালমের তিন বছর কারাভোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন তলব করেছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, ‘এ ঘটনার জন্য কে দায়ী, সেটা আমরা দেখতে চাই।’ গতকাল বুধবার বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ ২ মের মধ্যে এ প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। এ সময় জাহালম হাইকোর্টে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার, অপরপক্ষে অ্যাডভোকেট অমিত দাশগুপ্ত; দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান।

জাহালম প্রশ্নে এর আগে গত ৬ মার্চ ব্যাংকঋণ জালিয়াতির ৩৩ মামলার এফআইআর, চার্জশিট, সম্পূরক চার্জশিট এবং সব ব্যাংকের এ সংক্রান্ত নথিপত্র হাইকোর্টে দাখিল করতে দুদককে নির্দেশ দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিলের মধ্যে এ নথিপত্র দাখিলের নির্দেশ ছিল। কিন্তু ওইদিন দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান সময় চান। এর পর ওইদিন জাহালম কেমন আছেন, কী করছেন, এগুলো জানতে তাকে আসতে বলে ১৭ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।

এর ধারাবাহিকতায় মামলাটি বুধবার শুনানির জন্য উঠলে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় নথি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে আদালতে আসেনি। এ সময় খুরশীদ আলম খান এ সংক্রান্ত দুদকের ৩৩টি মামলার নথি দাখিল করতে সময় চান। একপর্যায়ে আদালত বলেন, ‘এ ঘটনায় দুদকের করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন কি তৈরি হয়েছে?’ জবাবে খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘না।’ তখন আদালত বলেন, ‘এ প্রতিবেদন তৈরি হলে দাখিল করবেন। আমরা দেখব। এটার জন্য হু ইজ রেসপনসিবল (দায়ী)? আমরা এটা দেখব। প্রতিবেদনটা অনেক জরুরি। ৩৩ মামলার নথির সঙ্গে দাখিল করবেন।’

এর পর আদালত ২ মে পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেন। পরবর্তীতে খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মামলার ফাইল না থাকায় শুনানি হয়নি। দুদকের একটা ইন্টারনাল তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তাকে ২০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। তা শেষ হওয়ার আগে আরও সাতদিন সময় চেয়েছেন। কোর্ট ওই প্রতিবেদন দেখতে চাচ্ছেন। সমস্ত কিছু দেখতে চাচ্ছেন, জানতে চাচ্ছেন দায়টা কার!’

জানা যায়, সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। কিন্তু দুদকের ভুলে সালেকের বদলে তিন বছর ধরে কারাভোগ করতে হয় টাঙ্গাইলের জাহালমকে। এ নিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘স্যার আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনটি সেদিন বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের নজরে আনেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত। পরে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে গত ৩ ফেব্রুয়ারি নিরপরাধ পাটকল শ্রমিক জাহালমকে অর্থ জালিয়াতির মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে ওইদিনই মুক্তির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদেশ অনুযায়ী সেদিন মুক্তিও পান তিনি।