advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নিখোঁজের সাত বছর ইলিয়াসের অপেক্ষায় পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:১২

সাত বছর আগে নিখোঁজ হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলীর জন্য এখনো অপেক্ষা করছেন স্ত্রী-পুত্র ও কন্যাসহ তার পরিবার। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলার সভাপতি এম ইলিয়াস আলী গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন।

ওই রাতে রাজধানীর মহাখালী থেকে ইলিয়াস আলীকে বহন করা গাড়িটি পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। নিখোঁজের পর থেকে ইলিয়াস আলীর অপেক্ষায় রয়েছেন তার স্ত্রী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদির লুনা, পুত্র আবরার ইলিয়াস, লাবিব সারার ও আদরের মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল। পরিবারের সদস্যরা জানান, কোথাও কোনো উদ্ধারের ঘটনা শুনলেই মনে হয় ইলিয়াস আলীকে পাওয়া গেছে। গতকাল সন্ধ্যায় ইলিয়াস পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বনানীর বাসায় সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একের পর এক নির্যাতনের অপকৌশল নেয় বিরোধী পক্ষকে দমিয়ে দেওয়ার জন্য। আমার যখন ইলিয়াস আলীর কথা মনে হয় তখনই একজন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, সাহসী মানুষ যিনি কখনো নতিস্বীকার করেননি তাকে তারা সরিয়ে দিয়েছে, এই যে ভয়ের রাজত্ব সৃষ্টি করা, ভয়ের একটা ফোবিয়া তৈরি করা। আমরা এ অবস্থার অবসান চাই। আমরা মনে করি, জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ ধরনের নির্যাতনকারী, নিপীড়নকারী সরকারের পতন হতে বাধ্য। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, নির্বাহী সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা মানি, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

সরকারের দমননীতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, গুমের ব্যাপারটা আমাদের কাছে খুব একটা পরিচিত ছিল না। এনফোর্স ডিজ-এপিয়ারেন্স, এটা আমরা বইয়ে পড়তাম, ল্যাটিন আমেরিকায় এসব ঘটনা ঘটতো জানতাম। বাংলাদেশে এটা শুরু হলো এ জালিম সরকার আসার পর থেকেই, সেটা ২০১১-১২ সালে শুরু হয়। এর পর আমরা জানি, আমাদের অনেক নেতাকর্মী, বিরোধী দলের নেতাকর্মী, ট্রেড ইউনিয়নের নেতা গুম হয়ে গেছেন। এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি গুম আছেন যেমন একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.), একজন ব্যারিস্টারসহ অনেকেই। ২০১৩ সালের দিকে যখন আন্দোলন চরম পর্যায়ে সেই সময়ে একসাথে অনেক ছাত্রনেতা গুম হয়েছেন। এর মধ্যে শাহিনবাগের মামুন, সুমন, মুন্নাসহ অনেকে। তাদের পরিবার আশা করে হয়তো তারা ফিরে আসবে কিন্তু এখনো ফিরে আসেনি। এ রকম একটা নজিরবিহীন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে এ সরকার।