advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ওয়াসার পানি ফোটাতে পোড়ে ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:০০

ওয়াসা পাইপলাইনে যে পানি সরবরাহ করে তা ফুটিয়ে পানের উপযোগী করতে গ্রাহকদের বছরে ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাস খরচ করতে হয়। এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ধানম-িতে নিজ কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি তুলে ধরে সংস্থাটি। ‘ঢাকা ওয়াসা : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদনে টিআইবি জানায়, ওয়াসার পানি সরাসরি পানযোগ্য নয়। প্রায় ৯১ শতাংশ গ্রহীতা এ পানি ফুটিয়ে পান করেন।

এ জন্য বছরে ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাস ব্যয় হয়। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ঢাকা ওয়াসা পাইপলাইনের মাধ্যমে এখনো সুপেয় পানি সরবরাহ করতে পারেনি।

পানি ফোটাতে প্রতিবছর যে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে তা বাঁচানোর কোনো উদ্যোগ এখনো নেয়নি ওয়াসা। অথচ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হয়। এশিয়ার অনেক দেশেও পানি ফুটিয়ে পানের প্রয়োজন হয় না। ঢাকা ওয়াসাকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার। গবেষণায় ওয়াসার ১০টি মডস জোনের দুই হাজার ৭৬৮ জন গ্রাহকের মতামত নেওয়া হয়।

জরিপের ফলে পাওয়া গেছে, এ গ্রাহকদের ২০ দশমিক ৬ শতাংশ বছরের সবসময় পানি সরবরাহে ঘাটতির কথা বলেছেন এবং ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশই (এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি) ওয়াসার সেবায় অসন্তুষ্ট। ২০ দশমিক ১ শতাংশ গ্রাহক সন্তুষ্ট এবং ৪২ শতাংশ গ্রাহক মোটামুটি সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন। চাহিদা অনুযায়ী পানি না পাওয়ার হার বস্তি এলাকায় সবচেয়ে বেশি। সেখানে ৭১ দশমিক ৯ শতাংশ চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না। আবাসিক এলাকায় ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ, বাণিজ্যিক এলাকায় ৩৪ দশমিক ৯ ও শিল্প এলাকায় ১৯ শতাংশ চাহিদা অনুযায়ী পানি মেলে না।

সার্বিক সেবাগ্রহীতাদের ৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। ওয়াসার অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেবাগ্রহীতাদের ৮৬ দশমিক ২ ভাগ ওয়াসার কর্মচারী এবং ১৫ দশমিক ৮ ভাগ দালালকে ঘুষ দিয়ে থাকেন।

এর মধ্যে পানির সংযোগ গ্রহণে ২০০ থেকে ৩০ হাজার টাকা, পয়োলাইনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণে ৩০০ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা, গাড়িতে করে জরুরি পানি সরবরাহে ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা, মিটার কেনা বা পরিবর্তনে এক হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা, মিটার রিডিং ও বিল সংক্রান্ত বিষয়ে ৫০ থেকে ৩ হাজার টাকা এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়।

এসব সমস্যা উত্তরণে ১৩টি সুপারিশ করেছে টিআইবি। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জন্য তিনটি এবং ওয়াসার জন্য ১০টি সুপারিশ রয়েছে। এ ছাড়া ওয়াসার ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা একাধিক কর্তৃপক্ষের হাতে না রেখে একটি কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে টিআইবি।