advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

অনিরাপদ পানি ব্যবহার করছে দুই কোটি ১৬ লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৫২

দেশে এখনো ২ কোটি ১৬ লাখ মানুষ অনিরাপদ পানি ব্যবহার করছে। যদিও নিরাপদ পানির ব্যবহার আগের তুলনায় বেড়েছে; এ কারণে বেড়েছে দেশের মানুষের গড় আয়ুও। তবে এসডিজি, এমডিজি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা না থাকলেও দেশের সাধারণ মানুষের উন্নতির লক্ষ্যে নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন নিয়ে কাজ করতে হতো।

গতকাল দৈনিক আমাদের সময়ের কনফারেন্স রুমে র্ডপ ও আমাদের সময়ের যৌথ আয়োজনে ‘২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রত্যাশা ও করণীয় : এসডিজি-৬ এবং ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা’ শীর্ষক প্রাকবাজেট আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন এনজিও নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে, বিধায় সরকার এ খাতে দ্রুত সাফল্য লাভ করছে। অনেক দিক থেকে ভালো অবস্থায় রয়েছি আমরা। বর্তমানে সরকার এ বিষয়গুলো আরও গুরুত্বসহকারে দেখছে। গ্রামকে শহরে পরিণত করার বিষয়ে তিনি বলেন, শহরের সব উপাদানÑ বিদ্যুৎ, নিরাপদ পানি, সড়কসহ সব সুবিধা ইতোমধ্যেই গ্রামের লোকেরা পেয়ে গেছে। ফলে গ্রামকে শহরে পরিণত করতে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না।

দৈনিক আমাদের সময়ের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর ও র্ডপ-এর পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণের পরিচালক যোবায়ের হাসান। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ সাল নাগাদ সবার জন্য নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা দিতে হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ও সবার জীবাণুমুক্ত জীবনের পাশাপাশি নারী স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে। আগামী বাজেট নির্বাচনপরবর্তী প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে ভিশন-২০২১ ও ভিশন ২০৪১-এর পাশাপাশি সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন করা হবে। পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও জীবাণুমুক্ত (ওয়াশ) একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ওয়াশ প্রকল্পের বাস্তবায়নে নানা ধরনের কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন স্থাপনে যথেষ্ট ইতিবাচক।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ‘ওয়াশ’ সংক্রান্ত এসডিজির ৬.১, ৬.২, ৬ এ ও ৬ বি নিয়ে কাজ করার বেশি সুযোগ পাবে। বাজেটে ‘ওয়াশ’ প্রকল্পে পৃথক বরাদ্দ নিরূপণ করা কঠিন। নিরাপদ পানি সরবরাহে পানিবাহিত রোগ কম হয়। এ ছাড়া মৃত্যুর হারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস পায়। বর্তমানে বাংলাদেশে ৮৭ শতাংশ নিরাপদ পানি ব্যবহার করা হয় যা দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচওর ২০১৫ সালের করা সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যবহার করেন ৬১ শতাংশ মানুষ। যদিও বিবিএসের তথ্যমতে, এটি ৭৭ শতাংশ।

এতে আরও বলা হয়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ‘ওয়াশের’ বাজেটে রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে যা হবে ৪ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে তা ৫ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা হবে। কিন্তু ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের মোট ১৫.৩২ শতাংশ ‘ওয়াশ’ খাতে বরাদ্দ ছিল। কিন্তু ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়াবে ১৫.৩০ শতাংশ। আর আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরে ১৫.৩১ শতাংশ হবে।

তবে ‘ওয়াশ’ প্রকল্পে ওয়াসার উন্নয়ন বাজেটে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৭৫.৭৪ শতাংশ বরাদ্দ ছিল, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭৬.৬২ শতাংশ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭৬.৬২ শতাংশ হবে। ফলে যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চল ওয়াসার আওতায় নেই, সে এলাকায় উন্নয়নের সম্ভাবনা কম থেকে যায়। ‘ওয়াশ’ খাতে মাথাপিছু ২৭৪ টাকা ব্যয় হবে মাত্র।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ গোলাম সারওয়ার বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এশিয়ায় শীর্ষ পর্যায়ে আছে বাংলাদেশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.১৩ শতাংশ ধরা হয়েছে, যেখানে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭.৫ শতাংশ। এর পরও আমাদের বাজেট বাস্তবায়ন এখনো কাক্সিক্ষত আকারে হয়নি। আমরা অনেক বড় বাজেট দিচ্ছি; কিন্তু বাস্তবায়নে অনেক গাফিলতি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াশ’ বাজেটের বরাদ্দে ৮৩.৭২ শতাংশ শহরাঞ্চল আর গ্রামাঞ্চলে ১৬.২৮ শতাংশÑ এটি খুবই হতাশার। আমরা পানি পেয়েছি কিন্তু তা কতটুকু নিরাপদ জানা প্রয়োজন। পয়ঃনিষ্কাশনের সঠিক ড্রেনেজব্যবস্থা করা হয়েছে কিনা সেদিকেও নজর রাখতে হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এসব বিষয়ে অনেক বেশি নজর দিতে হবে, অনেক বেশি খেয়াল করতে হবে, যেন সব সূচকে আমরা এগিয়ে যেতে পারি, জানান তিনি।

র্ডপ চেয়ারম্যান আজহার আলী তালুকদার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বাজেটে অনেক অর্থ বরাদ্দ থাকলেও বছর শেষে ওই অর্থ উত্তোলন করা যায় না। এ পর্যন্ত অনেক অর্থ উত্তোলন করতে না পারায় বাতিল হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে জটিলতাও রয়েছে। এ জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রচেষ্টা থাকতে হবে। আগামী বাজেটে এসব বিষয় সহজ করতে পরিকল্পনামন্ত্রীর সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, যেসব বিষয় নিয়ে বাজেট প্রণীত হবে, তার অনেকটাই নিয়ে র্ডপ কাজ করছে। যেমন-পানি ও স্যানিটেশন। আজকের আলোচনার মধ্য দিয়ে আগামী বাজেট প্রণয়নে কিছুটা হলেও কাজে আসবে।

আলোচনাসভায় স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য ফিরোজ আহমেদ বলেন, এসডিজির ‘ওয়াশ’ খাতে বাজেটের ৪৭ শতাংশ অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে না। সরকারের অনেক অর্থই ব্যবহার করার সক্ষমতা আছে কিনা তাও ভাবার বিষয়। আগে পানি সরবরাহের নিশ্চয়তা নিয়ে কাজ করলেও এখন নিরাপদ পানি ও এর ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পানি ড্রেনেজব্যবস্থা নিয়ে গ্রামে কম হলেও শহরে অনেক সমস্যা রয়েছে।

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. হামিদুল হক বলেন, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গ্রাম-শহরে শতভাগ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার কথা বলা আছে। কিন্তু এখনো দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষেরা বিশুদ্ধ পানির আওতায় আসতে পারেনি। তিনি বলেন, পিছিয়ে পড়া মানুষদের উন্নয়নে এনজিওর অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের পাশাপাশি এনজিওগুলোকেও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক তারিক হাসান শাহরিয়ার বলেন, শহর ও গ্রামের মধ্যে পানিপ্রাপ্তিতে বৈষম্য রয়েছে। এ বৈষম্যের কারণে গ্রামের জমির উর্বরতা কমে আসছে, মানুষ ও প্রাণীর রোগবালাই বাড়ছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিশুদ্ধ খাবার পানির স্বল্পতা রয়েছে। এসব এলাকার মানুষকে ১০ থেকে ১৫ মাইল পাড়ি দিয়ে খাবার পানির ব্যবস্থা করতে হয়। ফলে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার বেশি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গেলে শহর ও গ্রামের পানিবৈষম্য দূর করতে হবে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানিরও জোগান দিতে হবে।

ওয়াটার এইডের পরিচালক (প্রোগ্রাম অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি) লিয়াকত আলী বলেন, সিটি করপোরেশনে ওয়াসার আওতাভুক্ত এলাকায় বরাদ্দ বেশি থাকে। এ বৈষম্যের কারণে অনেক কাজ এখনো সম্পূর্ণরূপে ‘ওয়াশ’ প্রকল্পে বাস্তবায়ন হয় না। এসডিজি বাস্তবায়নে ১ হাজার ১০৭ বিলিয়ন টাকা লাগবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি ও পিপিপির পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং ভাতা ও দানের ওপর নির্ভর করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখন আমাদের সংজ্ঞায়নেও বড় সমস্যা রয়ে গেছে।

ভার্কের নির্বাহী পরিচালক মি. ইয়াকুব হোসেন বলেন, এসডিজি ৬ অর্জনে এখনো আমাদের সাফল্য ৮৭ শতাংশ, তা ১০০ শতাংশ হতে হলে এসডিজি বাস্তবায়ন আরও সহজ করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিবছরে ব্যয় কত হবে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া উচিত। এককালীন অর্থ দিয়ে তা নিয়ে বসে থাকা যাবে না। এ ছাড়া এ বরাদ্দের দায়বদ্ধতা কোথায় থাকবে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন। আর সবার সচেতনতার জন্য আমাদের দেশের গণমাধ্যমগুলোকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।

ওয়াশ অ্যালায়েন্স ইন্টারন্যানশাল সিমাভীর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর অলক মজুমদার বলেন, এসডিজি ৬ বাস্তবায়নের জন্য মোট প্রয়োজনের ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ঘাটতি থাকছে। এসডিজি বাস্তবায়নে এ ধরনের বরাদ্দ ঘাটতি কাম্য নয়। আন্তর্জাতিক হিসেবে কোনো পাবলিক প্রতিষ্ঠানে প্রতি ২৫ জনে একটি টয়লেট থাকছে। কিন্তু আমাদের দেশে এর বাস্তবায়ন হয় না বললেই চলে। তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালে নিরাপদ পানি সরবরাহের বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এর হার মাত্র ৫৬ শতাংশ। প্রতিবছরে বৃদ্ধি পাচ্ছে ১ শতাংশ করে। এ হারে চলতে থাকলে ২০৩০ সাল নাগাদ এটি বাস্তবায়ন অসম্ভব। এসডিজি বাস্তবায়নে এককালীন লক্ষ্যমাত্রা না নিয়ে ২০২৫ ও ২০৩০-এ দুটো ভাগে ভাগ করে বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।
বাংলাদেশে হেলভেটাস সুইস করপোরেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্যাসপার গ্রোসেনবাচার বলেন, বাজেট বৃদ্ধি পাচ্ছে, কিন্তু বাজেটের আকারে ‘ওয়াশ’ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাজেটে বরাদ্দের অর্থ যেন অন্য কোনো খাতে ব্যয় না হতে পারে সে ক্ষেত্রে যথাযথ নজর রাখতে হবে।

সিইজিআইএসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এটিএম সামছুল আলম বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশের ভূগর্ভস্থ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে নদী-নালা, খাল-বিল ইত্যাদি ফিরিয়ে আনতে আমাদের যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া উপকূল, খরাপ্রবণ অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে ওয়াশের কার্যক্রম চলছে না। এ ধরনের বৈষম্য দূর করা উচিত।

ইউএসটির নির্বাহী সম্পাদক শাহ মো. আনোয়ার কামাল বলেন, ওয়াশের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত। আমাদের কাজে ও পরিকল্পনায় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। অনেক স্থানে টিউবওয়েল বসানোর পাশাপাশি আবার পাইপলাইনও স্থাপন করছি। কিন্তু এই দুটো স্থাপনের ফলে একটি কোনো কাজে আসছে না। এ ক্ষেত্রে আগে নির্ধারণ করতে হবে, আমাদের কোন কাজটি আগে করা প্রয়োজন।

র্ডপ-এর পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণের পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। আর ‘ওয়াশ’ খাতে জনপ্রতি বাজেট বরাদ্দ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

হেলভেটাস সুইস করপোরেশন বাংলাদেশের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাজেটের কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধির তাগিদ দেন। এ ছাড়া তিনি সব নাগরিকের সুবিধা ও তাদের কথা চিন্তা করে পরিকল্পনা দেওয়ার পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমাদের সময়ের উপ-সম্পাদক দীপঙ্কর লাহিড়ী, র্ডপ-এর মিডিয়া ম্যানেজার আ হ ম ফয়সল, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মো. আমির খসরু, আমাদের সময়ের সম্পাদকীয় বিভাগের এমিলিয়া খান প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইভান সাইর।