advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

তদন্তকেন্দ্রে ঢুকে তিন পুলিশকে পেটাল ছাত্রলীগ

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০৮:৫৪

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে একাদশ শ্রেণির ছাত্র দিদারকে আটকের পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে গোপালদী পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। গতকাল বুধবার দুপুরে গোপালদী পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজয় সাহার নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়।

এ সময় তারা একজন এটিএএসআইসহ তিন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী পৌরসভার নজরুল ইসলাম বাবু কলেজ, সদাসদী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও গোপালদী ফাজিল মাদ্রাসা একই স্থানে অবস্থিত।

advertisement

ওই তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরা দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় বখাটেদের দ্বারা ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি এ নিয়ে কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ায় গোপালদী তদন্তকেন্দ্র থেকে একটি টিম প্রতিদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টহল দিতে থাকে।

তারই অংশ হিসেবে গতকাল বেলা ১১টার দিকে গোপালদী নজরুল ইসলাম বাবু কলেজে একাদশ শ্রেণির ছাত্র দিদারকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে আটক করে পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে নিয়ে আসেন এটিএএসআই মো. মামুন।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গোপালদী পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজয় সাহা তার অনুসারীদের নিয়ে তদন্তকেন্দ্রে এসে এটিএএসআই মামুনের কাছে দিদারকে আটকের কারণ জানতে চান। এ নিয়ে বাগ্বিত-ার এক পর্যায়ে সুজয় সাহা এটিএএসআই মামুনের নাকে ঘুষি মারেন। এতে এটিএএসআই মামুন লুটিয়ে পড়লে কনস্টেবল আবুল বাশার ও ইমরান তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন।

সে সময় সুজয় ও তার সঙ্গীরা তাদেরও পিটিয়ে জখম করে। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সুজয়সহ শিক্ষার্থী দিদারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এদিকে সুজয় সাহা আটকের সংবাদ পেয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী থানায় ভিড় করেন।

তারা আটককৃতদের ছেড়ে দিতে পুলিশকে চাপ দেন। এক পর্যায়ে আটকের ছয় ঘণ্টা পর পুলিশ সুজয় ও দিদারকে ছেড়ে দেয়। পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আহম্মেদ আপন জানান, দিদার তার ব্যবহারিক খাতা কিনতে লাইব্রেরিতে যাওয়ার সময় পুলিশ তাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এ নিয়ে সুজয় সাহার সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটি হয়।

এটিএএসআই মামুন জানান, সুজয় সাহা তদন্তকেন্দ্রে ঢুকেই দিদারকে কে ধরে এনেছে বলেই গালিগালাজ করতে থাকে। তাকে শান্ত হয়ে বসার কথা বললে সে আরও উত্তেজিত হয়ে আমাকে মারধর করে। আমাকে রক্ষা করতে গিয়ে কনস্টেবল আবুল বাশার ও ইমরানও হামলার শিকার হন। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, শিক্ষার্থী দিদার ও সুজয় সাহার সঙ্গে পুলিশের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।