advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্যানেল মেয়রের দিকে অভিযোগের তীর

নিজস্ব প্রতিবেদক,বগুড়া
১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৫৪

বগুড়ায় বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন খুনের পেছনে পরিবহন ব্যবসা নিয়ে বিরোধই প্রধান কারণ। আর এ হত্যাকাণ্ডের জন্য শাহীনের পরিবারের পক্ষ থেকে বগুড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামকে দায়ী করা হয়েছে। তার নির্দেশেই কিলার গ্রুপের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে পুলিশও অনেকটাই নিশ্চিত।

তবে জড়িত আসামিদের একজনকেও এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি তারা। এদিকে নিহত শাহীনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ বৃহস্পতিবার সকালে তার বাড়িতে যাবেন। এর আগে নৃশংস খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় বগুড়া সদর থানায় মামলা করেন নিহতের স্ত্রী আকতার জাহান শিল্পী।

মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে পৌরসভার প্যানেল মেয়র আমিনুল ইসলামকে। তার পরই আছেন আমিনুলের সহযোগী হিসেবে পরিচিত শহরতলীর বড় কুমিড়া এলাকার সোহাগ, ছোটকুমিড়া সরদারপাড়ার বিদ্যুৎ, পশ্চিমপাড়ার মাহমুদ, আজিজুল ইসলাম কাইল্লা ও শহরের নিশিন্দারা এলাকার পায়েল। পুলিশ বলছে হত্যাকাণ্ডের পর পরই খুনিরা গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

আকতার জাহান শিল্পী দাবি করেন, পরিবহন ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই তার স্বামী শাহীনকে হত্যা করা হয়েছে। পরিবহন ব্যবসা নিয়ে মালিক সংগঠনের একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধ ছিল তার স্বামী মাহবুব আলমের। সেই বিরোধের জেরেই ভাড়াটে খুনি দিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয় হত্যাকাণ্ডের পরও মামলা করার আগেই প্রভাবশালী মহল থেকে পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তারা এখনো আতংকের মধ্যে রয়েছেন।

এদিকে মাহবুব আলম খুনের ঘটনা তদন্তে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) আরিফুর রহমান মণ্ডলকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্যরা হলেন-সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিদর্শক নূরে এ আলম সিদ্দিকী, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান, ডিবির পরিদর্শক আছলাম আলী, উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম এবং ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আমবার আলী।

পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁইয়া জানান, হত্যাকা-ের ক্লু পরিষ্কার হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। শিগগিরই তাদের ধরা সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে প্যানেল মেয়র আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনের খুনিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে বিএনপির পক্ষ থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বগুড়া প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মানববন্ধন পালন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। মিছিলটি প্রেসক্লাব থেকে জিরো পয়েন্ট সাতমাথা হয়ে দলীয় কার্যালয়ের দিকে চলে যায়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিএনপি নেতা শাহীনকে কেন খুন করা হয়েছে, কারা করেছে তা সবই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানে। মামলাও করা হয়েছে। এখন হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। কর্মসূচি চলাকালে বক্তৃতা করেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন, রেজাউল করিম বাদশা, ডা. মামুনুর রশিদ মিঠু ও জেলা মহিলা দলের সভানেত্রী লাভলী রহমান।

এদিকে জেলা বিএনপি সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, নিহত শাহীনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ বৃহস্পতিবার সকালে তার বাড়িতে যাবেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাবেন। গত ১৪ এপ্রিল রাতে বগুড়া শহরের উপশহর বাজারে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন।