advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

যাত্রী বাড়লেও সেবা বাড়াতে রাজি নয় যান্ত্রিক বিভাগ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল

মো. মহিউদ্দিন,চট্টগ্রাম
১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৫৪

পহেলা বৈশাখ ঘিরে তিন দিনের সরকারি ছুটি উপলক্ষে গত ১৪ এপ্রিল দেশের প্রধান পরিবহন সেবা খাত রেলের যাত্রী চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া এদিন চট্টগ্রাম মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় যাত্রীদের চাপ আরও বেড়ে যায়। ফলে ওইদিনের আন্তঃনগর সোনার বাংলায় চার এবং তূর্ণা নিশীতা ট্রেনে ছয়টি অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করে পরিবহন বিভাগ।

এসব কোচের টিকিটও বিক্রি হয়ে যায়। তূর্ণার ছয়টি কোচে কেবল ওইদিন সরকারের প্রায় ৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীরা সেবা পেয়েছে। অথচ রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং যাত্রীসেবা বাড়াতে মোটেও রাজি নয় রেলের যান্ত্রিক বিভাগ।

advertisement

বিকাল পাঁচটায় সোনার বাংলা চট্টগ্রাম ছেড়ে যাওয়ার পর তূর্ণার ছয়টি কোচ বাতিলের আদেশ জারি করেন প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান। এতে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে পরিবহন বিভাগ। পরে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় বগিগুলো সংযোজন করে ট্রেন পরিচালনা করলেও এর পর থেকে ১৬ বগির অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করতে হলে প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলীর অনুমোদন লাগবে বলে কন্ট্রোল অর্ডার জারি করা হয়, যা বেআইনি এবং বিধিবহির্ভূত। কারণ রেলওয়ের টাইমটেবিল-৫১ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২২টি বগি লাগানোর ক্ষমতা প্রধান পরিবহন কর্মকর্তাকে দেওয়া আছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক যান্ত্রিক বিভাগের অজুহাতকে আমলে নেওয়ার কারণে এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। যাত্রীসেবা বাড়াতে তারও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। এ ধরনের নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে রেল পরিচালনা করলে যাত্রীসেবা কমার পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও কমবে। জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলরত প্রথম শ্রেণির আন্তঃনগর ট্রেনগুলোয় সর্বোচ্চ ২২টি করে ৪৪টি (আসা-যাওয়া) কোচ সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। রেল ভবনের অনুমতি থাকায় সে অনুযায়ী টাইম-টেবিল বইয়ে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু যাত্রী চাহিদার পরও অধিকাংশ সময়ে ১৬ থেকে ১৮ কোচ নিয়ে চলছে ট্রেনগুলো। যান্ত্রিক বিভাগের অনীহার কারণে স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশন অনুযায়ী ট্রেন চালানো যাচ্ছে না। এতে যাত্রীরা রেলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আয়ও কমছে। কখনো কখনো বিশেষ নির্দেশনায় ২০ থেকে ২১ কোচ চলাচল করলেও যান্ত্রিক ত্রুটির আশঙ্কা তুলে ধরে যান্ত্রিক বিভাগ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রেলের রাজস্ব আয় ও যাত্রীসেবা বৃদ্ধিতে পরিবহন ও বাণিজ্যিক বিভাগ কাজ করে থাকে। অন্য বিভাগগুলো এ দুই বিভাগকে সহযোগিতা করে। এ ছাড়া অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করতে আগে রেল ভবনের অনুমতি নিতে হতো। কিন্তু বর্তমানে তা বাতিল করে প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ও প্রধান পরিবহন কর্মকর্তাকে এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ যাত্রীর চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অতিরিক্ত কোচ সংযোজন করতে পারবেন তারা। যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের কাজ হলো চাহিদা অনুযায়ী কোচ ফিট দেওয়া।

এ ছাড়া গত বছরের ৩১ জুলাই রেল ভবনে অনুষ্ঠিত মাসিক পর্যালোচনাসভায় তৎকালীন রেলের ডিজি আমজাদ হোসেন রাজস্ব আয় বাড়াতে যেসব ট্রেনে যাত্রী চাহিদা বেশি এবং আয় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে সেসব ট্রেনে কোচ কম্পোজিশন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী নিজের ইচ্ছা মতো কাজ করছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী মিজানুর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশনের (১৬ বগি) বেশি কোচ সংযুক্ত করতে হলে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। টিকিট বিক্রি করে হঠাৎ করে কোচ চাইলে কোত্থেকে দেব?

তবে রেলের মহাপরিচালক (ডিজি) কাজী মো. রফিকুল আলম বলেন, পরিবহন বিভাগকে সর্বোচ্চ ২২ বগি পর্যন্ত চালানোর অনুমোদন দেওয়া আছে। ১৬ বগির বেশি কোচ সংযোজনে যান্ত্রিক বিভাগের অনুমতির প্রয়োজন নেই। এ ধরনের নির্দেশনা জারি করারও সুযোগ নেই প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলীর। রেলের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, একটি ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে ১৪টি কোচ নিয়ে ঢাকা গেলে যে পরিবহন খরচ হয় ২২ কোচ নিলেও একই খরচ। এ ছাড়া রেলের আয় বাড়ে। সরকারের ভর্তুকি কমবে। অন্যদিকে যাত্রীরাও চাহিদা অনুযায়ী টিকিট পান। কিন্তু যান্ত্রিক বিভাগের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি না থাকায় যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

তারা আরও বলছেন, সড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি, দীর্ঘ যানজট এবং নিরাপদ বাহন হিসেবে দেশের মানুষ এখন ট্রেনবান্ধব। ফলে জনগণকে রেলসেবা দিতে না পারলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।