advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রয়োজনে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে

১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৩৯

দল ক্ষমতায় থাকলে তার শতভাগ সুবিধাই শুধু নয়, অনৈতিক সুবিধাও নেতাকর্মীরা নিয়ে থাকেন এমন অভিযোগ এ দেশে নতুন নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অন্যরকম। সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনায় দলের মাঠপর্যায়ের নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সব শেষ ফেনীর সোনাগাজীর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে তিনি দলে নজরদারি বাড়াচ্ছেন। আমরা তার এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। বলার অপেক্ষা রাখে না সব আমলেই আমরা দেখেছি দলীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করে এলাকায় প্রভাব-প্রতিপত্তিই শুধু নয়, অনৈতিকভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ছিল। বর্তমানে ক্ষমতার লোভে এখন অনেক আদর্শহীন নেতাও আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে।

দলীয় নেতৃত্বের উচিত এসব সুবিধাবাদী মানুষে যেন দল ভারী না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা। তবে এ কথা মানতে হবে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার গত দুই মেয়াদে দেশকে একটি ইতিবাচক অবস্থানে নিয়ে গেছে। দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। দেশের অর্থনীতি একটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। টানা কয়েক বছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল। বিশ্বমন্দার প্রভাব থেকে মুক্ত থেকেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ সম্মানের আসন পেয়েছে।

তবে ভুলে গেলে চলবে না যে কোনো সরকারের জনপ্রিয়তা নির্ভর করে ক্ষমতাসীন দলের আচরণের ওপর। জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলে দল যত জনপ্রিয় হবে, সরকারের জনপ্রিয়তা তত বাড়বে। আর দলের জনপ্রিয়তা নির্ভর করে নেতৃত্বের ওপর। গুটি কয় নেতার জন্য সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হোক সেটা নিশ্চয়ই কাম্য নয়। সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে যথার্থই বলা যায়। দলকে অসৎ লোকদের হাত থেকে রক্ষা করতে আর দেরি না করে এখনই শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। দলের ভাবমূর্তি যাদের কারণে নষ্ট হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে দলই উপকৃত হবে বলে আমরা মনে করি।