advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শুধু খুলনায় নয় প্রতিটি কারাগারে অভিযান প্রয়োজন

১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০
আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৩৮

‘রাখিব নিরাপদ দেখাব আলোর পথ’ এটি হচ্ছে বাংলাদেশ জেলের স্লোগান। দেশের প্রতিটি কারাগারের প্রধান ফটকে এই স্লোগানটি লেখা রয়েছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থেই কি আলোর পথের দেখা মিলছে। দুঃখজনক হলেও সত্য খুলনা জেলা কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনের সাক্ষাৎ ও কারা হাসপাতালে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

হটলাইনে (১০৬) অভিযোগ পেয়ে প্রতিষ্ঠানটি গত মঙ্গলবার কারাগারে অভিযান চালায়। দুদকের টিম দেখতে পায়, ১০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে কয়েদিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে কারাগারে। এমনকি উৎকোচের বিনিময়ে সুস্থ কয়েদিকে অসুস্থ সাজিয়ে হাসপাতালে আরাম-আয়েশ করারও সুযোগ দেওয়া হয়।

পরে বিষয়টি জেলার জান্নাতুল ফরহাদকে জানালে তিনি দায়িত্বরত তিন কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিক বদলি করেন। কারাগারগুলোকে বলা হয় অপরাধ সংশোধনাগার। এখানে অপরাধীদের অপরাধ সংশোধন করার জন্য নানা কর্মসূচি নেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তব চিত্র ঠিক তার উল্টো। কথায় আছে টাকা থাকলে বাঘের দুধ পাওয়া যায়। এটি যেন কারাগারগুলোর জন্য অমিয় সত্য একটি বাণী। প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে জানা যায়, বাইরে মাদক যতটা না দুষ্প্রাপ্য, কারাগারের ভেতরে ঠিক ততটা সহজলভ্য। টাকা থাকলেই হাতের নাগালে মেলে মোবাইল ফোন, মাদক ইত্যাদি। অপরাধী তার দণ্ড ভোগের সঙ্গে সঙ্গে যাতে সংশোধিত হতে পারে তার চেষ্টা নেওয়া দেশের কারাগারগুলোতে ঘটে না বললেই চলে। কারণ কারাগারগুলোয় গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট সেখানে আরেক অপরাধ সাম্রাজ্য তৈরি করে বসে। ফলে বন্দিদের মানবিক অধিকার সেখানে হয় ভূলুণ্ঠিত। আমরা বলতে চাই শুধু খুলনা কারাগার নয় দুদক দেশের প্রতিটি কারাগারে এমন অভিযান চালাবে। এবং ‘রাখিব নিরাপদ দেখাব আলোর পথ’ এই স্লোগানটি যাতে বাস্তবে কার্যকর হয় দেশের প্রতিটি কারাগারে- এমনটাই প্রত্যাশা।