advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

সারাদেশে প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা এখন ১৭২

ফয়সাল আহমেদ
১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:২৫

দেশের সিনেমা হলগুলোতে অনেক দিন থেকেই দর্শকখরা চলছে। ফলে ছবি চালিয়ে খরচ ওঠানো হল মালিকদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সিনেমা হলগুলো এখন পরিত্যক্ত বাড়ির মতো! ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে একের পর এক সিনেমা হল বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা। অনেকে বন্ধ করার চিন্তা করছেন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির হিসাব অনুযায়ী শুরুতে ঢাকাসহ সারাদেশে মোট ১ হাজার ৪৩৫টি সিনেমা হল চালু ছিল। এক বছর আগেও যার সংখ্যা ছিল ৩০০-এর ওপরে। গত সাত মাসের মাথায় সেই সংখ্যা ২৫০-এ নেমে আসে। বর্তমানে এই সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে প্রায় অর্ধেকে।

সিনেমা হল মালিক বা প্রদর্শক সমিতির হিসাব মতে, এখন সারাদেশে নিয়মিতভাবে সিনেমা প্রদর্শনের জন্য মাত্র ১৭৪টি সিনেমা হল চালু আছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের জোড়া সিনেমা হল খ্যাত ‘আশা’ ও ‘মাশার’ ভেঙে ফেলেছে মালিকপক্ষ। হল মালিকরা বলছেন, দেশীয় ছবি কমে যাওয়ায় সিনেমা হল বন্ধ হচ্ছে। বন্ধ হওয়া ঠেকাতে বাইরের দেশের ছবি, বিশেষ করে কলকাতার নতুন ছবি শর্ত সাপেক্ষে এনে সিনেমা হলে চালানোর কথা জানিয়েছেন চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতারা।

গতকাল এ বিষয়ে একটি খবর প্রকাশ করেছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা। সেখানে লেখা হয়েছে, কলকাতার নতুন বাংলা চলচ্চিত্র বাংলাদেশে দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেওয়ায় বাংলাদেশজুড়ে সিনেমা হল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখছে হল মালিকদের সংগঠন। সম্প্রতি মালিকদের সংগঠনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন তথ্যমন্ত্রী।

সেখানে তিনি জানিয়েছেন, শিল্পকে কোনো দেশের গণ্ডিতে বেঁধে রাখা অনুচিত। কলকাতার নামি পরিচালকদের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র বাংলাদেশে দেখানো হলে ঢাকার চলচ্চিত্র শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে বলে যারা মনে করেন, সরকার তাদের সঙ্গে একমত নয়। কারণ কলকাতার চলচ্চিত্রকে আটকে রেখেও ঢাকার শিল্পের কোনো মঙ্গল হচ্ছে না। সূত্রের খবর, মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বৈঠকে বলেছেন, ‘দেশীয় ছবির অভাবে সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতে মুক্তির পরই সে দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলো যাতে বাংলাদেশে দেখানো যায়, সে বিষয়ে বিধিনিষেধ আলগা করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারের শীর্ষমহল।’

প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা সুদীপ্ত দাস জানিয়েছেন, মন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ভিত্তিতে সিনেমা হলগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখছেন তারা। ঢাকার কয়েকটি সিনেমা হল মালিক জানান, ‘দেশীয় চলচ্চিত্র দিয়ে এই মুহূর্তে সিনেমা হল বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। কারণ আমাদের দর্শকরা ঘরে বসে স্যাটেলাইট চ্যানেলে ভারতীয় ছবি অনায়াসে দেখছে। কিন্তু আমরা সিনেমা হলে সেই সব গল্পের ছবিই দেখাচ্ছি। আবার ভারতীয় ছবিও প্রদর্শন করতে পারছি না। এ কারণে সিনেমা হলে দর্শকও কমে গেছে।’ অন্যদিকে প্রযোজক ও পরিচালকরা অভিযোগ করে আসছেন, সিনেমা মুক্তি দিতে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। যে কারণে সিনেমা প্রযোজনায় আগ্রহ হারাচ্ছেন তারা। এসব বিষয় বিবেচনা করে দেশের স্বনামধন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া নতুন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এ বিষয়ে জাজ মাল্টিমিডিয়ার সিইও মো. আলিম উল্লাহ খোকন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ২০১২ সালে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া ঢাকাই চলচ্চিত্রে পা রাখে। ডিজিটাল সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনা করে সে বছরই প্রতিষ্ঠানটি ‘ভালোবাসার রং’ নামে ডিজিটাল সিনেমা নির্মাণ করে। এর পর ডিজিটাল প্রজেকশন বসিয়ে দেশের কিছু হল ডিজিটাল করে সিনেমা মুক্তি দেয়। সিনেমা হলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে প্রজেকশন বসানোর জন্যও প্রস্তুত জাজ। সিনেমা মুক্তির জন্য সফটওয়্যার আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে। এ ছাড়া চলচ্চিত্র প্রযোজকদের সিনেমা প্রযোজনা করায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য ভিপিএফ বিল যৌক্তিকভাবে কমানো হয়েছে। সিনেমা হলের সার্ভার, প্রজেক্টর ও সাউন্ড সিস্টেমের ভাড়া ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। সিনেমা হলগুলোতে সহযোগিতা করতে দক্ষ জনবল নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।