advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মুগদায় গৃহবধূকে হত্যার পর লাশ পোড়াল স্বামী

১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০১:৫৮
আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৩৪

রাজধানীর মুগদায় হাসি বেগম (২৭) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছেন তার স্বামী। গতকাল বুধবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ১/৩৯ দক্ষিণ মুগদা এলাকার ব্যাংক কলোনি সালামউল্লাহর বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে হাসির পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মুগদা থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ হাসির স্বামী কমল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে কমল হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা, গতকাল সকাল ৮টার দিকে হাসিকে হত্যা করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগুনে মরদেহের আনুমানিক ৪৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে বিকালে পরিবারের কাছে হাসির মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রেমের সম্পর্কের পর ৮ মাস আগে হাসি ও কমল বিয়ে করেন। এর আগে সুজন নামে মুগদায় বসবাসকারী একজনের সঙ্গে হাসির বিয়ে হয়েছিল। মাদকাসক্তি ও বখাটেপনার অভিযোগ এনে দেড় বছর আগে সুজনকে ডিভোর্স দেন তিনি। ওই সংসারে হাসির ৭ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। কমলকে বিয়ের পর হাসি ছেলেকে নিজের সঙ্গেই রেখেছিলেন। কমল পুরান ঢাকার নবাবপুরের অটোপার্টসের ব্যবসা করেন। বিয়ের পর তারা ব্যাংক কলোনির ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
দুই দিন আগে ওই বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন হাসির ছোট বোন মুক্তা বেগম ও তার স্বামী মো. আতিক।

মুক্তা বেগম ঢামেক মর্গে জানান, বোনের সাবেক স্বামী সুজন মাদকাসক্ত ও বখাটে হলেও তার মায়ের সঙ্গে হাসির এখনো সুসম্পর্ক রয়েছে। যে কারণে আগের শাশুড়ি তার নাতিকে দেখতে পাঁচ দিন আগে হাসির বাসায় বেড়াতে আসেন। কিন্তু সুজন ডিভোর্সের বিষয়টি ভালোভাবে মেনে নেয়নি। এ কারণে প্রায়ই স্থানীয় বখাটেদের দিয়ে সে হাসির বর্তমান স্বামী কমলকে বিরক্ত করত। গত মঙ্গলবারও সবুজ নামে স্থানীয় এক বখাটে কমলের পায়ে মোটরসাইকেল তুলে দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। রাস্তায় লাঞ্ছিত হয়ে কমল বিষয়টি সুজনের মাকে জানালে তাদের মধ্যে বাগ্বিত-া হয়। এ নিয়ে হাসির সঙ্গে কমলের ঝগড়া হয়েছিল।

মুক্তা ও তার স্বামী আতিক বলেন, মঙ্গলবার রাতের ঘটনার পর গতকাল সকাল ৬টার দিকে নাতিকে নিয়ে বাসা থেকে চলে যান সুজনের মা। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাসার সামনের থাকা গেস্টরুম ও মাঝখানের কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন কমল। এর পর মুক্তা ও আতিক মাঝখানের দরজায় অনেকক্ষণ ধাক্কাধাক্কির পর সামনের দরজা দিয়ে বের হন। তারা পেছনের বিকল্প দরজা খুলে দেখেন হাসি বেগম মেঝেতে পড়ে আছেন। তার মাথা ও দুই পায়ে আগুন জ্বলছে। তখনও কমল বাসায় ছিলেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, হাসি নিজেই শরীরে আগুন দিয়েছে। একপর্যায়ে কমল স্বীকার করেন, তিনিই স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যার পর লাশে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়েছেন।

মুগদা থানার ওসি প্রণয় কুমার সাহা বলেন, হাসি ও কমল দুজনেরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। ধারণা করা হচ্ছে, গতকাল ভোর ৫টা থেকে ৮টার মধ্যে কমল তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে আলামত মুছে ফেলতে মৃতদেহে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। হত্যার বিষয়টি কমল স্বীকার করেছেন।