advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
Dr Shantu Kumar Ghosh
advertisement
advertisement

‘বখাটেদের’ হুমকিতে স্কুলে যাওয়া বন্ধ, ছাত্রীর আত্মহত্যা চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক রংপুর
১৮ এপ্রিল ২০১৯ ২০:৪৮ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ২০:৪৮

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ছেলে ও তার সঙ্গীদের হুমকিতে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। শুধু তাই নয়, তাদের ভয়ে ওই স্কুলছাত্রী একবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছে বলে অভিযোগ তার বাবার।

জানা গেছে, উপজেলার মিলনপুর ইউনিয়নের গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণিতে পড়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে ওই প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলামের ছেলে ইসতিয়াক জিহান অভি ও তার সঙ্গী আল আমিন, রুমন মিয়া, শাকিল ও রাকিবুল ইসলাম ওই ছাত্রীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন। তাদের কথা না শুনলে প্রাণনাশ ও অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকিও দেন তারা। বিষয়টি ওই অধ্যক্ষকে জানানো হলেও তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি।

গত ১৫ এপ্রিল ওই ছাত্রী বৈশাখী মেলায় ঘুরতে গেলে সেখানে তাকে উত্ত্যক্ত করেন অভি ও তার সঙ্গীরা। এর প্রতিবাদ করায় তারা ওই ছাত্রীর ভাই, মামা ও খালুকে মারপিট করেন।

এ ঘটনার পর গত মঙ্গলবার ওই ছাত্রী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

এ দিকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য গতকাল বুধবার বিকেলে অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম ওই ছাত্রীর অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে ডেকে নেন। সেখানে এক সালিশ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করার জন্য ওই ছাত্রীর বাবার কাছে সাদা কাগজে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করেন। 

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বখাটেদের উত্ত্যক্তের কারণে আমার মেয়েটি একবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। ওদের ভয়ে ও লজ্জায় আমার মেয়ে বর্তমানে স্কুলে যেতে পারছে না।’

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বৈশাখী মেলায় ওদের সাথে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়েছে বলে শুনেছি। উত্ত্যক্তের বিষয়টি মিথ্যা। আমাকে হেয় করার জন্য এসব করা হচ্ছে।’

মিঠাপুকুরের ইউএনও মো. মামুন ভূঁইয়া বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তের জন্য মিঠাপুকুর থানায় পাঠানো হয়েছে। সেই সাথে বখাটেদের গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।’

সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার ব্যাপারে ইউএনও বলেন, ‘অধ্যক্ষ এ ব্যাপারে সালিশ করার এখতিয়ার রাখেন না।’

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী বিশ্বাস বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে ম্যাসেজ দিয়েছেন। আমরা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’