advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

খুনের আগে মোটর মালিক গ্রুপের নেতার অফিসে বৈঠক হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক,বগুড়া
১৯ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৪১

বগুড়া সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনের হত্যারহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডেরর সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার ও তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃত্ব নিয়ে সৃষ্ট কোন্দলের জেরেই খুন হন বিএনপি নেতা শাহীন। আর এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্বে ছিলেন বগুড়া পৌরসভার এক প্যানেল মেয়র ও মোটর মালিক গ্রুপের নেতা। সেই নেতার অফিসেই গোপন বৈঠক হয়। সেখানে ওই নেতার সঙ্গে বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে মোটর মালিক সমিতির বিবাদী পক্ষের নেতা অ্যাডভোকেট শাহীনকে নিষ্ক্রিয় করার সিদ্ধান্ত হয়।

পরিকল্পনা অনুসারে মালিক সমিতির ওই নেতার ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী তাদের লোকজনকে নিয়ে ৪টি মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটায়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো বগুড়া শহরের নিশিন্দারা এলাকার মৃত কালুর ছেলে পায়েল শেখ (৩৫) ও নিশিন্দারা মণ্ডলপাড়ার আবু তাহেরের ছেলে রাসেল (২৮)। তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে মাহবুব আলম শাহীন খুনের নেপথ্যে বগুড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রয়েছেন। তার নির্দেশেই কিলার গ্রুপের ১০ জনের একটি দল এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে পুলিশকে জানিয়েছে। তবে প্রেসব্রিফ্রিংয়ে তদন্তের স্বার্থে তার নাম বলা হয়নি।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আশরাফ আলী ভূঞা বৃহস্পতিবার তার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। সেই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ড অংশ নেওয়া দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের সময় আসামিদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করার কথাও জানান তিনি। ১৪ এপ্রিল রাতে বগুড়া সদর থানা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহাবুব আলম শাহীনকে বগুড়ার নিশিন্দারা উপশহর এলাকায় উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নপর্বের সবকিছু পুলিশের কাছে খুলে বলেছে। তারা পুলিশকে জানিয়েছে, ওইদিন সন্ধ্যার পর বগুড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র এবং মোটর মালিক গ্রুপের এক নেতার অফিসে গোপন বৈঠক হয়। সেখানে ওই নেতার সাথে বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিল।

সেখানে মোটর মালিক সমিতির বিবাদী পক্ষের নেতা অ্যাডভোকেট শাহীনকে নিষ্ক্রিয় করার সিদ্ধান্ত হয়। পরিকল্পনা অনুসারে মালিক সমিতির ওই নেতার ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী তাদের লোকজনকে নিয়ে ৪টি মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে শাহীন মোটর মালিক সমিতির সাবেক নেতা নিশিন্দারা ইউপি চেয়ারম্যান আলীমুদ্দিন ও মালিক সমিতির হিসাবরক্ষক বাপ্পীর সঙ্গে গল্প করছিলেন। এক পর্যায়ে শাহীনের মোবাইলে ফোন এলে তিনি কথা বলার জন্য একটু ফাঁকে যান। ওই সুযোগে অপেক্ষমাণ আততায়ীরা শাহীনের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ সুপার তদন্তের স্বার্থে মোটর মালিক গ্রুপের ওই নেতার নাম প্রকাশ করেনি। এদিকে এই সরকারের আমলে কোনো মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই, কোনো জবাবদিহিতা নেই, নেই কোনো বিচার।

বগুড়ায় বিএনপি নেতা শাহীন হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র আজ প্রকাশ পেয়েছে। বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের একথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি বগুড়া শহরের ধরমপুর এলাকায় অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনের বাড়িতে যান। সেখানে নিহতের স্ত্রী আকতার জাহান শিল্পী, দুই ছেলে সায়েম, সিয়াম এবং মেয়ে সুজনাকে ও পরিবারের সদস্যদের সান্ত¡না দেন।

এ সময় তিনি বলেন, শাহীন একজন জনপ্রিয় নেতা ছিলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে শাহীন হত্যার বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি শুনে অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছেন। তিনি নিহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিহত পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি আপনাদের সঙ্গে আছে। হত্যাকা-ের বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি সব ধরনের সহযোগিতা করে যাবে।