advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

এবার চাল রপ্তানির প্রস্তাব মিল মালিকদের

মো. মাহফুজুর রহমান
১৯ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৪২

সরকার নয়, এবার চাল রপ্তানি করতে চান মিল মালিকরা। চালের উৎপাদন পর্যালোচনা করেই রপ্তানির এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির নেতারা। এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তারা লিখিত প্রস্তাবও দিয়েছেন।

প্রস্তাবে মিল মালিকরা জানিয়েছেন, প্রথম দফায় তারা ২ লাখ টন চাল রপ্তানির পরিকল্পনা করেছেন। যদিও কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও তা রপ্তানি করার মতো অবস্থায় এখনো পৌঁছায়নি। এর আগে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ সরকার শ্রীলংকায় ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টন চাল রপ্তানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ২৫ হাজার টন রপ্তানিও হয়েছিল। কিন্তু এর পর তা থেমে যায়।

সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ২০১৫ সালে সংসদে জানিয়েছিলেন, শ্রীলংকার পর এবার ভারতে চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কিন্তু তা তো হয়নি বরং ভারত থেকে হাজার হাজার টন চাল আমদানি করতে হয়েছে বেসরকারি উদ্যোগে। মিল মালিক সমিতির প্রস্তাবনায় বলা হয়, গত দুই মৌসুমে বাম্পার ফলনের কারণে বছরে প্রায় ৪ কোটি টন চাল উৎপাদন হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনের তুলনায় বিগত দিনে আমদানিও অতিরিক্ত হয়েছে। আমাদের বছরে চালের প্রয়োজন হয় ৩.৫০ কোটি টন। সে অনুযায়ী বর্তমানে উদ্বৃত্ত আছে প্রায় ১.৫০ কোটি টন।

চলতি মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বাম্পার ফলনেরও আশা রয়েছে। সব কিছু মিলিয়ে এ মুহূর্তে ১ থেকে ২ লাখ টন চাল অনায়াসে রপ্তানি সম্ভব। সমিতির পক্ষ থেকে সার্বিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে যাচাই-বাছাই করে অনতিবিলম্বে সরু লম্বা চাল রপ্তানির সুযোগ চেয়েছেন তারা। সমিতি মনে করে, এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে বলেই চাল রপ্তানি করা যেতে পারে। এ বিষয়ে মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কেএম লায়েক আলী বলেন, বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ষোলো কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য ভাত। গ্রামীণ কর্মসংস্থানেরও প্রায় ৪৮ শতাংশ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ভাত আমাদের খাদ্যের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ক্যালোরি সরবরাহ এবং একজন ব্যক্তির মোট প্রোটিনের প্রায় অর্ধেক প্রদান করে।

কৃষি জিডিপিতে এ খাতের অবদান অর্ধেকের বেশি এবং বাংলাদেশে জাতীয় আয়ের ৬ ভাগের এক ভাগ আসে এ খাত থেকে। দেশের প্রায় ১ কোটি ত্রিশ লাখ পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চাল উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সঙ্গে যুক্ত। গত তিন দশকে ১ কোটি ৫ লাখ হেক্টর জমিতে স্থিতিশীলভাবে এ উৎপাদন প্রক্রিয়া চলে আসছে। সীমিত সম্পদ দিয়েই অধিক উৎপাদন করে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। তাই এখন উদ্বৃত্ত খাদ্য রপ্তানির প্রস্তাব করা হয়েছে।

যদিও সরকারি হিসাব বলছে, গত বছর বন্যার কারণে বড়জোর ১০ লাখ টন চাল কম উৎপাদন হয়েছিল। কিন্তু তার পরও গত এক বছরে সব মিলিয়ে ৩৭ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে। আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার ও ব্যাংক ঋণের সুবিধা নিয়ে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা মূলত ওই চাল আমদানি করেন। ফলে বিপদে পড়েন দেশের প্রায় এক কোটি বোরো চাষি। গত বছরের বন্যা ও ধানে চিটার বিপদ এ বছর নেই। তবে উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। কিন্তু আমদানি করা চাল বাজার দখলে রাখায় চাষিরা হাটে-বাজারে ধান বেচতে পারছেন না।

চাল রপ্তানি নিয়ে মিল মালিকদের প্রস্তাব প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক আমাদের সময়কে জানান, এবার চালের বাম্পার ফলন হয়েছে এটা সত্য। তাই রপ্তানি করা যেতেই পারে। তবে সামনেই বোরো সংগ্রহ মৌসুম। বোরো কাটার পর দেশের চাহিদা ও উদ্বৃত্ত পর্যালোচনার আগে রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া ঠিক হবে না।

অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) ফেলো ড. এম আসাদুজ্জামান আমাদের সময়কে জানান, সামনের বোরো মৌসুমে হাওরাঞ্চলে ধান কাটার পর যোগ-বিয়োগ করে সার্বিক পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় চাল রপ্তানি করা যেতে পারে। তা না করে আগেই রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হলে সেটা হবে অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত। কারণ এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেশি হবে বলে আগাম জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। তাই দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তবেই রপ্তানি অনুমোদন দিতে হবে।