advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রকৌশলীসহ দুজনকে পেটালেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
১৯ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:২৪

লালমনিরহাটের আদিতমারিতে এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী ও কার্য সহকারীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি একেএম হুমায়ন কবিরের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের সরলখাঁ নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় উপসহকারী প্রকৌশলী জাকিরুল ইসলাম (৪৮) ও কার্য সহকারী আশরাফুল আলমকে (৪৯) উদ্ধার করে আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আহত জাকিরুল ইসলাম লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের চাংরা গ্রামের শাহাজাহান আলীর ছেলে। আশরাফুল আলম সদর উপজেলার তিস্তা পূর্বদালালপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মজিদের ছেলে।

advertisement

জানা গেছে, উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের সরলখাঁ উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় একটি রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে এ কাজটি হচ্ছে। আর এ কাজ তদারকির জন্য গতকাল সকালে আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী জাকিরুল ইসলাম ও কার্য সহকারী আশরাফুল আলম ঘটনাস্থলে যান।

এ সময় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সারপুকুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ও জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা হুমায়ন কবির ও তার লোকজন। কিন্তু কাজ সঠিক হচ্ছে বলেই দাবি করেন ওই প্রকেীশলী। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হুমায়ন কবির ও তার ছোট ভাই রাশেদ অতর্কিতভাবে উপসহকারী প্রকৌশলী জাকিরুলের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে কার্যসহকারী আশরাফুল আলমকেও মারধর করা হয়।

খবর পেয়ে আদিতমারী থানা পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে। আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, সরকারি কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। হাসপাতালের চিকিৎসাধীন জাকিরুল ইসলাম বলেন, কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই কবির ও তার দলবল হামলা চালান।

কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, শিডিউল মোতাবেকই কাজ করা হচ্ছে। এদিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা একেএম হুমায়ন কবির মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আদিতমারি উপজেলাজুড়ে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে যেসব কাজ হচ্ছে, তার বেশিরভাগই নিম্নমানের। কার্পেটিংয়ের এক সপ্তাহের মধ্যেই রাস্তা ফিরে যাচ্ছে পুরনো চেহারায়। আমার এলাকায় কাজের মান খারাপ হওয়ায় স্থানীয়রা বাধা দিয়েছে।’

তিনি উপসহকারী প্রকৌশলী ও কার্য সহকারীকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। আদিতমারী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক কাশফিয়া আনম জানান, তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে গুরুতর নয়।