advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ববি ভিসির পদত্যাগ দাবিতে একাট্টা শিক্ষক শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা

বরিশাল প্রতিনিধি
১৯ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৪৪

উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সবার পক্ষ থেকে উপাচার্যের পদত্যাগ ত্বরান্বিত করার দাবি জানানো হয়।

এদিকে আন্দোলন দমাতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন উপাচার্য ড. এসএম ইমামুল হক। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, লাগাতার চলমান এ অচলাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন, একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সেশনজটসহ বাড়তি সমস্যায় পড়তে হবে শিক্ষার্থীদের।

ইতোমধ্যেই এখানে চলছে সেশনজট। আন্দোলনকারীরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বাঁচাতে অবিলম্বে ভিসির পদত্যাগ দাবি জানিয়েছেন। এদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের অর্থ বরাদ্দ, শিক্ষক ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে দেওয়া হয়। উপাচার্যের নির্দেশের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা তুলতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

১৬ এপ্রিল উপাচার্য স্বাক্ষরিত এক নোটিশে ব্যাংকের দুটি অ্যাকাউন্ট থেকে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো ধরনের অর্থ না দেওয়ার জন্য ব্যাংকের ব্যবস্থাপককে নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়, আপনাকে (ব্যবস্থাপক) জানাচ্ছি যে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব নম্বর (০৩৩৮১১০০০০০০১) ও (০৩৩৮১১০০০০০০২) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যাবতীয় অর্থ প্রদান (ইতোপূর্বে প্রদত্ত সব চেকসমূহ) স্থগিত রাখার জন্য নির্দেশ দিচ্ছি।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া বলেন, উপাচার্যের সিদ্ধান্তটি অমানবিক। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন দমাতে উপাচার্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ সিদ্ধান্তে ভিসির পদত্যাগ দাবির আন্দোলন আরও বেগবান হবে বলে তিনি দাবি করেন। সোনালী ব্যাংক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ব্যবস্থাপক দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, উপাচার্য ড. এসএম ইমামুল হক একটি ই-মেইল পাঠিয়েছেন। সেখানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দুটি স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যাবতীয় অর্থ প্রদান স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ভিসির নির্দেশনা মতে, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে উপাচার্য এসএম ইমামুল হকের সেলফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচির আয়োজন করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর প্রতিবাদ করা শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেন ভিসি। এ জন্য ২৬ মার্চ থেকেই তার পদত্যাগ দাবিতে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলন দমাতে প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার পর হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়। পরবর্তী সময়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল সিটি মেয়রের উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠকের পর বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এর পরও আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। সবশেষে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ১৫ দিনের জন্য ছুটিতে যাওয়ার আবেদন করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

কিন্তু ছুটির এ আবেদন লোক দেখানো দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে রেজিস্ট্রার ড. হাসিনুর রহমান ও জনসংযোগ বিভাগের চলতি দায়িত্বে উপ-পরিচালক ফয়সল আহমেদ রুমিকে অবাঞ্চিত ঘোষণা এবং ভিসির পদত্যাগ দাবিতে চারবার বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। ভিসির পদত্যাগ বা পূর্ণমেয়াদে ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি লিখিতভাবে না পাওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।