advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইউএনওর হস্তক্ষেপে রাজৈরে একদিনে ৪ বাল্যবিবাহ বন্ধ

রাজৈর প্রতিনিধি
১৯ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৯ ১০:১৭

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ত্বরিত হস্তক্ষেপে উপজেলায় একদিনে চারটি বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই কনের অভিভাবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্য দুই কনের বাবা মুচলেখা দিয়ে রেহাই পান।

রাজৈর ইউএনও অফিস সূত্র জানায়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত বুধবার বিকালে রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহান নাসরিন পাইকপাড়া ইউনিয়নের নয়াকন্দি কাশিমপুর গ্রামের ফারুক খানের মেয়ে ও স্থানীয় মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী স্মৃতির বিয়ের খবর পেয়ে অভিযান চালান।

মেয়ের বিয়ে বন্ধ রাখবে মর্মে মুচলেখা রেখে তার বাবাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একইদিন ইশিবপুর গ্রামের মজিবর কারিকরের মেয়ে ও ইশিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী লিজা আক্তারের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। সেটিও বন্ধ করে মুচলেখা রেখে মেয়ের বাবাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া আমগ্রামে মনি মোহন বৈদ্যর মেয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী তিথির বিয়ের আয়োজন চলছিল। ইউএনও পুলিশ নিয়ে সেখানে হাজির হন এবং তিথির বিয়ে বন্ধ করেন। ওইদিন একই গ্রামের হরিপদ ওঝার কনে ও দশম শ্রেণির ছাত্রী দোলা ওঝারও বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। ইউএনও সেখানে হাজির হয়ে কনে ও তার বাবাকে আটক করেন।

রাত ৮টার দিকে তিথি ও দোলার অভিভাবককে উপজেলা সদরে নিয়ে আসেন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাদের ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করেন। এ ছাড়া ১৮ বছর পার না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেখা রেখে তাদের ছেড়ে দেন। বাল্যবিবাহবিরোধী ক্যাম্পেইন : রাজৈরে বাল্যবিবাহবিরোধী ক্যাম্পেইন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মাদারীপুর লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ও রাজৈর পৌরসভার সহযোগিতায় গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে র‌্যালি বের করা হয়। এটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আসমত আলী খান অডিটোরিয়ামে গিয়ে মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়।

সেখানে পৌর মেয়র শামীম নেওয়াজ মুন্সীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন ইউএনও সোহানা নাসরিন, ওসি (তদন্ত) ইমতিয়াজ আহম্মেদ, পৌর সচিব মনিরুজ্জামান শিকদার, নবনির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা আক্তার, প্রেসক্লাব সভাপতি খোন্দকার আবদুল মতিন, শিক্ষক অলিক কুমার ধর প্রমুখ।