advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রণয় করতে গিয়ে অপহৃত প্রেমিক ছয় দিন পর উদ্ধার

১৯ এপ্রিল ২০১৯ ০১:২৪
আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:৩৮

সুন্দরী যুবতীর সঙ্গে পরিচয় হয় যুবকের। মাধ্যম ফেসবুক। দিন গড়িয়ে মাস যায়। তাদের সম্পর্কও গাঢ়তর হয়। এর পর একসময় সেই সুন্দরী জানান, যুবকের একান্ত সান্নিধ্য কামনা করছেন তিনি। যুবক ততদিনে পুরোই মজে গেছেন সুন্দরীর প্রেমে। এর পর?

প্রণয়প্রত্যাশী যুবকের সানন্দ সম্মতিতে যুবতী জানান, কোথায় কখন দেখা হবে। কিন্তু যখন দেখা হয় দুজনার তখন যুবক বুঝতে পারেন প্রেমিকা নয়, প্রতারকের খপ্পরে পড়েছেন তিনি। ততদিনে ফিরে আসার পথও রুদ্ধ। যুবকের ওপর চলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। তার পরিবারের কাছ থেকে মুক্তির শর্ত হিসেবে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের পণ।

এমনই এক অপহরণকারীচক্র ধরা পড়েছে র‌্যাবের হাতে। অপহরণের ছয় দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে প্রেমপ্রত্যাশী এক যুবককে। এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজন করা হয় এক সংবাদ সম্মেলনের। এতে এমন বিস্ময়কর তথ্য তুলে ধরেন র‌্যাব ৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির। তিনি জানান, রায়হান ফেসবুকে কাজল বেগম নামে এক সুন্দরী নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এক মাস পর ডেটিং করতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন তিনি। অভিযোগ পেয়ে গত বুধবার রাতে সাভারের আমিনবাজারে অভিযান চালিয়ে কথিত সেই প্রেমিকা কাজল বেগমসহ অপহরণকারীচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির জানান, অপহরণকারীচক্রটি সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে প্রথমে ফেসবুকে ফেক আইডি খোলে। এর পর ওই আইডি থেকে নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও চাকরিজীবীদের টার্গেট করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে। ফেসবুকে কথা বলার একপর্যায়ে ওই মেয়ে সেই ব্যক্তির মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে নানা কৌশলে তার সঙ্গে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সর্বশেষ ভিকটিমের সঙ্গে ডেটিং করার বায়না ধরে তাকে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে। এর ৬ দিন পর গত বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণকারীচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার ছাড়াও তাদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-

আজিজুল হাকিম, লিটন মোল্লা, কাজল বেগম, নজরুল ইসলাম বাবু ও নুরু মিয়া ওরফে নূর ইসলাম ওরফে কাকা ওরফে মোল্লা।

র‌্যাব ৪-এর অধিনায়ক বলেন, উদ্ধারকৃত রায়হানের সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত কাজল বেগম ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে ডেটিংয়ের কথা বলে ডেকে নেয় গত ১২ এপ্রিল রাতে। সেই রাতেই তাকে কলাবাগান এলাকা থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে নিয়ে যায় সাভারের আমিনবাজার এলাকায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে মুক্তিপণ চাওয়া হয়। তিনি আরও জানান, অপহৃত রায়হানের পূর্বপরিচিত ছিল বাহার। মূলত তার প্রাইভেটকারে করেই ঢাকার কলাবাগান থেকে আমিনবাজার এলাকার একটি অচেনা ভবনে নিয়ে আটকে রাখা হয় রায়হানকে। অপহরণকারীরা ওই রাতেই রায়হানের হাত ও চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। এর পর টানা ৬ দিন ধরে আটকে মানসিক-শারীরিক নির্যাতন করে।

এ সময় রায়হানকে মারধর করে তার পরিবারের সদস্যদের মারধরের শব্দ ও কান্নার চিৎকার শোনানো হতো। প্রথমে তার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। পরবর্তী সময়ে অপহরণকারীরা তাদের মোবাইল নম্বর থেকে রায়হানের বাবা ও বোনের নম্বরে যোগাযোগ করে পাঁচ লাখ টাকায় মুক্তির দফারফা করে। তাদের কথামতো ১৫ এপ্রিল রাতে মিরপুর ষাটফিট ভাংগা ব্রিজ এলাকায় অপহরণকারীদের এক লাখ টাকা দেয় রায়হানের পরিবার। এর পর অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায়, বাকি চার লাখ টাকা না দিলে রায়হানকে মুক্তি দেবে না। বেশি দেরি করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে তারা। এর পর রায়হানের পরিবারের দেওয়া অপহরণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে উদ্ধারে র‌্যাব ৪-এর একটি দল কাজ শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে অবস্থান শনাক্ত করে গতকাল ১৭ এপ্রিল রাত সাড়ে আটটায় অভিযান চালিয়ে রায়হানকে উদ্ধারসহ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেপ্তার আসামিরা ১০ বছর ধরে বিভিন্ন পন্থায় ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও চাকরিজীবী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছিল। মানুষকে ফাঁদে ফেলতে তারা বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন অবলম্বন করে আসছিল। নারী দিয়ে ফাঁদ পাতা ছাড়াও তারা ঢাকাসহ আশপাশের বাস স্টেশন থেকে যাত্রীদের মাইক্রো বা প্রাইভেটকারে অন্যত্র নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে তুলে নিত। এর পর গাড়িতে ওঠানোর সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীবেশে থাকা তাদের ৩-৪ জন সঙ্গী গাড়ি চলা অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে অজ্ঞান করে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলত। অজ্ঞান করে হাত-পা বেঁধে অপহৃত ব্যক্তিকে অপহরণকারীরা তাদের পরিকল্পিত এলাকায় নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করত। এই চক্রে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।