advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রামাণ্যচিত্র উৎসব শুরু

১৯ এপ্রিল ২০১৯ ০১:৩১
আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৯ ১০:২৩

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী ‘সপ্তম আন্তর্জাতিক মুক্তি ও মানবাধিকারবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র উৎসব’। উৎসব চলবে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত। ‘রোহিঙ্গা পীড়ন’ শীর্ষক এ উৎসবে পৃথিবীর মানুষের মুক্তি ও মানবাধিকার রক্ষার নানা প্রচেষ্টা ও সংগ্রামের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে। এ ছাড়া রয়েছে আলোচনা, সেমিনার ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী। উৎসবে ১৩টি দেশের প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

গতকাল বিকাল ৫টায় আগারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে উৎসবের উদ্বোধনী দিনে প্রদর্শিত হয় চিত্রশিল্পী দিলারা বেগম জলি পরিচালিত প্রামাণ্যচিত্র ‘জঠরলীনা’। প্রদর্শনীগুলো জাদুঘরের মূল মিলনায়তন, মুক্তমঞ্চ ও সেমিনার কক্ষে প্রদর্শন করা হবে। উৎসবে চারটি সেকশনে প্রমাণ্যচিত্রগুলো প্রদর্শিত হচ্ছেÑ ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম সেকশন, নাইনটিন সেভেনটিন ওয়ান অ্যান্ড বিয়ন্ড, ওয়ান মিনিট ফিল্ম সেকশন এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এক্সপেরিয়েন্স : দ্য লাস্ট গুডবাই।

advertisement

উৎসবে আরও রয়েছে চলচ্চিত্র বিষয়ে কর্মশালা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে নির্মিত পাঁচটি প্রামাণ্যচিত্র নির্বাচন করা হয়েছে। এসব প্রামাণ্যচিত্রের বিষয় হচ্ছে- মুক্তিযোদ্ধার সাথে একদিন, বধ্যভূমিতে একদিন অথবা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে একদিন।

শিল্পকলায় লোক নাট্যদলের ‘ঠিকানা’ : বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চস্থ হয়েছে লোক নাট্যদলের ২৮তম প্রযোজনায় নাটক ‘ঠিকানা’। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার মূল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ করা হয় নাটকটি। বাংলা মঞ্চনাটকের অন্যতম প্রবাদপুরুষ, প্রখ্যাত নাট্যকার, অভিনেতা ও নির্দেশক উৎপল দত্ত এ নাটকটি রচনা করেন ১৯৭১ সালে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই ২ আগস্ট কলকাতায় নাটকটি প্রথম মঞ্চস্থ হয়।

বাংলাদেশে এ নাটকটি মঞ্চস্থ করছে লোক নাট্যদল (বনানী)। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এ নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন ভারতের পুনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাট্যশাস্ত্রে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী লোক নাট্যদলের (বনানী) জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. প্রণবানন্দ চক্রবর্ত্তী।

মাত্র দুদিনের ঘটনা নিয়ে এ নাটক। একটি ছোট শহর তারাগঞ্জ, মূলত শিল্পাঞ্চল। সেখানেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পাকিস্তানি হানাদার সৈন্যরা। তারাগঞ্জে একটি ছোট রেস্তোরাঁ চালান একসময়ের কারখানা শ্রমিক বৃদ্ধা রশিদা খাতুন। তাকে সবাই ‘নানি’ বলে ডাকে। রশিদা খাতুনের ‘সুতৃপ্তি রেস্টুরেন্টু’-এ নিয়মিত খেতে আসে শ্রমিক-মালিক, ধনী-গরিব নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তার হাতে বানানো লুচি-সবজি আর চা সবার খুব প্রিয়।

তবে ২৫ মার্চের পর থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হামলা আর নিয়মিত টহলের কারণে লোকজন আগের মতো রেস্টুরেন্টে খেতে আসে না। এই রশিদার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে শিল্পাঞ্চলের গেরিলাদের। তিনি রেস্টুরেন্ট খোলা রেখে মূলত তার আড়ালে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতা করেন। শ্রমিক নেতা মকবুলের (মিনহাজুল হুদা) তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জন্য গোলাবারুদভর্তি একটি ট্রেন এসেছে তারাগঞ্জ স্টেশনে, যাবে জামালপুর। তারাগঞ্জের গেরিলারা এ ট্রেনটি উড়িয়ে দিতে চায় বোমা মেরে। সে জন্য চাই ডিনামাইট, যা পাওয়া যাবে মির্জাপুরের একটি ঠিকানায়। সেই ঠিকানাটি রশিদার কাছে আসবে লোক মারফত সাংকেতিকভাবে, যা গেরিলারা সংগ্রহ করবে। গল্পের নাটকীয়তার শুরু এখানেই।

নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সামসাদ বেগম, ইউজিন গোমেজ, হাফিজুর রহমান, প্রণবানন্দ চক্রবর্তী, মনিকা বিশ্বাস, সাদেক ইসলাম, ঐন্দ্রিলা অদিতি দাস, মোজাক্কির আলম রাফান, সোহেল মাসুদ, আরিফ আহম্মেদ, তনয় মজুমদার, সুধাংশু নাথ, তানজিনা রহমান, জসিমউদ্দিন খান, আবদুল্লাহ আল হারুন বাসুদেব হালদার, মিনহাজুল হুদা দীপ প্রমুখ।