advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শিল্পে গ্যাস সংযোগ উপদেষ্টা কমিটি বিলুপ্ত হচ্ছে

১৯ এপ্রিল ২০১৯ ০১:৩২
আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০১৯ ১০:২১

অবশেষে বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের উপদেষ্টা কমিটি। এ কমিটি বিলুপ্তির লক্ষ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিগগিরই একটি সারসংক্ষেপ পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেলেই কমিটি বিলুপ্ত হবে। তখন গ্যাস সংযোগ, গ্যাসের লোড বৃদ্ধি, পুনঃসংযোগ বা যে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কেবল সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ বা কোম্পানির বোর্ড।

বিষয়টি সম্পর্কে জ্বালানি বিভাগের সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম আমাদের সময়কে বলেন, এমন বিষয় আমিও শুনেছি। যখন বিলুপ্ত হবে তখন জানতে পারবেন।

২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক হারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে তেল ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর পর গ্যাস সংকটের অজুহাতে ২০০৯ সালের ২১ জুলাই থেকে শিল্প ও বাণিজ্যিক এবং ২০১০ সালের ১৩ জুলাই থেকে আবাসিকে নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে প্রধান করে উচ্চ পর্যায়ের একটি উপদেষ্টা কমিটিও করা হয়।

এ কমিটির সদস্য হচ্ছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, জ্বালানি সচিব, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানসহ আরও কিছু কয়েকজন। এ কমিটির অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের গ্যাস সংযোগ, গ্যাসের লোড বৃদ্ধি বা পুনঃসংযোগ করা সম্ভব হতো না। এ সময় গ্যাস সংযোগ পেতে অনেক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। কমিটির অনুমোদন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে শিল্পমালিকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে অনেক মধ্যস্থতাকারী।

বিষয়টি নিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম আমাদের সময়কে বলেন, এ কমিটি গঠন কোনো নীতিমালার মধ্যেই ছিল না। আরও অনেক আগেই এ কমিটি বিলুপ্ত করে দেওয়া উচিত ছিল। গ্যাস সংযোগ সংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে কোম্পানির বোর্ডই যথেষ্ট ছিল। তিনি আরও বলেন, এ কমিটির মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ পেতে শিল্পমালিকদের অনেক হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। অনেক মধ্যস্বত্বভোগী কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ বিশেষজ্ঞ বলেন, এ কমিটি বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়। খোঁজ নিলে জানা যাবে, এ কমিটির মাধ্যমে শিল্পে গ্যাস সংযোগ পেতে কী পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয়েছে শিল্পমালিকদের।

গ্যাস সংযোগ সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে এমন খবর শুনে একজন ব্যবসায়ী আমাদের সময়কে বলেন, এটা আরও অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। এ কমিটির মাধ্যমে গ্যাস সংযোগ পেতে কত হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তা বলে বোঝানো যাবে না। যারা কমিটিকে ম্যানেজ করে সংযোগ নিয়েছেন, কেবল তারাই জানেন।

এ দিকে জ্বালানি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, এ কমিটি বিলুপ্ত করে দেওয়ার মূল কারণ, এখন বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়েছে। ফলে গ্যাসের সংকট ক্রমে কমে আসছে। এখন সরকার শিল্পে গ্যাস সংযোগ উন্মুক্ত করে দিতে চায়। ফলে এ কমিটির খুব একটা দরকার নেই। তিনি বলেন, তবে এখনো কমিটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলা যায় না। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনসাপেক্ষে কমিটি বিলুপ্ত হবে।