advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানো হবে : শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ এপ্রিল ২০১৯ ১৯:২৮ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৯ ১০:০৭
advertisement

তৃণমূল পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগকে নতুন করে ঢেলে সাজানো হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা তিন মেয়াদের ক্ষমতাসীন এই রাজনৈতিক দলটিকে সাংগঠনিকভাবে আরও মজবুত করে গড়ে তুলতে চান তিনি।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের এক যৌথসভার শুরুতে এ কথা বলেন তিনি। সভায় দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের প্রায় সকলেই উপস্থিত ছিলেন।

আগামী বছর থেকে ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপনে জাতীয় ও দলীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করা হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আমাদের উপদেষ্টা পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ একসাথে বসেছি। আমাদের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কার্যকরী সংসদের সদস্যদেরকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে দেশের আট বিভাগের জন্য আটটি কমিটি গঠন করেছি। যে কমিটির দায়িত্ব থাকবে, আমাদের সংগঠনগুলি একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে আবার নতুন করে ঢেলে সাজানো এবং গড়ে তোলা। কোথায় কমিটি আছে, না আছে সেগুলো দেখা এবং সাংগঠনিকভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে আরও মজবুত করে গড়ে তোলা।’

‘রাষ্ট্রপরিচালনায় থাকলে সাধারণত জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়’ এমন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাধারণত রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে অনেক সময় সরকার ধীরে ধীরে মানুষের কাছ থেকে হারিয়ে যায় বা তাদের জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমরা আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে জনগণের আস্থা বিশ্বাস আমরা অর্জন করেছি, জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।’

জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবারের নির্বাচন, যেটা হয়ে গেল; যদি নির্বাচনের দিক তাকান দেখবেন সকল শ্রেণী পেশার মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থণ করেছে। যেটা অতীতে কখনো দেখা যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানিয়েছে। এমনকি ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, ছাত্র; সবচেয়ে বড় কথা যারা প্রথমবারের ভোটার, নবীন ভোটার, নারীরা; সকলেই আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারও চেয়েছে। তাদের সেবা করার জন্য, মানুষ ভোট দিয়েছে।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ভরাডুবির কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের অবস্থান- যেহেতু মিলিটারি ডিকটেটর ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতায় গিয়ে এসব দল গঠন করেছে, খুব স্বাভাবিক ভাবে এরা হচ্ছে পরজীবীর মতো। নির্বাচনকে তারা মনে করেছে ব্যবসা। মনোনয়ন বেচে কিছু পয়সা তারা কামাই করে নিয়েছে, কিন্তু নির্বাচনের প্রতি তাদের খুব একটা নজর ছিল না।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘জাতীয় আর্ন্তজাতিক ভাবে যতো জরিপ করা হয়েছিল, ওইসব জরিপে স্পষ্ট ছিল যে, আওয়ামী লীগকে জনগণ চায়, জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে এবং আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে।’

বিএনপি-জামায়াত শাসনামলের আমলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাই হোক দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ এগুলোই ছিল তাদের কাজ। আজকে দেশের মানুষ অন্তত শান্তি পাচ্ছে।’

এবারের নববর্ষ সবাই উৎসাহ-উদ্দীপনায় উদযাপন করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার ব্যাপকভাবে নববর্ষ উদযাপন হয়েছে। শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে সকলে এই উৎসবটা করেছে। আমরা কিন্তু নববর্ষ ভাতাও দিচ্ছি। বাংলাদেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র মুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে আর কেউ থামাতে পারবে না।’

আওয়ামী লীগ সরকারের সরকার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশের চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ, এর পর ২০০৮ সালে নির্বাচনে আবারো বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করি এবং পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনা করছি। বাংলাদেশ আজকে ক্ষুধা মুক্ত। বাংলাদেশ আজকে দারিদ্র মুক্ত হবার পথে।’

শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় গতকাল রাজধানীর রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে দলীয় কার্যালয় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আসেন প্রায় সাড়ে চারটার দিকে। প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানাতে মৎস ভবন ও পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। তারা রাস্তার দুপাশে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে দাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আশপাশে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের অর্ন্তগত ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতিকে এম এ মান্নানকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কোনো অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ছাড়া কেউ অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করতে পারেন না।

advertisement