advertisement
Azuba
advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

গয়েশ্বরের মুখে খালেদা জিয়ার ‘ব্যর্থতা’

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ এপ্রিল ২০১৯ ২১:০১ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৯ ১৮:০৪
advertisement

বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘একটি ব্যর্থতার’ কথা জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গতকাল শুক্রবার ‘খালেদা জিয়া-তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠানের এ কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়ার ওই ‘ব্যর্থতার’ কথা জানাতে গিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আগেও বলেছি, আজও বলছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার চারপাশে নির্ভীক, সৎ, সাহসী লোক তৈরি করতে পারেননি। এই কারণে আমরা চলমান সংকট মোকাবিলা করতে ভয় পাচ্ছি। তাই সরকার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে উসকানি দেওয়ার সাহস পাচ্ছে।’

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে শত নাগরিক কমিটির আয়োজনে এই অনুষ্ঠান হয়। বইটির সম্পাদনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এমাজউদ্দীন আহমদ ও কবি আবদুল হাই শিকদার। ২ হাজার টাকার টাকা মূল্যের ১২ জন লেখকের লেখা সম্বলিত ৮৬০ পৃষ্ঠার বইটিতে  খালেদা জিয়ার ১০ বছরের শাসনামল, রাজনীতির সুদীর্ঘ পথপরিক্রমা ও নানা চড়াই-উৎরাই, সংগ্রাম ও দূরদর্শিতার গল্প উঠে এসেছে।

সূচনা বক্তব্যে ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘এই বইটি বিক্রি করে যে পয়সা হবে, তা নেবো না। এই দিয়ে আমরা একটি ফাউন্ডেশন করব।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে নির্বাচিতদের শপথ ও তাদের বক্তব্য প্রসঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আজকে একটা নির্বাচন নাকি, কী হয়েছে আপনারা সবাই জানেন। আমার দৃষ্টিতে এই ৩০০ আসনে কেউ জয়লাভ করে নাই, এই ৩০০ আসনে কেউ পরাজিত হয় নাই।  জয়-পরাজয় নির্ধারণ করে জনগণ। সেই জনগণ যখন শতভাগ ভোট কেন্দ্রে  যেয়ে ভোট দিতে পারে নাই, সেই নির্বাচনে নির্বাচিত বলার সুযোগ নাই।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আশা করেছিলাম নির্বাচিতরা বলবেন, দল বললে আমরা যাবো, অন্যথায় যাবো না। খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে আমরা সংসদে যাবো, অন্যথায় যাবো না। এই কথাগুলো শুনতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তা শুনছি না। উঁকি-ঝুঁকি মারছে নানা চোরাগলি পথ দিয়ে নানা কথা। কোনে কথা সত্য, কোন কথা মিথ্যা জানি না।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘তাদের কাপড়-চোপড়ও প্রস্তুত রয়েছে। খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি খালেদা জিয়ার মতো জনপ্রিয় নেতারা সঙ্গে এটা ঠাট্টা ও মসকরা ছাড়া আর কিছু নয়। আর এ ধরনের অসঙ্গতি প্রস্তাব সরকারের কাছ থেকে আসতে পারে না এবং আসবে না।’

এ সময় নেতাকর্মীদের খালেদা জিয়ার মতো আপোষহীন হওয়ার আহ্বান জানান গয়েশ্বর।  

অনুষ্ঠানের শুরুতে গ্রন্থের সূচনাতে লেখক আবদুল হাই শিকদারের লেখা ‘খালেদা  জ্যোতির্ময়ী’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন কবি নাসিম আহমেদ।

শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, শত নাগরিক কমিটির জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু ও জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম, কৃষিবিদ জি কে মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপির শামসুজ্জামান দুদু, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, গৌতম চক্রবর্তী, আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, শফিউল বারী বাবু, সেলিম রেজা হাবিব, মীর নেওয়াজ আলী, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, নিপুন রায় চৌধুরী, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, কল্যাণ পার্টির শাহিদুর রহমান তামান্না প্রমুখ।

advertisement