advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঢেলে সাজানো হবে আওয়ামী লীগকে

আলী আসিফ শাওন ও মুহম্মদ আকবর
২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:০৫

মাঠপর্যায় থেকে আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজাতে চান দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের শিগগিরই জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক সফর শুরু করতে নিদের্শনা দিয়েছেন তিনি। এ সফরের মধ্য দিয়ে সব পর্যায়ে কমিটি গঠন, নেতাদের সঙ্গে এমপিদের কোন্দল নিরসন এবং দলীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও মজবুত করে গড়ে তুলতে চান তিনি।

এ জন্য এ সফরগুলোয় স্থানীয় এমপিদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের এক যৌথসভায় এসব নিদের্র্শনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সারাদেশে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিতেও সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আগামী বছর থেকে ‘মুজিব বর্ষ’ উদযাপনে জাতীয় ও দলীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসূচি পালন করা হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সভাপতিম-লীর সদস্য ও কার্যকরী সংসদের সদস্যদের নিয়ে দেশের আট বিভাগের জন্য আটটি কমিটি করেছি। এসব কমিটির দায়িত্ব থাকবে আমাদের সংগঠনগুলো একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে আবার নতুন করে ঢেলে সাজানো এবং গড়ে তোলা। কোথায় কমিটি আছে, না আছে সেগুলো দেখা এবং সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে আরও মজবুত করে গড়ে তোলা।

বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, বিভাগীয় পর্যায়ের সাংগঠনিক টিমগুলোতে ওই বিভাগে যেসব নেতার বাড়ি তাদের রাখা হয়েছে। যেমন ঢাকা বিভাগের কমিটিতে রয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ফারুক খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সালমান এফ রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান প্রমুখ। রাজশাহী বিভাগীয় কমিটিতে রয়েছেন সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য খায়রুজ্জামান চৌধুরী লিটনসহ বেশ কয়েকজন।

প্রতিটি টিমেই ওই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরাও রয়েছেন। জানা গেছে, এ মাসেই ঢাকার বাইরে সাংগঠনিক সফর শুরু হচ্ছে। কয়েকদিনের মধ্যেই ফেনী জেলায় বর্ধিত সভা হবে। আগামী ২৪ এপ্রিল সংসদ অধিবেশন বসছে। এ সময় বর্ধিত সভা করলে অনেক সংসদ সদস্যই উপস্থিত থাকতে পারেন না। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী অধিবেশন শেষে বা এর ফাঁকে ছুটির দিনগুলোয় বর্ধিত সভা করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক নেতা আমাদের সময়কে বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলীয় কোন্দল নিরসনের জন্যই প্রধানমন্ত্রী এমন নির্দেশনা দিয়েছেন। কারণ অনেক জেলায় এমপিদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সর্ম্পক ভালো না।

বৈঠক সূত্রে আরও জানা গেছে, তৃণমূলে বর্ধিত সভার মধ্য দিয়ে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি যত দ্রুত সম্ভব দিয়ে দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। অধিকাংশ জেলায় আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। জেলা সম্মেলনের মধ্য দিয়ে শুধু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাই পদ পেয়েছেন জেলা পর্যায়ে। ২০২০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সারাদেশে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন করবে সরকার ও আওয়ামী লীগ। এ জন্য জাতীয় পর্যায়ে কমিটিও হয়েছে। পাশাপাশি দলের নেতাদেরও এ বিষয়ে সক্রিয় হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্কুলে স্কুলে গিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন তিনি।

বৈঠকের আগে সূচনাবক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণত রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গেলে অনেক সময় সরকার ধীরে ধীরে মানুষের কাছ থেকে হারিয়ে যায় বা জনপ্রিয়তা হ্রাস পায়। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে আমরা জনগণের আস্থা বিশ্বাস অর্জন করেছি, জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যদি নির্বাচনের দিকে তাকান দেখবেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছে। যেটা অতীতে কখনো দেখা যায়নি। বিএনপির ভরাডুবির কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যেহেতু মিলিটারি ডিক্টেটর ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতায় গিয়ে এসব দল গঠন করেছে, খুব স্বাভাবিকভাবে এরা হচ্ছে পরজীবীর মতো। নির্বাচনকে তারা মনে করেছে ব্যবসা। মনোনয়ন বেচে কিছু পয়সা তারা কামাই করে নিয়েছে, কিন্তু নির্বাচনের প্রতি তাদের খুব একটা নজর ছিল না।

বিএনপি-জামায়াত শাসনামলের আমলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ এগুলোই ছিল তাদের কাজ। আজকে দেশের মানুষ অন্তত শান্তি পাচ্ছে। গতকাল ছুটির দিন হওয়ায় রাজধানীর রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা ছিল। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে দলীয় কার্যালয়ে আসেন সাড়ে ৪টার দিকে। তাকে অভিবাদন জানাতে মৎস্য ভবন ও পল্টন মোড় থেকে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। তারা রাস্তার দুপাশে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আশপাশে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি এমএ মান্নানকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়।