advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

হাসপাতালে শ্যামলের শিকলবন্দি জীবন

হাবিব রহমান
২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৯ ১১:৫৮

পুলিশর চেকপোস্টে সাহাদাত হোসেন শ্যামলের (২০) পায়ে গুলি করার ঘটনা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ। গত বুধবার দৈনিক আমাদের সময়ে ‘তরুণের পায়ে গুলি করে পুলিশের দুঃখ প্রকাশ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরই তৎপর হয় জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটির তদন্ত ছাড়াও পুরো বিষয়টিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত শ্যামল অন্যের সাহায্য ছাড়া এক পা-ও নড়তে পারছেন না। অচল হওয়ার পথে তার সেই গুলিবিদ্ধ পা। অথচ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে হাতকড়া পরিয়ে শেকলে বেঁধে! এ ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তারা বলছেন, এটা জেলকোড ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান আমাদের সময়কে বলেন, . ‘এটি মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। কারণ কেউ যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন, তখন তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা খারাপ থাকে। এ ধরনের আচরণ সে অবস্থাকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যায়। এটা তার ওপর চরম মানসিক আঘাত। অবিলম্বে তার শেকল ও হাতকড়া খুলে দিতে হবে এবং এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার করতে হবে। সে আসামি হলেও এটা করার সুযোগ নেই। এর আগেও এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছিল, যেটা আমরা আদালতের নজরে এনেছিলাম। তা ছাড়া এ ঘটনায় পুলিশ যখন বেকায়দায় পড়েছে, তখন উল্টো তাদের (ভিকটিম) নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। এখানে তো সাক্ষী-প্রমাণ পাওয়া যাবে। সঠিক তদন্ত হলে সব বেরিয়ে আসবে।’

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) স্থানান্তর করার দাবি জানিয়েছে শ্যামলের পরিবার। বড় ভাই জোমশে আলী আমাদের সময়কে বলেন, ‘যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত মামলা তারাই তদন্ত করছেন। তাদের ওপর আমাদের আস্থা নেই। পিবিআইকে দিয়ে মামলা তদন্ত করানো হোক।’

তদন্তে সঠিক বিষয়টি যাতে বেরিয়ে আসে, সে জন্য আইজিপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তিনি। গেল ১৪ মার্চ রাত ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কের কামারকান্দা এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে গুলিবিদ্ধ হন শ্যামল। ওই তরুণ ও তার বন্ধুদের অভিযোগ, পুলিশ কিছু বুঝে ওঠার আগেই শ্যামলের পায়ে গুলি করে। এ সময় পুলিশের পক্ষ থেকে ‘অনিচ্ছাকৃত’ ভুলের জন্য ‘সরি’ও বলা হয়।

তাৎক্ষণকিভাবে চিকিৎসা ব্যয় গ্রহণের প্রতিশ্রতি দিয়েও তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। তবে পরদিন শ্যামলসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে উল্টো মামলা করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করে আসছেন, প্রথমবার চেকপোস্টে থামার সংকেত দিলেও এই যুবকরার মানেননি। ১০ মিনিট পর দ্বিতীয় দফায় একই সড়কে ফেরার পথে সংকেত দেওয়ার পর থেমেই পুলিশের ওপর চড়াও হয়।

মারামারির সময় শর্টগান ছিনিয়ে নিতে গেলে ‘ধস্তাধস্তিতে’ একটি গুলি বেরিয়ে শ্যামলের পায়ে বিদ্ধ হয়। তবে পুলিশের ওপর হামলার এমন ঘটনার পর নিয়ম থাকলেও আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। এমনকি ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও ঘটনা তদন্তে কার্যত কোনো অগ্রগতি নেই। বর্তমানে চিকিৎসাধীন শ্যামল ছাড়া তার অন্য বন্ধুরা জামিনে রয়েছেন।