advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কিশোরী ধর্ষণের শিকার

আমাদের সময় ডেস্ক
২০ এপ্রিল ২০১৯ ০০:০০ | আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০১৯ ০৯:২৪

পাকিস্তান থেকে মায়ের সঙ্গে টাঙ্গাইলে চাচার বাড়িতে বেড়াতে আসা এক কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারই চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। ধর্ষকের মাকে (৪৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কিশোরী। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

টাঙ্গাইল : ভিসা নিয়ে মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে বেড়াতে এসে প্রথমে অপহরণ ও পরে ধর্ষণের শিকার হয় ওই কিশোরী। সে পাকিস্তানের নিউ করাচির পুপার হাইওয়েজ রোডের নাগরিক এবং সেখানকার ছাত্রী। এ ব্যাপারে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন বলেন, উপজেলার উত্তর গোপালপুরের এক ব্যক্তি প্রায় ২০ বছর আগে পাকিস্তানের নিউ করাচিতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। গত বছরের নভেম্বর মাসে ছয় মাসের ভিসায় মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীর পৈতৃক বাড়িতে বেড়াতে আসেন ওই নারী। তিনি ওঠেন ভাশুরের বাড়িতে। সেখানে ওঠার পর থেকেই আরেক ভাশুরের ছেলে বখাটে আল আমিন ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। পারিবারিকভাবে বিষয়টি ফয়সালার চেষ্টাও করা হয়।

এদিকে ভিসার মেয়াদ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় মেয়েকে নিয়ে পাকিস্তান ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তার মা। খবর শুনে বখাটে আল আমীন ক্ষুব্ধ হয়। গত ১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে একদল সন্ত্রাসীর সহযোগিতায় চাচার বাড়ি থেকে মেয়েটিকে কৌশলে অপহরণ করে। পরে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

ওসি বলেন, গত বুধবার রাতে আল আমিনসহ তিনজনকে আসামি করে গোপালপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন কিশোরীর মা। পরে থানাপুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার মহিষাকান্দি মোড়ের এক বাসা থেকে বন্দি অবস্থায় ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ধর্ষকের মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আল আমিনসহ জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ওসি আরও বলেন, মেয়ের জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আদালত থেকে দোভাষী চাওয়া হয়েছে। তার পর ২২ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হবে। এদিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নারায়ণচন্দ্র সাহা বলেন, ওই মেয়েটিকে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তির পর মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেতে আরও সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন, উৎসুক জনতার ভিড় এড়াতে পুলিশ মেয়েটিকে হাসপাতাল থেকে নিয়ে তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে রেখেছে।

আড়াইহাজার : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ১৪ বছরের এক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে প্রতারক প্রেমিক জুয়েল (২২) ও তার সহযোগী জালালকে (২৪) আসামি করে থানায় মামলা করেন। মামলার বরাত দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা কালাপাহাড়িয়া তদন্তকেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) বিজয় কৃষ্ণ মজুমদার জানান, উপজেলার মেঘনাবেষ্টিত কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের ১৪ বছরের এক কিশোরীর সঙ্গে একই গ্রামের জুয়েল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত মঙ্গলবার ফুফুর বাড়িতে রেখে ওই কিশোরীর বাবা-মা বেড়াতে যান।

খবর পেয়ে ওইদিন রাতে জুয়েল কিশোরীকে ঘর থেকে বেরিয়ে দেখা করার জন্য মোবাইল ফোনে অনুরোধ করে। কিশোরী ঘর থেকে বেরোলে প্রেমিক জুয়েলের বন্ধু জালাল মিয়া তাকে বাড়ির পেছনের ঝোপে নিয়ে যায়। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে জালালের সহযোগিতায় জুয়েল কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে চলে যায়। দীর্ঘ সময় কিশোরী ঘরে না আসায় স্বজনরা বাড়ির আশপাশে খোঁজ করতে থাকে। পরে বাড়ির পাশে ঝোপের মধ্যে কিশোরীকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে। জ্ঞান ফিরলে কিশোরী সব ঘটনা স্বজনদের খুলে বলে।

আড়াইহাজার থানার ওসি আক্তার হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনাটি লোকমুখে প্রথমে জানার পর কালাপাহাড়িয়া তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নিয়ে বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা গ্রহণ করে। ধর্ষক জুয়েল ও তার সহযোগী জালালকে গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।